ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কতিপয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের কিছু কিছু বক্তব্য দেশের মানুষকে চরম হতাশার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। বিষয়টি এতই লজ্জাজনক যে, বঙ্গালীর মাথা উঁচু করে দাড়াবার স্বপ্ন অনেকটা ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে।

দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান ভাগ হওয়া ভারতের জন্য মোটেই লাভজনক ছিলো না এটি তারা এক সময় অনুধাবন করতে পেরে নানা ভাবে পাকিস্তানের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে থাকে।

এক সময়ের প্রতাপশালী ইউএসএসআর (ইউনাইটেড সোভিতে সোসাল রিপাবলিক)-এর সাথে বন্ধুত্ব ও পারষ্পরিক সহযোগিতার কারনে আমেরিকার সাথে ভারতের শত্রুতা তৈরী হয়। পক্ষান্তরে পাকিস্তান চীন ও আমেরিকার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে। ভারতের সাথে চীনের সম্পর্ক খুবই খারাপ ছিলো। এই সময়ে আমেরিকা ও চীনের বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ খুঁজতে থাকে ভারত। বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তান রাজনৈতিক বিবেচনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই এখানে পশ্চিম পাকিস্তান বিরোধী লবিংকে তারা সহযোগিতা দিতে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি যে বৈসম্যমূলক আচরণ করে এটি ভারতকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ তৈরী করে দেয়। ফলে বাঙগালীর স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন জোরদার হয়। এ প্রসঙ্গে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কথা অনেকের মনে থাকার কথা।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক কৌশল ছিলো একেবারে ভুল। তারা বাঙ্গালীকে দাবিয়ে রাখার যে কৌশল নিয়ে ছিলো এটিই ছিলো পাকিস্তান বিভক্তির মূল কারন। তারা পূর্ব বাঙগলাকে সযথাযথ গুরুত্ব দিলে হয়তো পাকিস্তান বিভক্ত হতো না। মুসলমান ভাই ভাই মিলে মিশে থাকতে পারতো। পাকিস্তান বিভক্তির জন্য এ অংশের রাজনৈতিকদের কোন ভাবেই দায়ি করা যায় না। এ অংশের দাবীগুলো ছিলো একেবারেই নেয্য। এ প্রসঙ্গে ৬ দফার কথা অনেকেরই মনে থাকার কথা। ‘৭০-এর নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তালবাহানার কথা স্মরনযোগ্য। ফলে পাকিস্তান বিভক্তি আর বাংলাদেশের জন্ম। এইটিই ছিলো ইতিহাসের চরম বাস্তবতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের জন্মে সব চেয়ে লাভবান পূর্ব বাংলার বঙ্গালীরা। তারা একটা দেশ, একটা পতাকা, একটা মানচিত্র নিয়ে পৃথিবীতে সম্মানের সাথে মাথা উচু করে দাড়িয়ে গেল। আর পাকিস্তান আঞ্চলিক শক্তির দিক দিয়ে অনেকটা পিছিয়ে গেল। এতে পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যে কিছুটা পরিবর্তন হয়ে গেল। চীন-মার্কিন ক্ষতির শিকার হলো আর লাভবান হলো সোভিয়েট ইউনিয়ন আর ভারত। আর সে কারনেই চীন-মার্কিন ষড়যন্ত্রে বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসের কালো অধ্যায় রচিত হলো ‘৭৫-এর ১৫ আগষ্টে।

১৫ আগষ্টের পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ নামক সদ্যজাত শিশুটি মার্কিন-চীন এর রাজনীতির ঘুটিতে পরিনত হয়। আর জাতিকে জানানো হলো অন্য কথা। এমন সব আজব গল্প তৈরী করা হলো যাতে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসগুলো মুছে যায়। মুছে যায় একাত্তরের গৌরব গাঁথা। মুছে যায় শেখ মুজিব। তৈরী হয় চীন-মার্কিনের ছক। সিআই, আইএসআই এর হয়ে যারা শেখ মুজিবকে হত্যা করলো তারা পুরষ্কৃত হলো।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর চীন-মার্কিনীদের প্রভাব বিশ্বে অনেকটা বেড়ে যায়। বর্তমনে চীনের উত্থানকে মার্কিনীরা ঠেকানোর সব ধরনের কৌশল নেয়। চীনের সত্র“ ভারতের সাথে হাত মেলায় আমেরিকা। পাকিস্তানকে ছুড়ে ফেলে দেয় আস্তাকুঁড়ে। এরই ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতেও পরিবর্তন আসে। সাম্প্রতিক সময়ে খালেদা জিয়ার ভারত সফরই সেই কথা জানান দেয় আমাদেরকে। ‘সফর ফলপ্রসূ হয়েছে’, বলে খালেদা জিয়া কি বোঝাতে চেয়েছেন? ‘ভারত সফরে আ.লীগের দলীয় নির্বাচনের স্বপ্ন ছাই’, বলে মওদুদ আহমদ কি বোঝাতে চেয়েছেন? ভারত চাইলেই কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়ে যাবে? বৈদেশিক নীতির পরিবর্তন হতে পারে তাই বলে এভাবে নির্লজ্জের মত কেন? আমাদের কি কোন সম্মানবোধ নেই? নিজের দেশের ভেতর অন্যদের নাক গলাতে কোন দেশই দিবে না কিন্তু বিএনপি এ সুযোগটিই করে দিচ্ছে ভারতকে। এখন ‘ভারতের দালাল’ এই গালিটি কে কাকে দেবে?

যাই হোক ভারত সফর আর চীন সফর দু‌টি বিপরীত ঘটনা। এই বৈপরিত্যের কারনে খালেদা জিয়ার চীন-ভারত মিশন একেবারেই গুড়ে বালি নয় কি?। অন্যদিকে জামাত কখনই ভারতকে পছন্দ করে না। ফলাফল কি দাড়াবে আশা করি এরই মধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফলাফল যাই হোক আমরা চাই না ভারত আমাদের দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক।
আমরা মাথা উচু করে বাঁচতে চাই। আমরা ভারতীয়দের আতেথিয়তায় তৃপ্ত হয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারি না। রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে জাতি এমনটা আশা করে না। চলুন ঘুরে অাসি