ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মেছি বলে সব সময় সব আবদার বা দাবি পূরন হয়না। পরিবারে বাবার কাছে সন্তানদের ছোট খাটো নানা আবদার থাকে। যেমন খেলনা ,একটি খেলার বল , ব্যাট অথবা সাইকেল ইত্যাদী । সব বাবারা সব সময় সন্তানদের এই আবদারটুকুও রক্ষা করতে সক্ষম হন না। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারে। তেমনি আমার বাবাও কোন কোন ক্ষেত্রে সে আবদার রক্ষা করতে পারতেন না। অনেক সময় পরে দিবেন বলে কথা দিলেও আর্থিক অনটনের কারনে তা দিতে পারতেন না। অন্যান্য শিশুদের মত আমার বাবার কাছে আমারও একটি আবদার ছিল। আর তা ছিল একটি সাইকেল। ছোট বেলায় সাইকেল খুব ভালবাসতাম। বাসায় কেউ সাইকেল নিয়ে এলে আমি চাকা ঘুরাতাম,চাকার ভোঁ ভোঁ শব্দে আনন্দিত হতাম। একবার তো সাইকেলের চেইনের সাথে আঙ্গুল আটকে গিয়ে সে কি যন্ত্রনা পেয়েছিলাম। তবুও বাবাকে বলতাম একটা সাইকেল কিনে দিতে। বাবা সরাসরি না না বলে বলতেন তুমি ক্লাস থ্রিতে উঠলে নিয়ে দিব। এবার ক্লাস থ্রিতে উঠার অপেক্ষায় রইলাম। ক্লাস থ্রিতে উঠলাম ঠিকই, কিন্তু সাইকেল পেলাম না। আবার আশ্বাস ক্লাস ফোর। এভাবে আশ্বাস পেতে পেতে ক্লাস এইট শেষ করলাম কিন্ত সাইকেল পেলাম না। অবশেষে যখন ক্লাস নাইনে উঠলাম তখন সকাল বেলা কোচিং এ যাওয়ার প্রয়োজনে নিজের টিফিন খরচ থেকে বাঁচানো টাকা জমা করে আটশ টাকায় একটি পুরানো সাইকেল কিনলাম। আর বাবাকে সব সময় কথাটা বলে খোঁটা দিতাম। বাবা অনেক সময় মুখ ভার করে রাখতেন। এখন বুঝি তখন হয়ত তিনি মনে কষ্ট পেতেন। হয়ত তা মধ্যবিত্ত হয়ে আবদার রক্ষা করতে না পারার কষ্ট। এই রকম কষ্ট তাকে অনেক বার দিয়েছি। তখন বুঝিনি। কিন্তু এক সময় বুঝতে পারি। যখন দেখেছি পরিবারকে দারিদ্রতা থেকে মুক্ত রাখতে পরিবারের চাহিদা মিটাতে গিয়ে নিজে ৩/৪ কিঃ মিঃ পথ হেঁটে অফিসে যেতেন। আমি যদি দেখে ফেলতাম তিনি বলতেন সামনে একটু কাজ আছে, কাজটা শেষ করে গাড়িতে উঠব। আসলে তিনি হেঁটেই যেতেন। এখন তা আমি বুঝি। এখন নিজেও বাস্তবতার মুখোমুখি। এখন বুঝি বাবা হয়ে সন্তানের আবদার রক্ষা করতে না পারাটাও অনেক কষ্টের। বাবারা সন্তানের আবদার রাখতে পারুক আর না পারুক আজকে দিনে বাবাদের বৃদ্ধ বয়সের আবদার যেন আমরা রাখতে পারি। পিতা – পুত্রের সম্পর্ক অটুট থাকুক ভালবাসার বন্ধনে। সন্তানের অবহেলায় কোন বাবাকেই যেন বৃদ্ধাশ্রমে যেতে না হয়। বাবা দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।