ক্যাটেগরিঃ নির্বাচিত লেখাসমূহ, ব্লগালোচনা

 

ঋতু পরিবর্তনের ধারায় ষড়ঋতুর তৃতীয় ধাপের শুরুতে দাঁড়িয়ে প্রিয় ব্লগের সকল নাগরিক সাংবাদিক বন্ধুদের জানাই শরতের উড়ো সাদা মেঘ, পাল তোলা নৌকা, দখিনা হাওয়া আর কাশফুলের শুভেচ্ছা। দেশের অবস্থা বর্তমানে খুব একটা যে ভালো নেই জানি তা সবারই গোচরে রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় পিড়ীতদের আর্তনাদ আমাদেরও করেছে বেদনাহত। আমরা প্রত্যেকেই চেষ্টা করবো সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়াবার জন্য। এর মাঝেও আমাদের প্রিয় ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ঐতিহ্য এবং সবার ভালোবাসার ও আবেগের একটি বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে লেখাটি উপস্থাপন করছি। ভুল-ত্রুটি মার্জনীয়।

প্রিয় নাগরিক সাংবাদিকবৃন্দ, এই ব্লগে বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে আপনারা নিয়ত বিভিন্ন লেখা ও মতামত দিয়ে থাকেন। বলা যায়, নাগরিক সমস্যা নিয়ে নাগরিকদের মতামত প্রকাশের সবচেয়ে বড় ও পথপ্রর্শক মাধ্যম হচ্ছে এই ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

নিয়মিত নাগরিকদের মতামত প্রকাশের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নাগরিক সাংবাদিকদের এইসব মূল্যবান কথাগুলো মলাটবদ্ধ করে তা জনপ্রতিনিধি ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকটও পৌঁছে দেয়ার কাজটি করেছে প্রিয় ব্লগ।

এর মধ্যে ২০১৬ সালে নাগরিক সাংবাদিকদের ভ্রমণ বিষয়ক লেখা নিয়ে নগর নাব্য’র একটি সংকলন বের করা হয়। যেটি পাঠক মহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলো। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নগরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ব্লগে নাগরিক সাংবাদিকদের লেখা নিয়ে করা নগর নাব্য সংকলন ‘মেয়র সমীপেষু’ বের করা হয়, যা এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন মহলে নন্দিত হয়ে আসছে।

এই সংকলনটি প্রকাশের পর থেকে নাগরিকদের সংকলিত কথাগুলো জনপ্রতিনিধি ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের দিনেই উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোশনের মেয়র জনাব সাঈদ খোকন। তিনি ঐদিন নগর নাব্য’র মোড়ক উন্মোচন করেন, উপস্থিত নাগরিক সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। অনেক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন

এরপর এ বছরের মার্চে নাগরিক সাংবাদিকরা নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে দেখা করে তার হাতে তুলে দেন নগর নাব্য।

এপ্রিলে সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে তার হাতে নগর নাব্য মেয়র সমীপেষু তুলে দেন নাগরিক সাংবাদিকরা।

জুনের শেষে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র মির্জা ফয়সল আমীনের সাথে এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর’র সাথে দেখা করে তাদের হাতে নাগর নাব্য- মেয়র সমীপেষু তুলে দেন নাগরিক সাংবাদিকরা।

এছাড়া সরকারের মন্ত্রী ও প্রশাসনিক পর্যায়েও পৌঁছে যায় নগর নাব্য মেয়র সমীপেষু। ফেব্রুয়ারি মাসেই নাগরিক সাংবাদিক সুমন দে’র উদ্যোগে সিলেটে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর হাতে দেয়া হয় নাগরিকদের কন্ঠস্বর নগর নাব্য’র সংকলনটি।

পরের মাস মার্চে প্রিয় সুমন দে দাদার উদ্যোগেই বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের কাছে পৌঁছে দেয়া হয় নগর নাব্য।

মার্চে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এডিসি আবদুল হাই এর কাছে নগর নাব্য পৌঁছে যায় নাগরিক সাংবাদিক রিফাত কান্তি সেনের উদ্যোগে।

নগর নাব্য- মেয়র সমীপেষু’র এই সাফল্যের প্রবাহের পরে নাগরিক সাংবাদিকদের সামনে একটি নতুন থিম, ‘চলচ্চিত্র’, নিয়ে নগর নাব্য প্রকাশের প্রস্তাব তুলে ধরতে চাই। আশা করি পূর্বের মতো করে এই সংকলনের বার্তাও পৌঁছে দেয়া হবে নাগরিক সাংবাদিক ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে। তাহলে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

চলচ্চিত্র কেবল একটি বিশাল স্ক্রিন নয়, একে কেন্দ্র করে রয়েছে বাণিজ্য, জীবিকা, পেশা, মেধা, সংস্কৃতি, বিনোদন, প্রযুক্তি, দক্ষতা, গবেষণা, খবর। চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে দর্শকদের রয়েছে গাঢ় মেলবন্ধন। চলচ্চিত্র নির্মিত হয় দর্শকদের জন্যই। চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তা মাপা হয় দর্শক চাহিদার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল ইতিহাস যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মুখ থুবড়ে পড়ার গল্প। রয়েছে সম্ভাবনার কথাও। সবকিছুর সাথেই দর্শক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই দর্শকরা আসলে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা, বয়স, শিক্ষা ও শহর-নগরের নাগরিক।

নাগরিকদের চোখে বাংলাদেশের সিনেমার হালচাল চর্চিত হবে নগর নাব্য ২০১৮ পর্বে। এই নাগরিকরা ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নাগরিক সাংবাদিক। তারা তুলে ধরবেন রুপালি পর্দার, পর্দার পেছনের ও পর্দার বাইরের সিনেমা শিল্পের নানা রঙ, তাদের লেখায়, তাদের ধারণকৃত ছবিতে।

প্রস্তাবিত থিম: সিনেমা

প্রস্তাবিত প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০১৮

 

প্রস্তাবিত থিমকে কেন্দ্র করে যে সকল বিষয়ে আলোকপাত হতে পারে –

১. বাংলা সিনেমার বিবর্তন, একাল-সেকাল
২. সিনেমা হল– সংকট, বন্ধ হয়ে যাওয়া, জেলা-উপজেলায়/পৌরসভায় সিনেমা হল না থাকা, সিনেমা হলের মান ও পরিবেশ, সিনেপ্লেক্স,  স্ক্রিন ও সাউন্ড সিসটেম, সিনেমা হলের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা, হল বাণিজ্য
৪. সিনেমা শিল্প কেন্দ্রিক জীবিকা, সিনেমা হল পার্শ্ববর্তী জীবিকার হালচাল – ব্ল্যাকার, মুড়ি-চানাচুরওয়ালা, বাদামওয়ালা, চাওয়ালা
৫. যৌথ প্রযোজনার সিনেমা
৬. বাংলা সিনেমার গল্প – সাহিত্য, মৌলিকতা, সৃজনশীলতা, বিনোদন, বৈচিত্রতা
৭. বাংলাদেশি সিনেমায় প্রযুক্তি, ক্যামেরা
৮. বাংলা সিনেমার আন্তর্জাতিক বাজার
৯. বাংলাদেশি অভিনয়শিল্পীদের আন্তর্জাতিক ‘সুপার স্টার’ ব্যক্তিত্ব
১০. বাংলা সিনেমার বাজেট, সিনেমার আয়-ব্যয়, বক্সঅফিস আলোচনা
১১. চলচ্চিত্র সমালোচক – আন্তর্জাতিক সমালোচক ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সমালোচক
১২. সংবাদপত্রে, টেলিভিশনে এবং সাংবাদিকতায় চলচ্চিত্র
১৩. বাংলা সিনেমায় নকল
১৪. বাংলা সিনেমার পোস্টার – বিবর্তন, জীবিকা, আধুনিকায়ন, মান
১৫. বাংলা সিনেমার প্রচারণা কৌশল
১৬. বাংলাদেশি সিনেমায় ভারতীয় শিল্পী অথবা ভারতীয় সিনেমায় বাংলাদেশি অভিনয় শিল্পী
১৭. বাংলাদেশি সিনেমায় নায়ক-নায়িকা – সংকট, অভিনয় দক্ষতা, নাচ-গান পারদর্শীতা, বাচনভঙ্গি, মেকআপ, নতুন মুখ, নায়ক-নায়িকাদের চলচ্চিত্র ত্যাগ-বিরতী-প্রত্যাবর্তন, গ্রুমিং
১৮. নারী প্রধান বাংলাদেশি সিনেমা – উদাহরণ, সম্ভাবনা, সংকট, গল্প
১৯. উৎসবকেন্দ্রীক সিনেমা বাণিজ্য – উদাহরণ, সম্ভাবনা
২০. চলচ্চিত্র পুরস্কার – আয়োজন, মান, আন্তর্জাতিক তুলনা
২১. পাইরেসি

নিয়মাবলী:

১। লেখক ও নাগরিক সাংবাদিকরা স্বাভাবিক নিয়মে ব্লগে তাদের লেখা প্রকাশের জন্য জমা দেবেন এবং  লেখা ব্লগে প্রকাশযোগ্য হলে ব্লগ টিম তা প্রকাশ করবেন।
২। চলচ্চিত্র বিষয়ে ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক লেখা নগর নাব্য ২০১৮ এর জন্য প্রাথমিক মনোনয়ন হিসেবে নেয়া হবে। লেখক নিজের  অথবা সহলেখকদের প্রকাশিত লেখার লিংক মনোনয়ন হিসেবে এই প্রস্তাবনা পোস্টে মন্তব্য করে জমা দিতে পারেন।
৩। লেখায় মৌলিকতা কাম্য। লেখা বিস্তারিত, বিশ্লেষণধর্মী, ব্যক্তি অভিজ্ঞতার আলোকে, তথ্য সমৃদ্ধ, সাক্ষ্যাৎকার সমৃদ্ধ, বস্তুনিষ্ঠ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৪। ব্যবহৃত তথ্যের সঠিক সূত্র উল্লেখ আবশ্যক। সূত্র হিসেবে উইকিপিডিয়া উল্লেখ গ্রহণযোগ্য হবে না।
৫। কোনো রেফারেন্স থেকে হুবহু কপিপেস্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
৬। সূত্র/পরিচিতি উল্লেখ করে ব্যক্তি উক্তি উদ্ধৃত করা যাবে।
৭। সাল, তারিখ, স্থান, ব্যক্তি, পরিচয় এবং চলচ্চিত্রের নাম সঠিকভাবে লেখা আবশ্যিক।
৮। লেখায় বানান সচেতনতা জরুরি।
৯। লেখায় লেখকের ধারণকৃত ছবি যুক্ত করাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
১০। সিনেমার রিভিউ নিরুৎসাহিত হবে। উৎসাহিত হবে ছবি-তথ্য সহকারে মৌলিক গবেষণামূলক ও নাগরিক সাংবাদিকতামূলক লেখা।
১১। ব্লগে লেখা প্রকাশের পর ভিন্ন সাইটে ও সামাজিক মাধ্যমে একই লেখা প্রকাশ ‘না’ করার আহবান জানানো যাচ্ছে। তবে প্রকাশিত পোস্ট লিংক সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা যাবে। লেখক অনুমতি ব্যতীত এবং ব্লগের রেফারেন্স ছাড়া কোনো সাইটে লেখা প্রকাশ করলে তৎক্ষণাত উক্ত সাইটে বিষয়টি অবহিত করুন। একই সাথে ব্লগ টিমকেও অবহিত করুন। এ বিষয়ে আমাদের লেখক ও নাগরিক সাংবাদিকদের সচেতনতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতাই কাম্য।
১২। লেখা জমা দেয়ার সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
১৩। প্রকাশিত লেখার লিংক থেকে নগর নাব্য ২০১৮ এর জন্য কলেবর অনুযায়ী ১৫-২৫টি লেখা নির্বাচিত করা হবে।
১৪। চূড়ান্ত সম্পাদনা শেষে পাণ্ডুলিপি প্রকাশকের কাছে দেয়া হবে।

নগর নাব্যকে বরাবর সফল করেছে ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের লেখক ও নাগরিক সাংবাদিকরা। প্রতিবার নগর নাব্য আরো পরিণত ও গোছানো হয়ে উঠছে। আগামি পর্বটিও আরো সমৃদ্ধ হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে একটি নতুন দিশা দিতে পারে নাগরিক সাংবাদিকদের ’নগর নাব্য ২০১৮’। চলচ্চিত্র নিয়ে গবেষণায় একটি অনন্য সংগ্রহ হয়ে উঠতে পারে ’নগর নাব্য ২০১৮’।

তাই, শুরু হোক আজ থেকে চলচ্চিত্রের অলিগলিতে হানা। লিখুন সিনেমার কথা।