ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রক্টরের ‘উস্কানীমূলক’ বক্তব্যের পর প্রক্টরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডু।

তিনি প্রক্টরের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণ জানতে চেয়ে জাতির কাছে প্রশ্নও রেখেছেন।

তাঁর সম্পর্কে এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তপন কুমার সাহার ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের অডিও ক্লিপ ফাঁস হওয়ার চারদিন পর গত বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে এ সম্পর্কিত একটি স্ট্যাটাস দেন অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার।

স্ট্যাটাসে প্রক্টর ও ছাত্রলীগ নেতার ফাঁস হওয়া মোবাইল কথোপকথনের একটি ইউটিউব লিংকও শেয়ার করেন তিনি।

 

Sukalyan Kumar Kundu - Copy

 

ফেসবুক স্ট্যাটাসে অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডু লিখেন, “জাবির প্রক্টরের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ তথা কুমতলবী বক্তব্যের পরও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা কী প্রমাণ করছে — এটা জাতির কাছে আমার একটা প্রশ্ন থাকল।”

 

তার এ স্টাটাস নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে কয়েকটি গণমাধ্যম

 

প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ না দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস কেন- এ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডু বলেন, “আমি মনে করি এখানে লিখিত অভিযোগ দেওয়া বা না দেওয়াটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। আমার সঙ্গে তো প্রক্টরের সরাসরি কোনো কথা হয়নি। তাছাড়া আমরা বিভাগ থেকে তো উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যকে মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছিলাম। তখন উপাচার্য জানিয়েছিলেন যে, গতকাল বুধবারের মধ্যে কিছু একটা জানাবেন তিনি। তবে সে রকম কিছুই তো দেখলাম না।”

 

সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডু আরো বলেন, “এটা আমার ব্যক্তিগত কোনো বিষয় না। এটা একটা পাবলিক ইস্যু। প্রশাসনের উচিত ছিল স্বপ্রণোদিত হয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এটা হয়নি দেখেই আজকে সকালে ফেসবুকে পোস্ট দেই।”

 

JU-Proctor

ছবি: জাবি প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা

 

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একজন সম্পাদকের মধ্যে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ পায়। এতে এ ঘটনার দায়িত্ব না নিয়ে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতিকে ‘আটকিয়ে’ রাখতে শিক্ষার্থীদের ইন্ধনের অভিযোগ উঠে প্রক্টরের বিরুদ্ধে।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় নানা সমীকরণকে সামনে রেখে এমন একটি স্পর্শকাতর ইস্যুতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি তেমন কোনো শক্ত অবস্থান নিচ্ছে না বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকেই। তবে তবে বুধবার এ ইস্যুতে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে প্রক্টরের কথোপকথন যাচাই-বাছাই করে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি

 

আলাদাভাবে বিবৃতি দিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন-জাবি সংসদ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট-জাবি শাখাও প্রক্টরের এমন বক্তব্যের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে জানিয়েছে।

সূত্র: কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে নেওয়া।