ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

কানের সাথে আলিঙ্গনরত সেলুলার ফোন হাতে নিতেই দেখি মা আমার সামনে দাড়িয়ে আছেন। আমি তখন স্তব্ধ, নিশ্চুপ, নির্বাক তথা ডামাডোল। মা’র স্মিতানন (smiling) চেহারাটা কেমন জানি বিদখুটে মনে হচ্ছে। কি যেন ভাবছেন তিনি, মায়ের দিকে তাকাতেই ভাবতে লাগলাম হয়তো তাঁর মাথার উপর বিনা মেঘের গর্জন হচ্ছে…

বাম দিকে ফিসফিস শব্দ শুনে তাকালাম, দেখি ১৭ বছর বয়সি বোনটার চোখ বেয়ে জল পড়ছে। আর দুষ্ট পিচ্চি বোনটা একবার ১৭ বছর বয়সী বোনটার দিকে, একবার মা’র দিকে আর এক বার আমার দিকে তাকাচ্ছে। শিকারী যেভাবে বন্দুক হাতে নিয়ে লক্ষ স্থির করার চেষ্টা করে তার তাকানো ভাবটা তেমনি, রহস্যের উপর গুলি করতে চায় সে।

ডানদিকে হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস অনুভূত হল, বুঝতে পারলাম দরজা খোলা। কাউকে কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে পড়লাম।

হন্ন হয়ে হাটছি, হাতে সময় কম, তাড়াতাড়ি লক্ষে পৌছতে হবে। খোলা আকাশ, ঠান্ডা পড়েছেও খুব। একটু উষ্ণতার অভাব বোধ করলাম। হয়তো সিগারেট মুখে দিতাম, মায়ের দিব্বি থাকায় জন্মের পর কখনও এ কাজে সফল হইনি।

মায়ের কল রিসিভ করি স্যারের ফার্মেসীর ভেতরে দাড়িয়ে। মা আমায় জিজ্ঞেস করলেন “খোকা তুই কোথায়”। আমার অজান্তে মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়লো “মা, আমি অলির ফার্মেসীতে”। এখানে তুইইইই….. এর পর আর কিছু শুনতে পাইনি, নেটওয়ার্ক জটিলতার কারনে মায়ের ফোন কেটে যায়।

“ধ্যাৎ” বলতে গিয়ে চোখ পড়লো স্যারের দিকে। এক হাত নিচে রেখে আর এক হাতে ব্যান্ডেজের কাপড় নিয়ে বাবার পা ব্যান্ডেজ করছেন অলি স্যার, যদিও স্যারের বড়বড় চোখগুলো ছিলো আমার পানে…..

বাবাকে রিক্সা করে বাড়িতে নিয়ে আসলাম। সারা রাত বাবার ঘুম হয়নি সাথে আমিও ঘুমাই নি। মোটর সাইকেল আরোহী নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বাবার শরীর ঘেষে সাইকেল সহ খাদে পড়ায় বাবার অবস্থা এ্ই হয়েছে।

পরের দিন এক বন্ধু মারফত জানলাম, আমি নাকি বেয়াদব, আমি অকাল কুষ্মান্ড, ম্যাথ নিয়ে নির্থ্বক অনার্স করছি। আমার কাছ থেকে অলি স্যার নাকি জ্ঞানহীনতার পরিচয় পেয়েছেন।

বাবার শরীর থেকে রক্ত পড়ছে, নিজ চোখে সেটা দেখছি আর মাকে বলতেছি “মা আমি অলির ফার্মেসীতে” আবেগপ্রবন থাকায় স্যার শব্দটা কখন যে উহ্য হয় সেটা আমি বুঝতে পারিনি।