ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

বিশ্ব কবিতার ইতিহাসে অনেক রকমের সীমাবদ্ধতা যেমন ছিল তেমনি নানা ফর্মের শিল্প কাঠামোও গড়ে উঠেছিল। কয়েক শতাব্দী ধরে আমরা বলা যায় এক প্রকার বাধ্য হয়েছি সনেট, মুক্ত ছন্দ, মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত বা আইম্বিক পেন্টামিটার, ওডিস, পেস্টোরাল ফর্ম এ কবিতা লিখতে। এমনকি সাম্প্রতিক উপন্যাসের দিকে তাকালেও দেখা যায় কত পৃষ্ঠা বাধ্যতামূলকভাবে লিখতেই হয় যেমন সালমা রুশদী অথবা থমাস পিঞ্চন।

সোস্যাল মিডিয়া যেমন টুইটার বা ফেসবুকের কল্যাণে চারপাশে তাকালে আমরা দেখতে পাচ্ছি আমরা যেন মুক্ত ছন্দের দুনিয়ায় প্রবেশ করছি। এই সোস্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে এমন কিছু বিষয় যেমন আমাদের কখন চিতকার করতে হবে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ঠিক কোন বিষয়টা ছবিতে তুলে আনা হবে, এসব। কাজেই এই মুক্ত ছন্দের বিশ্বে আমাদের যাতায়াত থাকবে না কেন বা এও স্পষ্ট লাখ লাখ লেখক এখন এই ফর্মেই চলে এসেছেন ।

যেমন টুইটারে দেখা যাচ্ছে কোনও কোনও লেখক এক ধরণের ফিকসন লিখছেন যাকে তারা মাইক্রোফিকশন নাম দিয়েছেন । ঠিক তেমনি টুইটারের বদৌলতে হাইকোর ব্যাপক একটা প্রসারমানতা দেখা যাচ্ছে ফেসবুক, টুইটার সহ মাউক্রোব্লগিং সাইটগুলোতে।

এমনকি যারা নিজেদের ইমেজিস্ট কবি বলতে ইচ্ছুক, যারা দীর্ঘ বা মাঝারি মাপের কবিতা লিখতে অভ্যস্ত, তারাই এখন ছোট কবিতার দিকে ঝুকে যাচ্ছেন।

প্রথম প্রথম অনেকেই এই ছোট লেখা বা ছোট কবিতা বা মাইক্রোফিকসনের প্রতি বিরক্ত হতে থাকেন, কিন্তু ধীরে ধীরে এই দশ কি এগার শব্দই ভীষণ প্রিয় হয়ে উঠে লেখকের। তবে কিছু প্রশ্ন একেবারেই সামনে চলে আসে, তাহলে কি এই সোস্যাল মিডিয়া একটা ফর্মকে ধাক্কা দিচ্ছে ? কেন একজন কবি সোস্যাল মিডিয়ায় গিয়ে ছোট কবিতা লিখতে বাধ্য হবেন?

বা এভাবেও কি দেখা যায় না এটা সৃষ্টিশীলতাকে সচল রাখতে বা ইন্টারেকটিভ বা লেখক-পাঠকের যোগাযোগ বাড়াতে সবচেয়ে ভাল মাধ্যম হয়ে উঠছে ? গতানুতিক ধারা থেকে বেরিয়ে পথ খুজছে একেবারেই পাঠকের মনের মত হবার জন্যে?