ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

বাংলাদেশের জনগেণর সংগ্রামের বিশেষত্ব হচ্ছে তারা দাবি আদায় করে লড়াই করে, গণঅভ্যুত্থান সংঘটন করে। এই রাজধানীতেই রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিব ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ উচ্চারণ করেছিলেন। এই রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ জনতা মিলতে পেরেছিল বলেই তাদের মধ্যে চেতনা এসেছিল। যা পরবর্তীতে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করেছিল।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় দেশের প্রাণকেন্দ্র রাজধানী ঢাকা আজ ঢেকে গেছে। এখন দেশের জনগণ মিলিত হয়ে দাবি জানানোর কোনো খোলা ময়দান খুজে পায় না। তারা এক হয়ে চেতনাকে ধারাতে পারে না। ফলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাঝে অসাড় চেতনাই প্রাধান্য পেয়েছে। শাহবাগের জনসম্মিলন দেশের সার্বিক চেতনায় কী দৃষ্টিভঙ্গির বদল করবে তার বিশ্লেষণ আমি এখানে করবো না। তবে আমি এটাই জোর দিয়ে বিশ্বাস করি, আমাদের তাহরির স্কোয়ারের মতো আরো বড়ো জায়গা দরকার।

আমার মনে হয় এই শাহবাগ এবং তার আশেপাশের এলাকাকে জনজমায়েতের এক চত্বর বা ময়দান বানানোর দাবিটিও সামনে আনা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যানকে উন্মুক্ত করে এই ময়দান গড়ে তোলা যেতে পারে।

তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তো বর্তমানে এক গাছ বাগান হয়ে আছে। এই উদ্যান তো হতে পারতো একটি উন্মুক্ত চত্বর!
একটি চত্বর বা ময়দানের দাবি নিছক ছোটোখাটো বা ঠুনকো দাবি মনে হতেই পারে। কিন্তু এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, দেশের জনগণ কোথা্ও গিয়ে যদি একত্রিত হবার সুযোগই না পায় তবে কিভাবে তারা সম্মিলিত হবে, কিভাবে যূথবদ্ধ হবে?

তাই, হাজার জনতার সম্মিলনের এক চত্বর আদায়ের দাবিটিও সামনে আসবে এই প্রত্যাশা।
এমন এক ময়দান গড়ে উঠুক যে চত্বরে লাখো জনতার শিক্ষা নেবে দাবি আদায় করতে হয় শ্লোগান তুলে, কারো কাছে মাথানত করে নয়। জনতার শিক্ষালয় হবে সেই চত্বর। জনতার ক্ষোভ আশা আকাঙ্খার প্রতিভূ হবে সেই চত্বর।

এটা বলা প্রয়োজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কাছাকাছি বিস্তৃত এলাকা ছাড়া এই জায়গা অন্য জায়গায় হলে তার গুরুত্ব তেমন থাকবেই না।
এই উন্মুক্ত চত্বরের দাবি ঠুনকো নয়। ঠুনকো হতে পারে না।