ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

সোমবার জাতিসংঘ ৭০০ কোটিতম শিশুকে সনাক্ত করেছে। ২০৮৩ সালে হবে ১০ বিলিয়ন মানুষ। কিন্তু এই পৃথিবীর ৭০০ কোটিতম শিশুটির ভবিষ্যত নিয়ে কি তার মা-বাবা শঙ্কিত নন। বিশ্বের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ, উষ্ণায়ন, খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, ৭০০ কোটিতম শিশুটি কি ৩০০ বা ৪০০ কোটিতম শিশুর চাইতে ভালভাবে জীবন-যাপন করতে পারবে। এত মানুষ নিয়ে কিভাবে টিকে থাকবে পৃথিবী। ১৯৬০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৩ বিলিয়ন। শিশু মৃত্যু ও গর্ভপাত মিলিয়ে ১৯৬০ সালে শিশু বৃদ্ধির হার ছিল ২%। এই ২% বৃদ্ধিতে ৩৫ বছর পর পৃথিবীর জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়। ১৯৯৯ সালে হয় ৬ বিলিয়ন। ৩৯ বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয় নি। প্রকৃতপক্ষে এটা কখনও দ্বিগুণও হবে না। উর্বরতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। অনেক উন্নয়নশীল দেশে এখন উর্বরতা হার ২.১%। ১৯৬০ সালে থেকেই পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে আসছে। এখন আমরা পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখতে পারি। পৃথিবী এত সন্তান নিয়ে কিভাবে টিকে থাকবে। গত ৫০ বছরে খাদ্য উতপাদন দ্রুত বেড়েছে। ২০০৯ সালে প্রতি মানুষের জন্য খাদ্য উতপাদন ৪১% বেশি পেয়েছে ১৯৬১ সালের তুলনায়। এখন অতিমাত্রিক জনসংখ্যার কারণে অধিক উতপাদনে বাধ্য হচ্ছে। ১৯৬০ সালে সবুজ বিপ্লবের পর খাদ্য উতপাদনও বেড়েছে। কিন্তু খাদ্য উতপাদন বৃদ্ধি পেলেও খাদ্য বন্টন নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে। যার ফলে অপুষ্টি রয়ে গেছে। কিন্তু সুখের বিষয় ১৯৬০ সালে জন্ম গ্রহণ করা শিশুর তুলনায় বর্তমানে জন্মগ্রহণ করা যে কোনও শিশু স্বাস্থ্যবান হয়। ১৯৬০ সালের তুলনায় ৭০০ কোটিতম শিশুটি বেশি শিক্ষা পাবে। গত ৫০ বছরে উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষার হারও বেড়েছে। চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো ফেলনা নয়। তবে এই অতি জনসংখ্যা নিয়েই আমাদের কঠোর পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এগোতে হবে। কেননা গত ৫০ বছরের চিত্র আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে যে ৭০০ কোটিতম শিশুটির বেড়ে উঠা নিয়ে আমাদের শঙ্কিত না হলেই চলবে।