ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

পৃথিবী পাল্টিয়েছে অনেক। সে অনুযায়ী পাল্টিয়েছে সমাজ, দর্শন, তত্ত্ব, চিন্তা। ধর্মও কি পাল্টিয়েছে? সব ধর্ম পাল্টায়নি। কিছু দেশের সুবিধাভোগী মানুষ, তাদের সুবিধাপ্রাপ্তির যেন কোনও প্রকার হেরফের না হয়, সে জন্য ধর্মকে আটকে রেখেছে পুরোনো চিন্তা, পুরোনো দর্শনের বেড়াজালে। সৌদি আরব তেমনি একটি দেশ। যে দেশে রাজতন্ত্রের নামে ধর্মকে কাজে লাগিয়ে সুবিধাভোগ করে যাচ্ছে কিছু মানুষ বছরের পর বছর।

শিরশ্ছেদের ঘটনাটি নতুন কিছু নয়। সৌদি আরবে সবার চোখের সামনেই এটি ঘটছে। কারণ তারা মনে করছে সবার সামনে এভাবে শাস্তি দিলে কেউ আর এরকম কিছু করার সাহস করবে না। কিন্তু আসলেই কি তাই? গত বছর সৌদি আরবে ৫৮ জনকে শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। এভাবে প্রতি বছরই তারা ১০০ জন, ১৫০জন, ২০০ জন এরকম করে গড়ে শিরশ্ছেদ করে। এবং তা সবার সামনেই করে। এজন্য কি অপরাধ কমেছে? প্রকৃতপক্ষে মানুষ যে কারণে অপরাধ করে তার স্থায়ী সমাধান না করলে এরচেয়ে ভয়াবহ শাস্তিও যদি দেওয়া হয়, তারপরও সে অপরাধ করবে। কেননা সে অপরাধ করে বাধ্য হয়ে। সমাজ ব্যবস্থার পঁচা অলিগলি পথ তাকে তা করতে বাধ্য করে। ধর্ম ব্যবস্থাকে সেই পথটির সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় নি। সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাও মানুষ যে কারণে অপরাধ করে তার স্থায়ী সমাধানে না এগিয়ে অপরাধীকে কেবল শাস্তি প্রদানের ভিতর দিয়ে এর সমাধান খুঁজেছে।

ব্লগ বিডি নিউজ ২৪.কম আজ শিরশ্ছেদের এরকম একটি প্রতীকী ছবিকে ব্যানার করেছে। দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোর মধ্যে সমকাল,যায় যায় দিন ছাড়া কেউ শিরশ্ছেদের বীভতস ছবি প্রকাশ করেনি। এই ধরণের ছবি প্রকাশের ভিতর দিয়ে দুইটি ঘটনা ঘটে । এক- সৌদি আরব যেভাবে সবার সামনে শিরশ্ছেদ শাস্তি প্রদান করে এক ধরণের মধ্যযুগীয় সুখ লাভ করে এই ভেবে যে যারা এটা দেখেছে তারা আর কখনো এই কাজ করবে না, আমরাও সেই একই কাজ করছি। দুই- এরকম বীভতসতাকে সমাজে সহনীয় করে তোলার একটা কাজ করে, অর্থাত সমাজকেও এরকম বীভতস শাস্তি প্রদানে উতসাহিত করে। এতে আমরা যতটা না শিউড়ে উঠেছি, তারচেয়ে অনেক বেশি এরকম শাস্তি প্রদানের পক্ষেই থেকেছি। যেমন ধরুন সমকালের একটি অনলাইন জরিপ দেখা যাক– প্রশ্নটি ছিল

শিরশ্ছেদের মত শাস্তি থেকে বিরত রাখতে সৌদি আরবকে কি আন্তর্জাতিক মানের আইন প্রণয়নে চাপ দেওয়া উচিত?
জরিপের তারিখ : ২০১১-১০-১০
ফলাফল
মোট ভোট – ১৮৪
হ্যাঁ – ৮৬
হ্যাঁ – ৪৬.৭৪ %
না – ৯৫
না – ৫১.৬৩ %
মতামত নেই – ৩
মতামত নেই – ১.৬৩ %
.
৫১.৬৩% বলেছে না। মানে তারা আন্তর্জাতিক মানের আইন সৌদি আরবে চায় না। মানে এই বীভৎস শিরশ্ছেদের আইনটিই তাদের পছন্দ। অন্যান্য পত্রিকার জরিপেও সম্ভবত একই ফলাফল। এই অবস্থায় এই জাতীয় ছবির প্রকাশ কতটুকু যৌক্তিক?