ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

সবুজে ঘেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। খানাখন্দে ভরা এসব রাস্তায় দুর্ভোগের নতুন অনুসঙ্গ যোগ করেছে  মৌসুমী ঝড়-বৃষ্টি। পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো থাকছেই।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কাদা আ জলময় প্রবেশপথ দেখেই ধারনা করা যায় অভ্যন্তরীণ সড়কের অবস্থা কী হতে পারে। পানি নিষ্কাষণের সুবিধা না থাকায়  সড়কে বৃষ্টির পানি জমে থাকে দীর্ঘদিন। ফলে ফটকের এ পাশটা একরকম বন্ধই থাকে বর্ষার সময়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের ঠিক সামনের রাস্তায় দেখা যায় বড় কয়েকটি গর্ত। ক্যাম্পাসের নিয়মিত চলাচলের এই রাস্তাটি দিয়েই শিক্ষার্থীরা খাবারের দোকানগুলোতে যায়। পাঁচটি ছাত্র হলে  এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করা হয়।  গর্ত ও কর্দমাক্ত রাস্তা যাতায়াতকারীদের নিয়মিত অসুবিধায় ফেলছে।

কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের পার্শ্ববর্তী মুরাদ চত্বরের উল্টা দিকের রাস্তায় চোখে পড়বে ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা আবর্জনা। বৃষ্টি এলেই গাড়ির চাকার সঙ্গে লেগে আবর্জনা উঠে আসে মূল রাস্তায়। নিয়মিত পরিস্কারের অভাবেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।

ছাত্রীহলের রাস্তাগুলোতেও রয়েছে বড় বড় গর্ত। বেগম ‍সুফিয়া কামাল হলের সামনের রাস্তায় থাকা একটি বড় গর্তের কারণে গত দুই বছরে অনেকগুলো ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। অথচ হলের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা এই পথে নিয়মিত যাতায়াত করলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি তাদের পক্ষ থেকে।
ছাত্রহলগুলোর মধ্যে  আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের সামনের রাস্তাতেও রয়েছে  বড় কয়েকটি গর্ত। বৃষ্টি এলেই এখানে পানি জমে যায়। পাঁচটি হলের কমবেশি ছয় হাজার শিক্ষার্থীদের এই ভাঙা রাস্তা ধরেই কাদা-জল পার হয়ে হলে ফিরতে হয়।
‘কবীর সরণি’ নামে পরিচিত নতুন প্রশাসনিক ভবন থেকে আ ফ ম কামালউদ্দিন হল পর্যন্ত এই সড়কটি আরো প্রশস্ত করা জরুরি। সংকীর্ণ হওয়ার কারণে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত এই সড়কে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাট দুর্ঘটনা। অভিযোগে কাজ না হওয়ায় এ নিয়ে হওয়া বসচা অনেক সময় চলে যায় মারামারির পর্যায়ে।
জাবির বিভিন্ন রাস্তায় তৈরি গতিরোধকগুলোর একদম কাছে না গেলে বোঝার উপায় নেই যে সামনে একটা গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দশটি গতিরোধকের কোনটাতেই চিহ্নিতকরণ রঙ নেই। ফলে একটু দ্রুত চালিয়ে আসা যে কোনো বাহনের চালককেই গতিরোধকের সামনে এসে গতি সামলাতে বেগ পেতে হয়, এতে ঘটে ছোটখাট দুর্ঘটনাও। বিশেষত যারা বাইরে থেকে ঘুরতে আসেন তারা দুর্ঘটনার শিকার হন বেশি।
এসব সংকীর্ণ, খানাখন্দ আর বৃষ্টির পানিতে ভরা রাস্তার দ্রুত সংস্কার চান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।