ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

এটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেনা পাওনা গল্পের একটি লাইন। এই গল্পে নিরুপমা পণপ্রথার বলি হয়েছিল। তার পিতা রামসুন্দর ভিটেমাটি বিক্রি করেও চেয়েছিল পণের টাকা শোধ করতে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শ্বশুরালয়ে অনাদরে-অবহেলায় নিরুপমার সম্ভাবনাময় জীবন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। সেই রবীন্দ্রনাথের দেনা পাওনা, পণ আর নববধূর জীবনের কষ্ট, তিলে তিলে ক্ষয়ে যাওয়ার কাহিনী যেন আজও আমাদের দেশের ঘরে ঘরে ডুকরে উঠে। সম্প্রতি ফারজানা ইয়াসমিন নামের এক মেয়ের বিয়ের সময় যৌতুকের টাকা দাবি করায় তখনই তালাক দিয়ে দেওয়া সতীকার অর্থে সেই রবীন্দ্রনাথেরই আন্য এক নিরুপমার আগমন যেন।

ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে সমাজকল্যাণে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর পাস করা ফারজানার বিয়ে হয়েছিল শওকত আলী খান ওরফে হীরন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের।

বিয়ের আসরে সবার সামনে ফারজানা বলেন, বিয়ের আসরে যে ছেলে যৌতুক চায়, তাকে জীবনসঙ্গী হিসাবে মেনে নিতে আমার রুচিতে বাঁধে।”

অতিথিরদের ফারজানা বলেন, আমি আপনাদের সবার সামনে বলছি- আমি শওকতকে তালাক দিলাম।

সত্যি এই ফারজানা যেন দেবী হয়েই এলেন এ দেশে কোটি কোটি নারীর হৃদয়ে। ফারজানা যা বললেন ও যা করলেন আমি বিশ্বাস করি এটা আমাদের ঘরের আনাচে- কানাচে প্রায় অসংখ্য নারীই তা করতে চায় । কিন্তু পারে না।

প্রতিটি ঘরে যদি এমন ফারজানারা থাকেন তাহলে আর রবীন্দ্রনাথের সেই গল্পের মত আর কাউকে শুনতে হবে না – এবার বিশ হাজার টাকা পণ আর হাতে হাতে আদায়।