ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পথে আমার এক সহকর্মী সিনিয়র সাংবাদিক ভাই আমাকে কাছে টেনে ফিসফিস করে বললেন নিউজটি করা কিন্তু রিক্স আছে, ভেবে চিন্তে কাজ করো। আমি সাংবাদিকতায় নবীন হলেও তার কথা সানন্দে গ্রহণ করতে না পারলেও পরামর্শটা যে আমার ভালোর জন্য-এটা বুঝতে কষ্ট হয়নি । বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা আসলো কোন কাজে যেন মন বসতে চাইছেনা। মাগরীবের নামাজ পড়ে মটর সাইকেলে উদ্দেশ্য বিহীন ঘুরে বেড়ালাম বেশ কিছুক্ষণ। তারপরও স্থিরতায় পৌছাতে পারলামনা। একটি অপরাধবোধ বোধ যেন তাড়া করে ফিরছে আমাকে। রাত দশটা। কম্পিউটারের সামনে বসলাম। নিজের অজান্তেই ক্যামেরার ক্যাবলটা কম্পিউটারে সংযোগ দিলাম। একে একে ছবিগুলো স্পষ্ট হলো। লিখতে শুরু করলাম এই ভেবে আমিতো ব্লগে কাজ করি। শত শত ব্লগার আমার পাশে থাকবে। কিসের ভয় আমার। সত্য লিখে যদি মৃত্যু হয়-সেটাতো আমার জন্য পরম পাওয়া। ঘটনাটি-

ছেলের অপরাধে বৃদ্ধ পিতাকে প্রহার, পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার প্রচেষ্টা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ছেলের গাড়ি বেচা-কেনা সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শালিসের নামে এক বৃদ্ধ পিতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। যা ঘটেছে তারই ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে। নির্মম নির্যাতনের শিকার হোটেল ব্যবসায়ী রথিন্দ্র নাথ সাহা বর্তমানে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালীগঞ্জ শহরের মাছ বাজার এলাকার জয় মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক আহত রথিন্দ্র নাথ সাহা জানান, তার ছেলে রজত সাহা রনি ইতিপূর্বে যশোর থেকে কিস্তির মাধ্যমে একটি সিএনজি গাড়ি কেনেন। গাড়িটির কিস্তি পরিশোধ না করেই পরবর্তিতে একই উপজেলার বদিয়ার নামের এক মটর শ্রমিকের নিকট সেটি বিক্রি করে দেন। এ সংক্রান্ত জটিলতায় কালীগজ্ঞ বাজার মালিক সমিতি এবং থানায় দু’পক্ষের মধ্যে শালিস হয়। সংসার ও নিজ ব্যবসা থেকে বিচ্ছিন্ন বকে যাওয়া ছেলের সাথে কোন সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও লেনদেনের কারণে পিতা হিসেবে ১২জুন বৃহস্পতিবার তাকে থানায় ডাকা হয় শালিসের জন্য। রথিন্দ্র নাথ জানান, থানায় মিমাংশা না হওয়ায় তৃতীয় দফায় কালীগঞ্জ পৌরসভায় শালিসের আয়োজন করা হয়। ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল ইসলামের মাধ্যমে ওইদিন বেলা ১০ টায় স্বস্ত্রীক পৌরসভায় যান রথিন্দ্র নাথ। সেখানে পৌর মেয়রের উপস্থিতিতে ছেলের লেন-দেন বা কোন কাজে পিতা হিসেবে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় সিদ্ধান্ত ছাড়াই শালিস শেষ হয়। পরে পৌরসভা ভবন থেকে নামা মাত্র তাকে প্রভাব শালী বদিয়ারের লোকজন থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি গাড়িতে তুলে কাউন্সিলর রেজাউল ইসলাম সহ কালীগঞ্জ মটর শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে নিয়ে আসে। তারপর কাউন্সিলরের উপস্থিতিতেই তাকে পেটানো হয় নির্মমভাবে। এক পর্যায়ে কৌশলে কাউন্সিলর ওই স্থান ত্যাগ করেন। এরপর তার উপর আরো অমানষিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনকালে একাধিকবার তার পুরুষ অঙ্গ প্লাস দিয়ে কেটে দেয়ার চেষ্টা করা হয় বলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানান। তিনি আরো জানান, তার কাছ থেকে জোর করে সাদা স্ট্যাম্পে সই করে নেওয়ার পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বদিয়ার ও কাউন্সিলর ক্ষমতাসীন দলের বলে ভয়ে তিনি মামলাও করতে পারছেন না। হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রনায় ছটফট করছে আর ভগবানের কাছে বিচার দিচ্ছে।

রথিন্দ্র নাথ সাহার স্ত্রী বিউটি সাহা জানান, তিনি ঘটনাটি কালীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতাদের জানিয়েছেন। তাদের অভয় আশ্বাস পেলে মামলা করা ইচ্ছা আছে তার। বিউটি সাহস করে এর বেশি কিছু আর বললেন না। শুধু বললেন, মেয়র বিচার করতে পারলেননা, স্বামীকে দিলেন কাউন্সিলরের জিম্মায়। আর সেই কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে তাকে নির্মম প্রহার। এ অবস্থায় কার কাছে বিচার চাইবো ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে এটাই তার শেষ কথা।