ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ফেসবুকে অনেকেই দিচ্ছে, তাই অনেকটা না বুঝেই গরু জবাইয়ের একটি ছবি ফেইসবুকে পোষ্ট করেছিল ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। রক্তাক্ত বিভৎস ছবি ফেবুতে অনেক দেখা গেলেও জনপ্রিয় একজন ক্রিকেটারের একটি বড় পাবলিক পেইজে থাকা অশোভন। বাঙালি তরুণ প্রজন্ম সহ অনেকেই সে পোষ্টে মন্তব্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছবিটি সরিয়ে নেয়ার আবেদন করে, প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়ায় অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে। মুশফিককে সেই ছবি সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জা্নায়। তারপর আর কোন বিতর্ক ছাড়াই মুসফিক সেই ছবি সরিয়ে ফেলে।

চারিদিকে চাপাতি-কোপাকুপি ভেতর এতোটা “প্রকাশ্য প্লেসে রক্তাক্ত” ছবির বিরুদ্ধে এতটা সোচ্চার মানবিক অনুভূতি দেখে আজ আমি অনেকটা বিস্মিত আবেগাপ্লুত হয়ে যাচ্ছি। আমরা তো এমন বাংলাদেশই চেয়েছিলাম।
চ‍্যানেল আই পেইজে লিখেছে “বাংলাদেশের কোনো গণমাধ্যম পশু জবাইতো দূরের কথা, কোরবানির পশুর রক্তও দেখায় না। এটাই অলিখিত কোড অব কন্ডাক্ট, এটাই সাধারণ সভ্যতা।”

পাকিস্তান-বাংলাদেশ বাদে আর কোন দেশের শহরে প্রকাশ্যে পশু জবাই দেয়া যায় না, ৯০% মুসলিম সংখাগরিষ্ঠ রাজধানি কুয়ালালামপুর, জাকার্তা, সিঙ্গাপুর, দুবাই, কাতার, ইস্তাম্বুল কোথাও প্রকাশ্যে গরু তো দুরের কথা একটি মুরগিও জবাই দেয়া যায় না, পৌর কতৃপক্ষের রেজিষ্টার্ড কশাইখানাতেই সব জবাই, কোরবানি হয়। আমরাও সেটাই চাই।

আমাদের তিন নবনির্বাচিত মেয়র এই নিয়ম প্রাথমিক ভাবে নাগরিকদের অভ্যস্ত করার লক্ষে নগরের কয়েকটি মাঠ নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন, কিন্তু পর্যাপ্ত কাঠামো, সুবিধা না থাকায়, সফল হয়নি। এটা শুরু মাত্র। আমি কোরবানির বিরুদ্ধে না, পশুহত্যা বিরোধী কোন সুশীলও না। কোরবানি ওয়াজিব, এটা আছে থাকবে। তবে পরিচ্ছন্নতা মানসিকতা উন্নত চাই। আমি চাই একদিন ঢাকাতেও পর্যাপ্ত সুবিধাসহ লাইসেন্সড পাবলিক কশাইখানা থাকবে। অন্যন্য শহরের মত ঢাকার রাস্তা কখনো কোরবানির দিন রক্তে ভেসে যাবে না।