ক্যাটেগরিঃ কৃষি

ভারতীয় রোগাক্রান্ত ব্রয়লার মুরগীর ডিম ও বাচ্চার অনুপ্রবেশে হুমকির মুখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পোল্ট্রি শিল্প। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ভারতীয় ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা পাওয়ায় দেশীয় হ্যাচারির বাচ্চা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী ও খামারীরা। ফলে দেশীয় খামারের বাচ্চা বিক্রি না হওয়ায় বন্ধ হতে বসেছে ব্রিডারফার্ম, বেকার হয়ে পড়ছে শত শত শ্রমিক। এদিকে ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা রোগাক্রান্ত মুরগীর বাচ্চা বিক্রি করে রাতারাতি বিপুল টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ডিলারদের বিরুদ্ধে ।

সূত্র জানায়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ রোগাক্রান্ত মুরগীর বাচ্চা ও ডিম অবৈধভাবে দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, দর্শনাসহ বিভিন্ন বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এ সকল মুরগীর বাচ্চা ও ডিমের বিশাল মার্কেট গড়ে উঠেছে। অবৈধ পথে আসা ভারতীয় রোগাক্রান্ত মুরগীর বাচ্চা বিক্রি করে অধিক মুনাফা পাওয়ায় ডিলারা দেশীয় মুরগীর বাচ্চা বিক্রয় বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাচ্চা উৎপাদনকারী খামারগুলো প্রায় বন্ধের পথে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বানুড়িয়া গ্রামের পোল্ট্রি খামারী শরিফুল ইসলাম জানান, দেশীয় হ্যাচারীর মুরগীর বাচ্চার দাম প্রতিটি ৭৫-৮০টাকা। অপরদিকে ভারতীয় বাচ্চার দাম ৫০-৫৫টাকা। ভারতীয় বাচ্চার দাম কম হওয়ায় তারা এ বাচ্চা নিচ্ছেন। তিনি আরো জানান, বেশি দাম দিয়ে দেশীয় হ্যাচারীর মুরগীর বাচ্চা ক্রয় করে বিক্রির সময় দাম না পাওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে অনেক খামারী পোল্ট্রি ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলো। এখন ভারতীয় বাচ্চার দাম কম হওয়ায় অনেক খামারী আবার পোল্ট্রি চাষে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডিলার ভারতীয় মুরগীর বাচ্চা বিক্রির ব্যাপার স্বীকার করলেও মুরগীর বাচ্চা রোগাক্রান্ত এ কথা সত্য নয় বলে দাবী করেন। তারা জানান পোল্ট্রি খামারীদের ব্যবসায় ধরে রাখতে বাধ্য হয়েই তারা কম দামের ভারতের বাচ্চা খামারীদের সরবরাহ করছেন। অথচ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বার্ডফু আক্রান্ত কোন দেশ থেকে বাচ্চা, মাংশ, ডিম আমদানীর উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনে নাকে ডগা দিয়ে চোরাই পথে মুরগীর বাচ্চা ও ডিম এনে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

এব্যাপারে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ইউনিভার্স্যাল পোল্ট্রি হাচারীজ লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাদের জানান, বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে শিকার। তিনি বলেন, ভারত সূু-কৌশলে কম মূল্যে রোগাক্রান্ত মুরগীর বাচ্চা বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছে। তাদের তার্গেট পাট শিল্পের ন্যায় এ দেশের পোল্ট্রি শিল্পকে ধ্বংস করা। তিনি আরো জানান ভারতীয় রোগাক্রান্ত মুরগী বাংলাদেশে প্রবেশ করার কারণে ইতোমধ্যে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের বৃহৎ বাচ্চা উৎপাদন খামার আফিল পোল্ট্রি, রাফিদ পোল্ট্রি, ইউনিভার্সেলসহ ২০টি পোল্ট্রি হাচারিজের কয়েক শত কোটি টাকার প্যারেন্টস বার্ডফুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। দেশীয় বাচ্চার দাম বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে তিনি জানান, খাদ্য ভ্যাকসিন মেডিসিন দেশে তেমন উৎপন্ন না হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয় ফলে বাচ্চা উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। তিনি দাবী করেন ভারত বেশি দিন এই মূল্যে বাচ্চা সরবরাহ করতে পারবেনা। তারা বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংস করতে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কম দামে বাচ্চা সরবরাহ করছে।

সূধীজন ও দেশীয় বাচ্চা উৎপাদনকারী খামারের মালিকরা মনে করেন গার্মেন্টস শিল্পের ন্যায় পোল্ট্রি শিল্পের দিকে সরকার নজর না দিলে এবং ভারত থেকে অবৈধভাবে বাচ্চা অনুপ্রবেশ বন্ধ না করলে অচিরে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। বেকার হয়ে পড়বে এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার শ্রমিক।

মিজানুর রহমান,কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ॥
১১.০৬.১২