ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম এবং বিশ্বখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ অসংখ্য মহামানবের ছবি নিপুন হাতের ছোঁয়ায় নিপুণ কারুকার্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন ক্ষুদে কারু শিল্পী ওহিদুল ইসলাম। তার তৈরী ছবি বিভিন্ন মেলায় ও বাজারে বিক্রি হয়। জন্মদিন বিবাহ বার্ষিকীসহ নানা অনুষ্ঠানের জন্য অনেকেই সুন্দর কারুকার্ষের ছবি তৈরীর অর্ডার দেয়। অসাধারণ শৈল্পিক ছোঁয়া ও নিপুণ হাতের কারুকার্ষ খচিত ওহিদুলের তৈরী ছবির কদর দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।

ক্ষুদে কারু শিল্পী ওহিদুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বাকুলিয়া গ্রামের মৃত মকছেদ আলীর ছেলে। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি কাজের প্রতি তার একাগ্রতা, ভাল লাগা, ভালোবাসা ও সূক্ষ্ম চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। ছোট একটি ঘরকে যেন একটি শো-রুম বা মডেল হিসেবে গড়ে তুলেছেন। বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসার ছবিসহ দেশী বিদেশী কবি, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ অসংখ্য মহামানবের ছবি নিপুন হাতের ছোঁয়ায় নানা কারুকার্যে অলংকিত করেছেন। কাঠে খোদায় করেও অনেক ছবি আরো অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কারু শিল্পী ওহিদুল। এলাকার অনেকেই তার বাড়ি থেকে এসব ছবি কিনে নিয়ে যায়।

কারু শিল্পী ওহিদুল ইসলাম জানান, শখ থেকে নেশা এবং নেশা থেকে পেশা হিসেবে এ কাজটা জীবনের সাথে বেধে নিয়েছি। কিন্তু জীবন ধারনের জন্য এ কাজটা যথেষ্ট নয়। সংসারের অভাব তাকে বেশী দূর শিক্ষার আলো দিতে পারেনি। অষ্টম শ্রেণি থেকে ভাল ফলাফল করে নবম শ্রেণিতে উত্তির্ণ হলেও বই কেনা বা পড়ার খরচ পরিবার দিতে না পারায় তার স্কুলে যাবার পথ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় । সে সময়ে বন্ধুদের স্কুলে যেতে দেখলে খুবই কষ্ট হতো বলে ওহিদুল ইসলাম ভারী কন্ঠে বলেন ।

এলোমেলো চলা জীবনের কোন এক সময় ওহিদুল বেড়াতে যান উপজেলার কোলা গ্রামে এক বোনের বাড়িতে। সেখানে মহিলাদের গমের নাড়া দিয়ে ওয়ালমেট তৈরী করা দেখে মুগ্ধ হয় সে। ভালো লাগায় কয়েকদিন অবস্থান করেন এ শিল্পটি শেখার জন্য। এরপর ওহিদুল বাড়িতে ফিরে নিজের চোখে দেখা ধারনা ও চেতনা কাজে লাগাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে এখান থেকে সে আয়ের পথ খুঁজে পান। কিন্তু এ আয় জীবন ধারনের জন্য যথেষ্ট নয় বলে তিনি জানান। আরো একটু স্বচ্ছলতার আশায় বাড়ির পাশে একটি দোকানও দেন। নিজের আয় থেকে নতুন করে লেখা-পড়া করার ইচ্ছা থাকলেও সেটা আর সম্ভব হয়নি।

ওহিদুল বর্তমানে বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসার ছবিসহ দেশী বিদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি আর্ট পেপারে এঁকে সেটা গমের নাড়া দিয়ে সুন্দর করে গড়ে ফুটিয়ে তোলেন। ছবিগুলো দৃষ্টিনন্দন করার জন্য নিজ চেতনায় নানাবিধ কারুকাজ করেন। এ কাজে গমের নাড়া, ভূট্টার নাড়া, লাল শাক, কুমড়া,শশার বীজসহ বিভিন্ন মূল্যহীন বীজ ব্যবহার করে থাকেন। প্রথম প্রথম এ কাজ করতে সময় লাগলেও এখন বেশ দ্রুত কাজ করতে পারেন বলে তিনি জানান।

ওহিদুলের বড় ভাই আবুল কামাল জানান, ২০০৪ সালের প্রথম দিকে ওহিদুল এ কাজ শুরু করেন। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই রাত জেগে কাজ করায় বর্তমানে ওর চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসমস্যা ভবিষৎতে ওহিদুলের কাজের গতি নষ্ঠ করে দিতে পারে বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

সৌখিন এসব জিনিষের চাহিদা উপজেলা শহরে তেমন না থাকায় মাঝে মাঝে ওহিদুল হতাশ হয়ে পড়েন।

কিন্তু মৌসুমে তার মন্দ যায় না। নিজের তৈরী এসব কারু শিল্প চুয়াডাঙ্গার মেটেলী মেলা, কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মেলা ও মাজার , বুলু দেওয়ানের ওরস শরীফ উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলা ও মাগুরার কাইতেনী মেলায় নিয়ে যান। এসকল স্থানে প্রতি বছর যাওয়ায় তার তৈরী শিল্পকর্মের বেশ চাহিদা রয়েছে তিনি দাবি করেন । স্থানীয় অনেকেই শখ করে জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকীসহ নানা অনূষ্ঠানের জন্য স্মৃতি ধারনে সুন্দর কারুকার্য ও সৌন্দর্য মন্ডিত ছবি বাধাঁই করার অর্ডার দেয়। সাধারন একটি ছবি বিক্র করলে তার গড় ১শ টাকা আয় হয় বলে জানান।সরকারী বা বেসরকারী সহযোগিতা পেলে কারুশিল্প থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে বাকুলিয়াকে কারুপল্লী হিসেবে গড়ে তুলে এলাকার বেকার যুবকদের কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ গ্রামে পরিণত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মিজানুর রহমান,কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ॥
০১.০৬.১২
০১৭৬৩৪৪৯৬৬২
০১৯৪৫২৩৩৯৫৭

***
প্রকাশিত হয়েছে: http://bd24live.com