ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

বর্তমানে আমাদের দেশে শতকরা ৭৭ শতাংশ লোক গ্রামে বাস করছে। আর বাকী ২৩ শতাংশ লোক শহরে বসবাস করে। এই ২৩ শতাংশ লোকের আবাসন ব্যাবস্থা ও অন্যান্য নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে শহর,নগর কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। এমনকি ঢাকা মহানগরী সহ কিছু নগরী ও মহানগরী বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরী এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। নগরবিদদের ভাষ্য মতে শুরু থেকে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ঢাকা মহা নগরীর আজকের এই দুরাবস্থা। শুরু থেকে পরিকল্পিত ভাবে আবাসিক এলাকা, বানিজ্যিক এলাকা, রাস্তাঘাট, ইত্যাদি সঠিক ভাবে গড়ে না উঠার কারনে বর্তমানে রাজধানী সহ বেশ কিছু শহর এমনকি অধিকাংশ জেলা শহরও বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ধকল সহজে কেটে উঠাও সম্ভব নয়। কারন যে বিচ্ছিন্ন ভাবে যে অবকাঠামো গড়ে উঠেছে তা ভেঙ্গে পরিকল্পিত ভাবে পুনরায় গড়ে তুলতে অনেক সময় এবং অর্থের প্রয়োজন। যাই হউক এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। আমাদের দেশের প্রতিটি লোক কোন না কোন ভাবে গ্রামের সাথে জড়িত, বলা চলে নাড়ির টান। এই নাড়ির টানে বৎসরের কোন না কোন সময় প্রত্যেকে গ্রামে আসেন।

বর্তমান গ্রামের অবকাঠামোর দিকে নজর করলে দেখা যাবে আজ থেকে ৫/৭ বছর আগের গ্রামের চেহারা যেমন ছিল এখন তা আর নেই। বড় বাড়ী, ছায়া ঘেরা পাখি ডাকা সুবিশাল বাগান, প্রশস্ত বাড়ীর রাস্তা, বড় পুকুর, বিশাল খোলা মাঠ এই গুলি হল গ্রামের ঐতিহ্য। আর আজকে গ্রামের চিত্র কি দেখছি! প্রতিটি গ্রামে ব্যাঙের ছাতার মত এখানে যেখানে সেখানে,অত্র যত্রতত্র অসংখ্য নতুন বাড়ী তৈরী হয়েছে। আগে গ্রামের মাঠ গুলোর এ প্রান্ত থেকে তাকালে ওপ্রান্ত পর্যন্ত দেখা যেত না। এর এখন মাঠ গুলো নতুন নতুন বাড়ীতে পরিপূর্ণ। এবং এমন অনেক গুলো বাড়ী গড়ে উঠেছে যে গুলোর বাড়ী থেকে বের হওয়ার রাস্তা পর্যন্ত নেই। খোলা মাঠের মাঝখানে গিয়ে বাড়ী তৈরী করছে। শুকনা মৌসুমে রাস্তা ছাড়া যাতায়াত করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে বাড়ীর যাতায়াতে অসহনীয় কষ্ট স্বীকার করতে হয়। এ ভাবে অপরিকল্পিত বাড়ী তৈরীর ফলে গ্রামের বিশালাকার মাঠগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। সংকুচিত হয়ে আসছে কৃষি জমি। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষি জমি আর থাকবেনা। সকল কৃষি জমি বাড়িতে বাড়িতে ভরে যাবে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং তখনই দেখা দেবে চরম খাদ্য ঘাটতি। পাশাপাশি অপরিকল্পিত ভাবে বাড়িঘর তৈরী করার ফলে গ্রামের সকল নাগরিককে রাষ্ট্রের পক্ষথেকে সম ভাবে নাগরিক সুযোগ সুবিধা গুলো প্রদান করতে পারবেনা। তাই গ্রামের বাড়িঘর গুলো পরিকল্পিত ভাবে তৈরী করার এখনই উপযুক্ত সময়। তা না হলে ইতিপূর্বের অপরিকল্পিত ভাবে নগরায়নের ফলে রাজধানী সহ নগরী ও মহানগরী গুলো যে বেহাল দূদর্শার কবলে পতিত হয়েছে, অপরিকল্পিত ভাবে গ্রাম গুলোতে এভাবে বাড়িঘর তৈরীর ফলে অদূর ভবিষ্যতে গ্রামীন জীবন ব্যবস্থায় এরচেয়ে খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে। সময় থাকতে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে আশু সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

কেমন হবে পরিকল্পিত গ্রামায়নঃ
পরিকল্পিত গ্রামায়নের জন্য একটি যথোপযুক্ত নীতিমালা থাকবে। প্রতিটি গ্রামের একটি নির্দিষ্ট স্থান বাড়িঘর তৈরীর জন্য নির্ধারিত থাকবে। শুধুমাত্র ঐ নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই বাড়িঘর তৈরী করতে হবে। কেউ চাইলেই নিজের ইচ্ছেমত অত্র যত্র বাড়িঘর নির্মান করতে পারবেনা। ইউনিয়ন পরিষদ এই নীতিমালা তদারকি ও বাস্তবায়ন করবে। নতুন বাড়ী তৈরীর পূর্বের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। একই স্থানে মসজিদ, মক্তব, ইস্কুল,মাদ্রাসা সহ সকল প্রতিষ্ঠান থাকবে। এতে করে পুরো গ্রামের লোকজন একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে বসবাস করতে পারবে বলে আধুনিক গ্রাম গড়ে তো্লার মাধ্যমে গ্রামবাসীর জন্য সকল ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হবে। মহা নগরী নিয়ে এখন শত পরিকল্পনা গ্রহন করেও যেমন আশানুরুপ ফল পাওয়া যাচ্ছেনা, সময় থাকতে এখনই গ্রাম গুলোর বিষয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহন না করলে পরবর্তীতে গ্রাম নিয়ে লক্ষ পরিকল্পনা গ্রহন করলেও কোন লাভ হবেনা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

মোঃ মিজানুর রহমান।