ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

এক। ১০ ফেব্রৃয়ারি বিকালে আমাকে একজন ফোন করে জানালের হাটহাজারিতে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে সকল বামপন্থী সংগঠনসমূহ বসে প্রতিবাদ জানাবে বলে তিনি জানালেন। সন্ধ্যায় সে সভায় গেলাম। তাঁরা ঠিক করলেন আগামীকাল অর্থাৎ ১১ তারিখ ঘটনাস্থলে সরেজমিন দেখতে যাবেন। আমরাও যুক্ত হবো চিন্তাভাবনা করলাম। এরপর। সেখান থেকে বের হয়ে কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ হলো। ঠিক হলো আগামীকাল আমরা কয়েকজন মিলে হাটহাজারি এলাকায় যাবো।

পরদিন সকালে হাটহাজারি যাবার আগে একটু নেটে ঢৃঁ মারলাম। তাড়া থাকাতে ভালোভাবে খবরগুলো দেখতে পারিনি। এক ব্লগার লিখেছেন যে, আজ(মানে ১১ফেব্রয়ারি) খুব খারাপ খবর একটা রয়েছে। একজন সাংবাদিক নির্মমভাবে খুন হযেছেন। ভালোভাবে না পড়ে আমি গন্তব্যের দিকে রওনা দিলাম।

সেখান থেকে রাতে এসে টিভির পর্দায় চোখ গেলো। তারপরই জানতে পারলাম, সাগর সরওয়ার এবং তার স্ত্রী মেহেরুন রুনী খুন হয়েছেন। শুধু খুন হয়েছেন বললে ভুল, নির্মমভাবে খুন হয়েছেন।
মনটা খারাপ হয়ে গেলো। তার সাথে বোধহয় আমার সরাসরি সাক্ষাত হয়নি। তাকেঁ আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম বললেও ভুল। তবে তাঁর নামটি পরিচিত। তিনি ইত্তেফাক এং যুগান্তর পত্রিকায় কাজ করার সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে কিছু রিপোর্ট করেছেন সে সূত্রে তাঁর নামটি পরিচিত। সম্ভবত বছরএক আগে তিনি একবার আমাকে ফোন করেন। জানান যে, তিনি কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে এসেছেন এবং বর্তমানে মাছরাঙা টিভিতে জয়েন করছেন। তিনি আমাকে প্রসীত দার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেবার জন্য অনুরোধ করেন। বল্লেন যে, তিনি প্রসীতদার একটি সাক্ষাতকার নিতে চান( প্রসীত বিকাশ খীসা হচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রগতিশীল ধারার রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফ বা ই্‌উনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এর সভাপতি)।

আমি সাগর সরওয়ারকে বলি যে আমি এখন একটু ব্যস্ত, আপনাকে এ বিষয়ে আমি পরে জানাবো।
এরপর বোধকরি তিনি তাঁর কাজে ব্যস্ত হযে পড়েন।
তাঁর মোবাইল নাম্বারটা- ০১৭১০৮৫০৮৮০। এই মোবাইল নাম্বারে আমরা আর কেউই তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে পারবো না।
তাঁর মৃত্যুর খবরটা পাবার পরদিন কিছু লিখবো চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু মনটা ভারাক্রান্ত থাকায লিখতে পারিনি।

আজ এই লেখাটা তাঁকে স্মরণ করে লেখা। তিনি আমার কেউ নন এবং আক্ষরিক অর্থে পরিচিতও নন। তারপরও তাঁর সাথে আমার আত্মিক একটা আন্তরিকতা এখন আমি অনুভব করছি। না হলে তাঁর মৃত্যু আমাকে নাড়া দিয়েছে কেন? প্রতিদিনই তো কতো স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর আমরা পাই। কেউ পরিচিত কেউ অপরিচিত। তাদের মৃত্যুও যাদের কাছে তারা পরিচিত তাদের নাড়া দিয়ে যায়। এই তাঁর মৃত্যু শুধু তাঁর জন্যই তাকেঁ উদ্দেশ্য করে নাড়া না দিক আর সবার মৃত্যু আমাদের নাড়া দিক।

পত্রিকার পাতায় এতো মৃত্যু এতো অমানবিকতা এতো নিষ্ঠুরতা চোখে পড়ে! মাঝে মাঝে মনেহয় এতোসব তথ্য কি আমদের ভোঁতা করে দিচ্ছে না তো?
আমরা আরো আন্তরিক-মানবিক বোধসম্পন্ন হয়ে উঠি এই আশা থাকুক সবার মনে।