ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ (যুদ্ধাপরাধ) ট্রাইবুনাল এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সাথে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের স্কাইপ কথোপকথনের একটি রেকর্ড এখন টক অব দা কান্ট্রি। একাত্তরের পরাজিত শক্তি যুদ্ধাপরাধ বিচার কে বিতর্কিত ও বানচাল করতে বদ্ধপরিকর। দেশে ও বিদেশে উচ্চমূল্যে লবিস্ট, আন্তর্জাতিক মিডিয়া, সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন কংরেসম্যান কিনে ফেলতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ফেলে, মধ্যপ্রাচ্যের ধনী সরকারদের প্রভাবিত করে বিশাল কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্বজুড়ে, কুচক্রীরা বিচারপতি, রাষ্ট্রপক্ষের এটর্নি, গুরুত্বপুর্ন সাক্ষীদের ব্যক্তিগত ফোনকল, ইমেইল, স্কাইপ কনভার্সেশনে বেআইনি ভাবে আড়ি পাতে। বাসার কর্মচারীদের উচ্চহারে উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে বেডরুমে গুপ্তক্যামেরা ও আড়িপাতা যন্ত্র স্থাপন করে চরম অনৈতিক ও বেআইনী কাজ করে গেছে, যা ফৌজদারি আইনে কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তারা রাষ্ট্রপক্ষের দুজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী গনেশ ও শুখরঞ্জন বালিকে অপহরণ করে ৯ মাস ভয়ভীতি, উৎকোচ এবং ব্রেনওয়াস করে, ৯ মাস পরে জামাতি উকিলের গাড়িতে কোর্টে এনে রাষ্ট্রপক্ষকে বেকুব বানিয়ে দিয়েছিল। ফ্যাসিস্ট অপশক্তি প্রধান বিচারক মহোদয়ের স্কাইপ একাউন্ট হ্যাক করে একান্ত ব্যক্তিগত কনভার্সেশন রেকর্ড করে।

স্কাইপ সংলাপে কী ছিল?
অপশক্তি দীর্ঘ ৮-৯ মাস (বা আরো বেশী) গোয়েন্দাগিরি করে সকল ব্যক্তিগত কথাবার্তা রেকর্ড করে। আমারদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত স্কাইপি কনভারসেশনের বেশিরভাগ অংশজুড়ে বন্ধুসুলভ কথোপকথন অধিকাংশই ব্যক্তিগত আলোচনা, তেমন বিতর্কিত কিছু দেখা যায়নি। মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ অন্তরঙ্গ আলোচনায় চলমান বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করে। বাংলাদেশে এত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে চলেছে সেসব নিয়ে দু\’জন মানুষ ঘরোয়া আলোচনা করে নিশ্চয়ই মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলেননি। আমরা দেখেছি সেখানে হজ্ব যাত্রা নিয়ে কথা আছে, শারীরিক সুস্থতা নিয়ে কুশল বিনিময়, প্রতিবেশীদের সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়ে কথা আছে, আছে আলচিত সাহারা খাতুনের অপসারন নিয়েও। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী আছে ট্রাইবুনাল নিয়ে কথা। খুবই স্বাভাবিক, তারা দুজনই আইনের লোক, চলমান বিচার প্রক্রিয়ার সাথে একজন জড়িত আছেন কাজেই সেটি নিয়েই বেশির ভাগ আলোচনা হবে এটিই স্বাভাবিক। মানুষ বন্ধুবান্ধবের সাথে এরচেয়েও আজাইরা বাজে কথাবার্তা বলে।

বিচার নিয়ে যে কথাবার্তা হয়েছে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল যুদ্ধাপরাধ বিচার স্বচ্ছ করার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কাঠামো এবং পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা, বিচারের কন্টেন্ট বা রায় টেম্পারিং করার কথা তো দূরের কথা রায় নিয়ে কোন কথাই নেই। কয়েকটা কথায় যা বোঝা যাচ্ছে সরকার তাড়াতাড়ি (ডিসেম্বরেই) একটা ভার্ডিক্ট চায়, এতে উনি স্পষ্টত বিরক্ত হয়েছেন বলে মনে হয়েছে কিন্তু সরকার যে এই ডিসেম্বর মাসেই রায় চায়- এটাতো সবাই জানে! প্রকাশ্যেই বলেছে কয়েকবার। কিন্তু সরকার তাড়াহুড়া করলেও ট্রাইবুনাল ফেয়ার ট্রায়াল করতে চায়, সেটাই বোঝা যায়।

কে এই ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন?
বাংলাদেশের সাধারন মানুষের কাছে এই প্রবাসি আইনজীবি খুব একটা পরিচিত না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে \’আমারদেশ\’ পত্রিকায় তার সাথে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের কথোপকথন প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি এখন খুবই আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিনত হয়েছেন। ড: আহমেদ জিয়াউদ্দিনের পরিচয় হলো তিনি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থানকারী একজন বাংলাদেশী আইনজীবি। কোন দল করেন না, আওয়ামী লীগ তো নয়ই, জাসদ নেতা ছিলেন একসময়। বিভিন্ন দেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার এবং এ সংক্রান্তে নানা আইন বিষয়ে তার রয়েছে বিস্তর পড়াশোনা। তিনি বিগত দুই যুগ বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে মুল হোতা জামায়াতের নেতাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের বিচার করার ব্যপারে সোচ্চার ভুমিকা পালন করেছেন। যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরামহীন আন্দলোনের নেপথ্যে কাজ করে গেছেন,

খুব বড় ধরণের একটি ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হয়েছে এই বিচার প্রক্রিয়াকে বাঁধাগ্রস্থ করার জন্য। এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কতখানি মরিয়া।
এখানে আরো একটি সম্ভাবনা উঁকি দিয়ে যায় আমাদের মনে। ইকোনমিস্টের কাছ থেকে আমার দেশ কীভাবে এই আলোচনার ট্রান্সক্রিপ্ট পেল? তাহলে কী এই অপকর্মের মূল কারিগর ‘আমারদেশ’ ও তার ফিলসফার জামাতিরা? তারাই এই সব তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করে ইকোনমিস্টের কাছে পাচার করেছে? বিবিসির কাছে ইকনোমিস্টের একটি সুত্র জানিয়েছে, তাদের হাতে বহু মাস ব্যাপি সংগৃহিত ধারন করা সংলাপ ও বহু পৃষ্ঠা ইমেইল বার্তা আছে। এগুলো ইকোনমিস্ট নিজেরা সংগ্রহ করেনি, কিনেও নেয়নি। তাদের কাছে পৌছে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ চক্রান্তকারিরা এ দেশেরই ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠি।

আমি অভিনন্দন জানাই বিচারপতি বিচারপতি নিজামুল হক (নাসিম)কে যিনি সরকারপক্ষ কিংবা আসামীপক্ষের কারো দ্বারাই প্রভাবিত নন বলে নিজেকে প্রমাণিত করতে পারায়। আশা করি তার এই নিরপেক্ষতার প্রমাণ তার পদত্যাগের পরও সমুন্নত থাকবে।

অভিনন্দন জানাই ড. আহমদ জিয়াউদ্দিনের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষজ্ঞকে। আমরা জানি কত মতলবি ডক্টরেট টাকা আর দলবাজির কাছে বিক্রি হয়েগেছে , কিন্তু ডঃ জিয়ার মতো নিঃস্বার্থ মানুষরা নিজেদের তাগিদ থেকে বিদেশের মূল্যবান সময় ব্যয় করে এই বিচারের মান উঁচু করতে, সঠিক ও নিরপেক্ষ বিচার কাজ চালাতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। জাতি যখন টার্নিং পয়েন্টে দাঁড়ানো তখন অনেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না নগন্য দলীয় স্বার্থের কারনে।