ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
পুলিশ সদস্যরা একযোগে হামলা করছে

পুলিশ সদস্যরা একযোগে হামলা করছে

বাংলা নববর্ষের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানীর ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দেশের সচেতন মহল হতে শুরু করে প্রগতিশীল বামপন্থী সংগঠনসমূহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরসহ পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিছিল সমাবেশসহ আন্দোলন শুরু করে। অভিযোগ হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যৌন নিগ্রহকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।

তারই প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নামক প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন অন্য সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রগতিশীল ধারার সংগঠনকে বাদ দিয়ে এককভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেয়। ১০মে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ঘেরাও কর্মসূচির এক পর্যায়ে মিছিল বা সভার উপর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা চড়াও হয়। সংবাদ মাধ্যম তথা প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার বরাতে দ্রুত এই খবর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে পুলিশ প্রশাসন এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের মতো সাময়িক শাস্তি বিধান করেছে(সূত্র: বাংলা.বিডিনিউজ২৪.কম)। এতে বলা হয়েছে,

উপকমিশনার জাহাঙ্গীর সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের নায়েক মো. আনিসকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে। ডিএমপি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে- ‘… ঘেরাওয়ের কর্মসূচীতে বাধা প্রদান সংক্রান্তে পুলিশ কর্তৃক গৃহিত পদক্ষেপকে নিয়ে বিরূপ সংবাদ পরিবেশিত’ হওয়ায় ‘সংশ্লিষ্ট ঘটনায় পুলিশী কার্যক্রম পর্যালোচনায়’ উক্ত তিন সদস্যের তদন্তটীম গঠন করা হয়েছে (তথ্যসূত্র:ডিএমপিওয়েবসাইট)।  

তবে পুলিশী তদন্ত টীম কীসের ভিত্তিতে তদন্তকার্য সমাধা করবেন এবং কী রিপোর্ট প্রদানে বাধ্য থাকতে হবে তা বিবৃতি পড়ে অনুধাবন করা ধর্তব্যের বাইরে নয় বলেই বোঝা যায়।

যাহো্ক এ সকল বিষয়ে বা পুলিশী নির্যাতন বিষয়ে আমি কথা বলবো না। কিন্তু, ছাত্র ইউনিয়নের মিছিলের উপর হামলার পরে সাধারণ একজন পুলিশ সদস্যকে ‘বরখাস্ত’ করা আমি মেনে নিতে পারছি না। এবং তা একঅর্থে সাধারণ পুলিশ সদস্যের উপর বৈষম্যমূলক শাস্তি হিসেবে ধরে নেয়া যায়।

প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়, যে এলাকায় হাইকোর্টের উল্টোপাশে পুলিশী হামলা হয়েছে অর্থাৎ, পুলিশ ও ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হয়েছে, সেই এলাকায় সবসময় পুলিশের বহু সদস্য এবং অফিসার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু বাকি দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু একজন ‘চাকুরি করে পেটের ভাত’ জোগাড় করনেওয়ালা পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করার মাধ্যমে কী বার্তা পুলিশ প্রশাসন দিতে চাইছে? তারা কি এটা বলতে চাইছে যে, পুলিশ প্রশাসনে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে? যদি তা-ই না হয় তবে দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার ও অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে কেন তাৎক্ষণিক ‘সাময়িক বরখাস্তের’ মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে না। কেন শুধুমাত্র এক পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হবে? যে অফিসার নির্দেশ দিয়েছে বা যার নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাময়িক ব্যবস্থা কেন নেয়া হবে না?

এখানেও কি, উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে দেবার চেষ্টা হচ্ছে না? যার ‘প্রশাসনের জোর’ও নেই, যার মিডিয়াও নেই তাকে কেন বলি দেয়া হবে?