ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

নাফিজ, তার পিতা এক ধনী ব্যাঙ্কার, আইডিয়াল স্কুলে এবং নর্থ-সাউথ তে পড়েছে। ভদ্র পোলা কিন্তু ভেতরে একজন হিজবুত টাইপ স্যাডিষ্ট জংগী মেন্টালিটির ছেলে। এত ভয়ংকর যে তার বন্ধু-বান্ধব বা বাবা-মা এমনকি রুমমেটরাও . . কেউই টেরই পায়নি। সে সুযোগ পেলে সে আমাদের দেশেও বোমা মারতে কুন্ঠিত হতো না।

নর্থ-সাউতে বিবিএ সেমিষ্টারে সর্বনিম্ন নাম্বার পেয়ে বহিষ্কৃত নাফিস আমেরিকায় আসে স্কলারশিপ নিয়ে, সাউথইস্ট মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। কিন্তু হাজার মাইল দূরে নিউইয়রক এসে কি করছিল? আমেরিকা এসেই দাড়ি রাখা সুরুকরে সে। ড্রাইভিং লাইসেন্স যোগার করে ফেলে দ্রুতই। কয়েক মাসের ভেতর সেখানে হিজবুত টাইপ মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হয় এবং নিয়মিত মসজিদে যেত। (সুত্র বাংলানিউজ) বাসায় বাবা-মা কে বলেছিল ভাল একটি মসজিদের খোঁজে নিউইয়োর্ক আসা, দুই ব্যক্তি তাকে মসজিদের ব্যপারে সাহায্য করে। ফেসবুকে লিখেছিল “বিশাল কিছু করতে চাই”।

তার ইউনিভারসিটি কোথায় আর মসজিদ খুজে কোথায়?

সে কি আগেই জংগিবাদি ছিল?

যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ক্রিশ্চিয়ান সাইন্স মনিটর ঢাকায় নাফিসের সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির একজন সিনিয়র ফ্যাকাল্টির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নাফিস বাংলাদেশে নিসিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহরীরের সাথে জড়িত ছিল। ইউনিভার্সিটির সুনামের সার্থে তা গোপন রেখে তাকে নাম্বার কম দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয়।

আসলে সে নিউইয়োর্ক এসে গোপনে এক্সপ্লোসিভ খুজেছিল আল-কায়দা নেটওয়ার্কের কাছে। ব্যাপারটা মার্কিন গোয়েন্দাদের কঠিন জালে ধরা পড়ে যায়। FBI এক এজেন্ট তখন জংগি সেজে আলকায়দা নেটওয়ার্কএ ঢুকেপড়ে, কয়েক মাস কঠিন নজরদারি। এরপর তাদের এজেন্ট আল-কায়দার আগেই তাকে একটি ডামি বিষ্ফোরক বোঝাই ভ্যানগাড়ী বোমা সরবরাহ করে এবং চোখে চোখে রাখে। নাফিসের ইনটেনশন ছিলো ভয়াবহ বোমাহামলা করা; অথবা এভাবে বলা ভালো যে নাফিস যেকোন পদ্ধতিতে বোমা পেলে অন্ধ ভাবে সেটাকে সে আমেরিকার এগেইন্সটএ ইউজ করতো। FBI গোয়েন্দারা তাকে শেষ পর্যন্ত যেতে দিয়েছে এবং তারপর ধরছে।

সে সম্পুর্ন সজ্ঞানে এ কাজ করেছে। গাড়ীবোমা পেয়েও সে ভেবেছে –

“এটা সত্যই আলকায়দা দিয়েছেতো? নিশ্চই। ওরা এত কাছে আসার ঝুঁকি নিবেনা হয়তো”।

তার কাছে বোমা কে দিয়েছে সেটা এত নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেনি, তার কাছে বোমা বোমাই।

তার অর্থ – এ ধরনের সুযোগ পেলে হিজবুতি বা অন্য জঙ্গি সহায়তায় এদেশেও বোমা হামলা করতো।

এভাবে ফাঁদ পেতে ধরা আমেরিকানদের অনেক পুরোনো টেকনিক। এর আগেও এভাবে ওয়াল স্ট্রিট বোমাবাজ (পাকিস্তানি) ধরা হয়েছিল রিয়েল এক্সপ্লোসিভ সহ। প্রস্টিটিউট কাষ্টমার সেখানে এভাবেই ধরা হয়। লন্ডনেও দু-তিন বছর আগে কিছু পাকি ক্রিকেটার ধরা হয়েছিল ঘুশের টাকা সহ এভাবেই ফাঁদ পেতে। ভারতেও এভাবে কিছু মন্ত্রী-এমপিকে ফাঁদ পেতে ঘুস সহ ধরা হয়েছিল এভাবেই। এধরনের স্টিং অপারেশন বিতর্কিত হলেও তাতে অপরাধির অপরাধ কোন ভাবেই হাল্কা হয় না।

বিতর্কিত স্টিং অপারেশন বা “আমাদের স্বজাতি” এধরনের দোহাই দিয়ে ধর্ম উম্মাদ, হিজবুত টাইপ স্যাডিষ্ট জংগী মেন্টালিটির কেউ সহানুভূতি পাওয়ার যোগ্য নয়। সে আত্মঘাতি হতেও রাজি ছিল, যদিও ইসলামে আত্মহত্যা মহা পাপ, পবিত্র কোরান বা হাদিসে একটি বাক্যও জেহাদে আত্মহত্যাকে সমর্থন করেনি। বোঝা যায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও তার মানবিক মূল্যবোধ একটুও বাড়াতে পারেনি। যে দেশ, যে সভ্যতা তাকে স্কলারশিপ দিল, ভাগ্য বদলানোর সুযোগ, উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিল তাকেই ধ্বংস করার মানসিকতা পোষন করা? ..!!

এ ধরনের ধর্মান্ধ উম্মাদ দুর্বৃত্তদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া দরকার।