ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

পরিত্যাক্ত প্লাস্টিকের ব্যবসায় ভাগ্য বদলেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আড়পাড়া নদীপাড়ার দেলোয়ার হোসেন(৫৫)। এক সময়ের পরিত্যক্ত লোহা ও প্লাস্টিকের হকার দেলোয়ার এখন প্লাস্টিকের সামগ্রীর কাঁচমাল তৈরীর কারখানার মালিক। ভূমিহীন পিতার সন্তান দেলোয়ার এখন নিজের কেনা জমিতে বিল্ডিং-বাড়িতে বসবাস করছেন।

শৈশব থেকেই দরিদ্র বাবার ভাংড়ি ব্যবসায় সহয়তা করতে হতো তাকে। সংসারের অভাব অনটনের কারনে পড়াশুনার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রাইমারির গন্ডি পেরুতে পারেননি তিনি। দারিদ্র্যতার সাথে সংগ্রাম করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ বেশ স্বচ্ছলতার দেখা পেয়েছেন। নিজে পড়াশুনা করতে না পারলেও সন্তানদেরকে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়িয়ে সে কষ্ট ভুলতে চেষ্টা করছেন। ৫সন্তানের জনক দেলোয়ারের বড় ছেলে ইব্রাহীম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে যশোর এম.এম.কলেজে অর্থনীতিতে অনার্স পড়ছে। বাকি সন্তানেরা সবাই পড়াশুনারত।

দেলোয়ার জানান, তার ভাগ্নেরা ঢাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করতো। সেই সূত্রে তিনি পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবসা শুরু করেন তিনি। প্রায় ১০বছর আগে একটি প্লাস্টিক কারখানায় পুরাতন প্লাস্টিক কাটার মেশিন দেখে, এমন একটি কাটিং মেশিন কেনার ইচ্ছে জাগে তার। কারণ যেভাবে কেনা সে অবস্থায় ঢাকায় পাঠাতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে যেত। এতে তেমন একটা লাভ হতোনা। তাই প্রায় ৭বছর আগে নিজের জমানো কিছু টাকা ও ঋনের টাকা দিয়ে কাটিং মেশিন, শান মেশিন ও ওয়াশ মেশিন ক্রয় করেন। এরপর লিজ নেযা জমিতে কারখানা গড়ে তুললেন।

জীবন নগর, দর্শনা, খালিশপুর, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর থেকে হকারদের কাছ থেকে তিনি পরিত্যাক্ত এ প্লাস্টিক সামগ্রী ক্রয় করেন। পরে এগুলোকে রঙ অনুযায়ী আলাদা করে কাটিং মেশিনের দ্বারা ছোট ছোট টুকরায় পরিণত করা হয়। এরপর টুকরো প্লাস্টিককে ওয়াশ মেশিনের সাহায্যে ধৌত করে রোদে শুকানো হয়। এভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বস্তায় ভরে বিক্রির জন্য যশোর ও ঢাকায় পাঠান হয়। তিনি আরো জানান মোলাম(ভাঙ্গা প্লাসিকের চেয়ার, টেবিল, জগ ইত্যাদি) প্লাস্টিক দেশিয় প্লাস্টিক দ্রব্যাদি তৈরীর কারখানায় ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ওয়ানটাইম(পানিয় বোতল) প্লাস্টিক চীনে পাঠানো হয়।

দেলোয়ার জানান, হকারদের কাছ থেকে তিনি প্রতি কেজি প্লাস্টিক ৩৫/৩৬ টাকা দরে ক্রয় করেন। এক কেজি প্লাস্টিক প্রক্রিয়াত করতে তার প্রায় ৮/১০টাকা খরচ হয়। এ প্রক্রিয়াজাত প্লাস্টিক তিনি প্রায় ৫০টাকা দরে বিক্রি করেন। তিনি আরো জানান, প্রতিমাসে তার কারখানা থেকে প্রায় ১২/১৩টন প্লাস্টিক যশোর ও খুলনায় পাঠানো হয়। এতে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহন ব্যয় বাদে তার প্রতি মাসে নিট মুনাফা থাকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

দেলোয়ারের কারখানায় মহিলা-পুরুষসহ ১০/১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। প্রতিমাসে কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। বিশ্বে মন্দা অর্থনীতি ও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য গত বছর তেমন লাভ না হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে তাকে। তার পরও সংগ্রামে হারতে রাজী নন তিনি। সহজ শর্তে সরকারী ঋণ পেলে ভবিষ্যতে কালীগঞ্জে একটি প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরীর কারখানা গড়ে তোলার ইচ্ছে তার।