ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

ইলেক্ট্রোরাল ভোটিং মেশিন বা সংক্ষেপে ইভিএমকে সংজ্ঞায়িত করা যায় এই ভাবে, যে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটের তথ্য তথ্যায়িত ও গণনা করা হয় তাকেই ইভিমএম বা ইলেক্টোরাল ভোটিং মেশিন বলে। ইংল্যান্ডে ১৮৩৮ সালে প্রথম চাকুরিজীবীদের ভোট প্রদানের জন্য ভোটিং মেশিন প্রস্তাব করা হয়। ১৫০ বছর পার হয়ে গেলেও এটি প্রথম ব্যবহারকারী কোনও যন্ত্রের মতই রয়ে গেছে। ডজনখানিক দেশে এটি তেমন আস্থা অর্জন করতে পারে নাই। এমনকি অগ্রসর দেশগুলো যেমন জার্মানি ও নেদারল্যান্ড তাদের দেশে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট গণনাকে নিষিদ্ধ করেছে। তবে ভোটে যন্ত্র ব্যবহারে সবচাইতে সফল হয়েছে ভারত।

এই যন্ত্রটি নিয়ে তাই দুই ধরণের মতই বেশ জোড়াল। কার্ণেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক গবেষণায় দেখা যায়, তারা ২০০৪ সালে এই নিয়ে একটি যাচাই প্রতিবেদন তৈরি করে। তাতে তারা বলছে হ্যাকিং এর মত ঘটনা ঘটতে পারে এই যন্ত্র ব্যবহারে। মানে রাজনৈতিক দলগুলো হ্যাকিং করে ভোট গণনা উলট -পালট করে দিতে পারে।

আবার ক্যালিফোর্ণিয়ার রেজিস্টার অফ ভোটার নামের একটি জরিপ দল দেখেছে, ক্যালিফোর্ণিয়ায় ২০০৪ সালে করা এক জরিপে দেখা যায় সে দেশের ৭০ ভাগ জনগণ ইভিএম ব্যবহারে আস্থা রাখে। এই জরিপ প্রতিবেদনে এও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৬.৭ ভাগ জনগণ ইভিএম ব্যবহারকে সুবিধাজনক মনে করে।

তবে ইভিএমে একটি মাত্র ভাষা ব্যবহারে সংখ্যালঘু জনগণ সেই ভাষা বুঝতে পারে না বলে তাদের প্রান্তিক মনে করে।

ভোটিং মেশন বানানোর একটি কোম্পানি সেক্যুয়া ভোটিং সিস্টেম এর মন্তব্য হচ্ছে – সহজ ভোট প্রদানের জন্য এই যন্ত্রটি অধিকাংশের কাছে জনপ্রিয়।

রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বার্নি এর মতে – প্রথাগত ভোটিং পদ্ধতির চেয়ে এটি অনেক উত্তম। তিনি তার গবেষণায় প্রথাগত পদ্ধতির চাইতে ইভিএম এর কার্যকারিতা ভাল এরকম কিছু পাননি।

উতাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ই হলের একটি গবেষণা মতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮ ভাগ ভোটার মনে করে এটি ফ্রড। ৪৩ ভাগ ভোটার মনে করে এই যন্ত্রটি অন্য কিছুর চাইতে ভাল।

তবে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, প্রতিটি আবিস্কারের ব্যবহারই প্রথম প্রথম বিতর্ক তৈরি করে। সমস্যাগুলোর দিকে তীব্র নজরদারি দিলে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠা অচিরেই সম্ভব। আর এটাও ঠিক যে জনগণই আসলে বলতে পারে ই ভোটিং ভাল না মন্দ।