ক্যাটেগরিঃ ইতিহাস-ঐতিহ্য

 

সম্রাট জুলিয়াস সিজার কে তো সকলেই চিনেন । রোমান সাম্রাজ্যের একজন সেনাপতি এবং একনায়ক ছিল, ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালীর একজন বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। তিনি সে সময় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন যে শাসন প্রক্রিয়ার সাম্রাজ্যে এবং প্রজাতন্ত্রীক থেকে পরিবর্তন করেছিল। তিনি রোমের একনায়ক ছিল ৪৯ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের শেষে পর্যন্ত, ৪৭ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকে ৪৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে প্রায় দশ বছরের দায়িত্বে এবং ৪৪ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ অনন্ত একনায়কত্ব হিসেবে।

আজ কিন্তু জুলিয়াস সিজার এর জগদ্বিখ্যাত হওয়ার গল্প বলবো না । আজ বলবো তার রাজবংশের শেষ সম্রাট নি্রো কে নিয়ে । তিনি কিন্তু তার পূর্ববর্তী সম্রাট ক্লডিয়াস এর পুত্র ছিলেন না। ছিলেন পোষ্যপুত্র । ফলে সম্রাট ক্লডিয়াস এর মৃত্যুর পর নিরো (৩৭- ৬৮ খৃঃ) সম্রাট হিসেবে সিংহ আসনে আহরন করেন ।

একটা আত্মহত্যার ইতিহাস বলবো । আমাদের নেতা রাও যেভাবে খেলা করেন ঠিক তেমনি তখনও নিরো করেছিলেন জনগনের ভাগ্য নিয়ে খেলা । কিন্তু নিরো তার কৃতকর্মের জন্য অবশেষে আত্মহত্যা করেছিলেন ।

তবে চলেন ফিরে যাই ২০০০ বছর আগে । রোমে। আমি তড়িত্ প্রকৌশলির ছাত্র হওয়ার জন্য হয়তো সেভাবে মজা দিয়ে ইতিহাস বলতে পারব না তবে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে আমার বাধা নেই । আসুন ইতিহাস কেমনে আবার পুনরাবৃত্তি হয় তাই দেখার পালা । অপেক্ষায় রইলাম বন্ধু ।

সম্রাট নিরো ছিলেন কিন্তু অনেক বিদ্যায় পারদর্শী । কারন তিনি ছিলেন বিখ্যাত দার্শনিক সেনেকা ‘র ছাত্র । জ্ঞ্যানপাপী ছিলেন তিনি । এই জ্ঞ্যান গরিমা তার জীবনে কোন ভাল কাজে লাগেনি । আমাদের রাজনীতিবিদদের জ্ঞ্যান গরিমাও কি খুব কাজে লেগেছে দেশের । নিরো তার শিক্ষা , জ্ঞ্যান মানবতার অপকারে ঠিকই কাজে লাগিয়েছিল । আমাদের রাজাদের জ্ঞ্যান যা আছে তাও সন্দেহ । আর সেনেকার মত গুরু রা তো এখন বিতারিত । নিরো ছিলেন প্রচন্ড অহংকারী, নিষ্ঠুর , উচ্চাকাংখী , হৃদয়হীন আর জনগনের প্রতি উদাসীন । অহংকার, নিষ্ঠুরতা , উচ্চাকাংখা নিরোর জ্ঞ্যান বিদ্যা বুদ্ধিকে পরাজিত করেছিল । আমাদের দেশের সম্রাট রা ওতো জ্ঞ্যান বিদ্যা বুদ্ধি না থাকলেও অহংকার, নিষ্ঠুরতা , জনগনের মতের প্রতি উদাসী্নতায় অপ্রতিদন্দী । নিরো কোন স্যারের স্যার ।

নিরো তার মা , স্ত্রী ও গুরু সেনেকা সহ অনেক মানুষকে হত্যা করেছিলেন । আমাদের রাজা রা কিন্তু নিজেদের মানুষকে কিন্তু মারে না । শুধু প্রজারা মরে ভূত হয়ে যায় । প্রতিদিন মরে । সড়ক নিরাপত্তা হীনতায় মরে । র‍্যাবের হাতে ক্রস ফায়ারে খরচ হয়ে যায় । পুলিশ চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নিজের সক্ষমতা যাচাই করে । বাংলা ভাইরা বড় ভাইয়ের মত ছায়া দেয়! নিঃস্ব হয়ে আত্ম হত্যার পথে যেতে হয় । আমরা ম্যাংগো জনতা মাথা ঝুকিয়ে কুর্নিশ করি রাজা দের আর অপেক্ষায় থাকি রোম নগরীতে আগুন লাগার অপেক্ষায় ।

৬৪ খৃঃ রোম নগরী পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায় । অনেকে মনে করেন নিরো নিজেই সেই আগুন লাগিয়েছিলেন । কথিত আছে জ্বলন্ত রোমের লেলিহান শিখা দেখতে দেখতে নিরো কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন ও বাশিঁ বাজিয়েছিলেন ।

এখনও তাই । দুইজন আমাদের দুই ভাগ করে আগুন জ্বালান । লেলিহান শিখা জ্বলে । কিন্তু কথা আছে । এখন কেও কবিতা আবৃত্তি কিংবা বাশিঁ বাজান কিনা তা জানা যায়নি ।

আরও কথা আছে , শেষ পর্যন্ত নিরোর পতন হয়েছিল বৈকি। নিরোর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অমাত্যবর্গ , সেনাপতি সবাই মিলে বিদ্রোহ ঘোষনা করে । জনগনের নিপীড়ক নিরো আত্মহত্যা করেন ।