ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আসসালামুয়ালাইকুম। আশা করি, কিন্তু জানি, সবাই ভালো নেই। অন্তত ভালো থাকার মত মৌলিক উপাদানগুলো এদেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, একথা বলাই বাহূলা। শিরোনামের মতই, আমাদের রাজা-আমলা দের কাছ থেকে নীতি যখন ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে, তখন দেশের রাজনীতির অবস্থা, সহজেই অনুমেয়। তবুও, কিছু কথা না লিখে থাকতে পারা যাচ্ছিল না।

একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনাব ইলিয়াস আলী। চিত্রনায়ক নন, কিন্তু আজ জনপ্রিয়তায়, ইলিয়াস কাঞ্চনকেও হার মানিয়ে গেছে তার ট্রাজিক অন্তর্ধান রহস্য। ধন্যবাদ তাকে দিতেই পারে আমাদের বিরোধী দল। তার কল্যানেই না একটি জোরালো হরতাল ইস্যু পেল। অথচ, হাজারো ইলিয়াসের সন্ধান আজো মেলেনি, কিন্তু এনিয়ে রাজপথে নামতে কখনো শুনিনি তাদের। এমন’কি জাতীয় তেল-রক্ষা কমিটির ডাকা হরতালেও তারা শুধু মৌখিক সমর্থনেই সীমাবদ্ধ ছিল। জানতে চাই, ওই ঘুমন্ত বাস চালক কে গান পাউডার ছিটিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম বানানোর কি দরকার ছিল। পিকেটিং-এর আক্রমণ শানিয়ে, নিরীহ প্রাইভেট চালক-কে দূর্ঘটনার লক্ষবস্তু বানিয়ে কি মজা পান, আপনারা। ধিক্কার জানাতেই হয়, ওইসব পিকেটারদের, যারা কিছু পয়সার লোভে মিছিলে গিয়ে প্রান নিয়ে ফিরে আসতে পারবেন কিনা জানেন না। জিজ্ঞেস করুনত আপনাদের নেত্রীদের, আপনাদের মৃত্যুর পর আপনাদের পরিবারের ভার তারা বইবেন কিনা। সিলেটে ঝরে গেল, ৩ টি তাজা প্রাণ, অথচ এ পরিবারের প্রতি হরতালের পক্ষের তেমন কোন ভ্রুক্ষেপ তো দেখিইনি, উলটো শুনলাম, মির্জা ফখরুল সাহেব বলছেন, হরতাল পালন করায় দেশবাসীকে অভিনন্দন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বা তৎকালীন বিরোধী নেত্রী নাহয় হরতাল এর ব্যাপারে তার দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি, কিন্তু আপনারা যারা বর্তমানে বিরোধী দলে আছেন, তারা তো অন্তত এই মহানুভবতাটুকু দেখাতে পারেন। এতে, আপনারা দেশবাসীর দোয়া শুধু নয়, কথা রাখার জন্য অনেক মুল্যবান ভোটের আগাম ব্যাবস্থাও হয়ত পেতে পারতেন।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেডরুম পাহারা দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, বিনীতভাবে বলছি, রাজপথেই আমাদের গুম, খুন, কিংবা শান্তিপূর্ণ চলাফেরার নিশ্চয়তা বিধানে সহায়তা করতে পারেন। পত্রিকায় পড়লাম, ইলিয়াস আলী’র অন্তর্ধান এর চাক্ষুষ সাক্ষীদের ও হদিস মিলছে না। আবার অনেকেই হটাত মুখে কুলুপ আটকেছেন। সহজেই অনুমেয় পাঠকগন, ডালমে কুচ কালা হ্যায়। তবে আর কিছু না হোক, রুনি-সাগর হত্যা, সুরঞ্জিত সেন সাহেবের অর্থ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থাকা বিষয়ক ব্যাপারগুলো সবার আড়ালে ঠিকই কিন্তু চলে গেছে।

সমুদ্র বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ তার সময়োপযোগী বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের জন্য। কিন্তু সম্বর্ধনার জন্য কি সঠিক স্থান নির্বাচন এর ব্যাপারে তাঁর হাত থাকতে পারতো না? এইভাবে বারবার ক্ষত-বিক্ষত হয় আমাদের আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামগুলো। পাঠক, আপনারা হয়ত সম্বর্ধনা পরবর্তী ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ক্ষত-বিক্ষত ছবি পত্রিকায়, দেখেছেন। মনে পড়ে গেল, চট্টগ্রাম এর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম এ, তারেক জিয়া’ও তৃণমূলের কর্মী সমাবেশ করেছিলেন, এবং মাঠের বারোটা বেজেছিল। স্টেডিয়ামগুলোকে আপনাদের করাল থাবা থেকে রেহাই দিন। আপনারাই তে খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষক বলে নিজেদের দাবি করেন।

আসলে, যত দোষ, পাবলিক ঘোষ। আমাদের আপামর জনতার খেয়াল বড্ড আজব কিসিমের। পাঁচ বছর আগের কথাও মনে থাকেনা, আবার পাচঁ বছর পেরিয়েও কিছু খুজেঁ পাইনা। সমস্যা হল, আমাদেরই। ঠগ বাছতে যেমন গাঁ উজাড়, তেমনি ভোটের বাজারে, নোটের হাজারে, আমরা বাধাঁ পড়ি মন মাজারে। পাচঁ বছর পেরিয়ে তাই, আমাদের মনে হয়, আগের খাওয়া চড়টাই বুঝিবা তুলনামুলক ভালো ছিল। আসলে, বাংলাদেশ নামক এই কঙ্কালসার ব-দ্বীপটাকে নিয়ে আর বুঝি নতুন কোন মহাপরিকল্পনাই কার্যকর হচ্ছেনা। তাই শেষ মুহূর্তে একের পর এক থলের কালো বেড়াল উঁকি ঝুঁকি দিয়ে বিব্রত করে বেড়াচ্ছে সরকারকে।

জানিনা, তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ কেনো বিহাইন্ড দ্য সিন চেপে গেলেন সেশ পর্যন্ত, তবে এই ভদ্রলোক কে স্যালূট। অন্তত আর যাই হোক, মন্ত্রীত্তে থাকলে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে খুনের রহস্য উদ্ঘাটনের মত লোক হাসানো প্রতিশ্রুতি নিশ্চই দিতেন না। মাননীয়া সাহারা খাতুন, হয়তোবা জানমাল পাহারা দেবার গ্যারান্টি দিবেননা, কিংবা জনাব আবুল মাল সাহেবও শেয়ারবাজারের মালামাল উইকলি’দের খুঁজে হয়ত দেবেননা, কিন্তু মন্ত্রী অবায়দুল করিম সাহেবের মত ‘কথায় নয়, কাজে প্রমাণ” নীতিটা অন্তত ফলো করতে পারতেন। যাই হোক, একের পর এক প্রশ্নবিদ্ধ মন্ত্রীসভার দিকে নতুন কোন তীর আজ আর ছুড়ঁতে চাইনা। বলতে চেয়েছিলাম তো অনেক কিছুই, কারণ দেশটাকে ভালবাসি, কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারিনা, দখলবাজ, ঘুষবাজ, আর চশমখোরদের বিরুদ্ধে। কারণ, সরকার’ত গুম থেকে বাচানোর প্রতিশ্রুতি দিবেনা।

হায়, ছাত্রলীগ। “একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর” এই যদি হয় তাদের মিছিলের ভাষা, তারাও কি ছাত্র হয়? মাননীয়া, প্রধানমন্ত্রী, শুধু অভিভাবক শূন্য করে দেবার ঘোষণা দিয়ে ক্ষান্ত হয়ে গেলে, আপনি দায় এড়াতে পারেন না। নিজ দল সমর্থিত উপাচার্যকে বাঁচানোর জন্য যারা নিরীহ শিক্ষক-ছাত্রদের বেধড়ক পেটায়, নিজ সহপাঠিকে খুন করে, আর ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝলকানি দিয়ে বেড়ায়, তারা আপনার সময়ে নিরাপদ ছাউনি’র উৎস হতে পারে বলে, আমি মনে করিনা। কারন আপনি বলেই গেছেন, আইন সবার জন্য সমান, কাউকেই নাকি ছাড় দেয়া হবেনা। অথচ আপনি দেখুন, খুনের অভিযুক্ত একজন জাহাঙ্গীরনগর এর ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মিছিলের নেতৃতে হুঙ্কার দিয়ে বেড়াচ্ছে। এরকম অজস্র উদাহারণ আর তাদের সোনার কির্তী আপনার সামনেই ছিল। যেমনটি ছিল, পূর্বের প্রধানমন্ত্রীর নিকটেও। যার আদরের ছাত্রদলও কম কিছুই দেখায়নি। আসলে আমার কোন দোষ নেই পাঠক বন্ধুগণ, স্মৃতিশক্তি আর প্রতারণা করতে চাইছে না।

সুখি মানুষের জামার সন্ধান হয়ত, আপনারা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা দিতে অপারগ, তবে পানি-ভাতের বাঙ্গালী’দের কাঙ্গালি বানানোর দায় কি অন্য কারো। ক্লিনিক্যালি ডেড এদেশ থেকে আপনারা কি পেয়েছেন, তা দুদক জানলেও, আমরা হয়ত কোনদিন জানতে পারবো না। থাক, বড্ড বিষণ্ণ লাগে, বড্ড ক্লান্ত লাগে, রাজনীতি নিয়ে বুলি আওড়াতে কারণ তা ফায়দা কেউ এনেও দিতে পারেনি কোনকালে। তার চাইতে খেলারাম, খেলে যা। অদ্ভুত রাজ…নীতি নিয়ে, খেলেই যা……