ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

দিল্লীতে যখন দামিনী ধর্ষণের প্রতিবাদে ইন্ডিয়ায় প্রতিবাদ সর্বব্যাপী তখন বাংলাদেশের পার্বত্য রাঙামাটি জেলার কাউখালীতে ২১ ডিসেম্বর, ২০১২ এক মারমা মেয়ের উপর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু সেই ধর্ষণের প্রতিবাদ সর্বব্যাপী হয়নি।

দিল্লীতে যখন এক ডেন্টাল কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়, যখন তার প্রতিবাদে পুরো ভারত বিক্ষোভে ফেটে পড়ে, যখন এ নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হয় বাংলাদেশের মেইনস্ট্রীম মিডিয়ায়। তখন এই বাংলাদেশেরই দক্ষিণপূর্বদিকে ২১ ডিসেম্বর, ২০১২ রাঙামাটির কাউখালীতে একটি ধর্ষণ ও খূনের ঘটনা ঘটে।

এ ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পাহাড়ের তিন গণাতিন্ত্রক সংগঠন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে,

উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকাল ৪টার সময় বাড়ির পাশ্ববর্তী জমি থেকে থুমাচিং মারমা গরু আনতে গেলে সেখানে দুর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর জঙ্গলের ভেতর উলঙ্গ অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

যেখানে থুমাচিং মারমা লাশ পাওয়া যায় সেখান থেকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে নাল্যাছড়ি উত্তর মাথা নামে একটি সেটলার গ্রাম। ১৯৮০’র দশকের শুরুর দিকে সরকার সেখান থেকে পাহাড়িদেরকে উৎখাত করে সেটলারদেরকে বসিয়ে দেয়। সেটলাররা বর্তমানে থুমাচিংদের গ্রাম বড়ডলুর অনেকখানি নিজেদের বলে দাবি করে এবং কয়েকদিন আগে ক্ষেতে আদা লাগাতে গেলে সেটলাররা মারমারদে বাধা দেয়। থুমাচিং মারমার মামার সাথেও সেটলারদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনার রেশ ধরে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর দশটা পাঁচট ধর্ষণ-খুনের মতো এই ঘটনা কাউকে সেদিন নাড়া দেয়নি। লেখালেখি ও প্রতিবাদও তেমন একটা হয়নি। তবে কিছুদিন ফেসবুক-টুইটারে প্রচার প্রচারণার কারনে তা নিয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করেছেন, তবে তার মেয়াদ তেমন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিন্তু কাউখালী এলাকায় যে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানকার জনগণের কাছে এখনো এই ঘটনা নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। কারণ এই ঘটনা বহু চুপসে যাওয়া ঘটনার একটি মাত্র প্রকাশিত রূপ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো এলাকা মানেই সেখানে জাতিগত সংঘাত-বিদ্বেষের কোনো না কোনো উপাদান থাকবেই। এই সাদামাটা ধর্ষণ ও খুনের পেছনেও তার কোনো ব্যতিক্রম নেই। মূলতঃ জাতিগত বিষয়কে উপজীব্য করে সেখানকার পাহাড়ি জনগণের ভূমি দখলকে কেন্দ্র করেই সে অঞ্চলে নানা ধরণের সংঘাত-হামলা-প্রতিরোধ সংঘটিত হয়।

এখনো থুমাচিঙ মারমার ধর্ষনকারী ও খুনীরা ধরা পড়েনি। প্রশাসন তাদের ধরার জন্য উদ্যোগও খুব দায়সারাভাবে নিচ্ছে।

কাউখালীবাসী পাহাড়ি জনগণ ঘোষণা দিয়েছে তারা এই ধর্ষণের সুষ্ঠু বিচার চায়।
তারা এই ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে নিম্নের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে-
২৩ জানুয়ারি, ২০১৩- থুমাচিঙ মারমার ধর্ষন ও খুনের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সমাবেশ ও ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি পেশ
২৪ জানুয়ারি, ২০১৩- কাউখালী উপজেলায় ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস বর্জন।
সচেতন সকলের সহায়তায় পার্বত্য সমস্যা দেশেরই একটি সমস্যা হয়ে উঠুক- দেশেরই একটি সমস্যা হিসেবে তা সমাধানের জন্য সকলের ভূমিকা জোরদার হোক এই প্রত্যাশা।

থুমাচিঙ মারমা ধর্ষণ ও হত্যা বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন-

থুমাচিঙ ধর্ষণ ও খূন