ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

সাধারণত প্রতি সংস্কৃতি বলতে এমন কিছুই বোঝায় যা আসলে একটি সাংস্কৃতিক কাঠামো বা একটি উপ সংস্কৃতির কাঠামোকে যা মূলত প্রধান সংস্কৃতি হিসেবে পরিচিত তার সাথে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থা।

এরকই একটি আন্দোলন বীট জেনারেশনের। এই আন্দোলনটি গড়ে তুলেন প্রথম দিকে আমেরিকার কয়েকজন কবি তার পর এটি নিউইয়র্কসহ কয়েক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনটি ১৯৫০ – ৬০ সালের দিকে শক্তিশালী রুপ নেয়। এই বিট জেনারেশন দ্বিধাহীনভাবে কথা বলে, আবেগ মথিত কণ্ঠ থাকে তার, মুক্ত যৌনতা আর ড্রাগের সাথে তার পরীক্ষামূলক আচরণকেই গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে। তারা সাধারণত লিটলম্যাগাজিনগুলোতে লিখতেন। তবে পোস্ট মডার্ন যুগে এই বিট জেনারেশনের সাহিত্যকে অস্বীকার করার জো নেই। এটা এমন একটা সমাজ যেখানে সবাইকে আইন, আদেশ আর জাগতিকতাকে মেনে চলতে হবে। ৫০ সালের দিকে বিট আন্দোলন আরও বেড়ে উঠতে থাকে। নিউইয়র্কের গ্রীর উইচ ভিলেজ আর সান ফ্রান্সিকোর নর্থ বীচ এই আন্দোলনের পুণ্যভূমি হেসেবে খ্যাত। বিট সরাসরি সমাজের যে কোনও বিষয়কে ও প্রতিষ্ঠিত আইনকে চ্যালেঞ্জ জানায়। তারা আমেরিকার রূপ নিয়েও প্রশ্ন তুলে।

এই জেনারেশনের একজন উল্লেখযোগ্য হলেন বব কাউফম্যান। তিনি তার ব্যকইত্ব দিয়ে এই বিট আন্দোলনের আত্মাকে সামনে টেনে আনেন। তিনি একমাত্র যিনি পঞ্চাশের সেই সময়টায় বিট স্বরকে প্রোজ্বলিত করে তুলেন এবং তার যুগে কৃষ্ণাঙ্গ কবিদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। অনেক বিট জেনারেশনের অনুসারীদের মত তিনিও নিউইয়র্ক থেকে শুরু করেন এবং পরে তার ঠিকানা মেলে সান ফ্রান্সিসকোতে। এখানেই এলেন গীন্সবার্গ কবিতা পড়তেন, কাউফম্যান পেয়ে যান আরকেটি পথ। তিনি রাস্তার কবি বিষয়ে একটা কিছু ভাবতে থাকেন। কাউফম্যানের কবিতাগুলো এমন যেখানে তার পরাবাস্তব একটা চেহারায় পাওয়া গেলেও তাতে থাকে উচ্চণ্ড একটা স্বভাব আর রাজনৈতিক সংলাপ। কাউফম্যান নিজেকে বুদ্ধবাদী বলে দাবি করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন কবিতায় এমন কিছু আছে যা উচ্চমার্গীয় একটা কিছু করার আদেশ করে। তিনি আধ্যাতিকতার চর্চা শুরু করেন। এবং বস্তুবাদকে অস্বীকার করেন।

এমনও হত মানুষ ব্যাগল শপ নামক একটি জায়গায় জড় হতেন তার মুখে কবিতা শোনার জন্য, তিনি একটি টেবিলে লাফ দিয়ে উঠে পড়তেন একটি নতুন কবিতা বের করতেন অথবা এলিয়ট, পাউণ্ড বা ব্লেকের মত কারও কবিতা পড়তেন। তিনি যখন কবিতা পড়তেন চারপাশ নিশ্চুপ হয়ে যেত। তার প্রতিটি শব্দেই যেন শ্রোতারা একটা বিশেষ কিছু পেতেন। একসময় তিনি পুলিশের নজরে পড়লেন। ৬০ এর দিকে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়লেন। তখনই তাকে নিউইয়র্কে একটি হাসপাতালে ভর্তি করান হয়।

বিটরাই একমাত্র আন্দোলনকারী যারা তাদের জীবনকেই একটি আখ্যান করে ফেলতেন, এবং তারা তাদের জীবনকে পৃথিবীর সমগ্র পাঠকের কাছে তুলে ধরতেন। কিন্তু এটা আমেরিকার এমন একটি সময় ছিল যখন তারা তাদের বাজারকে আদর্শ হিসেবে প্রচার করছে। মিডিয়া কোনও ধরণের সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে প্রশ্রয় দিতে চায় নি। এক পর্যায়ে এই বিট জেনারেশনটিই সংস্কৃতির প্রধার অঞ্চলকে দখল না করে একটি উপ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পায় যা শেষ মেষ একটি বোহেমিয়ান গোষ্ঠীর নাম লাভ করে।

১৯৫৮ সালের দিকে বিট জেনারেশনের লেখকেরা সান ফ্রান্সিসকো থেকে মেক্সিকো, ভেনিস ও ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে আসতে থাকে। বিটনিক থেকে তাদেরকে বলা হতে থাকে ব্রান্ট অফ জোক্স( brunt of jokes). গণমাধ্যম কেবল তাদের দুইটি বিষয়কেই সামনে টেনে আনে- ১. তাদের জীবন আর ২. তাদের প্রতিবিম্বিত শিল্প।