ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, প্রমাণ কোথায়?
মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তোলপাড় কাণ্ড চলছে। রাস্তা বন্ধ করে আন্দলন চলছে। আসলে কি প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল? আসিফ নজরুল আজ প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে অভিযোগে বিশাল উপসম্পাদকীয় লিখেছেন প্রথম আলোতে। অভিযোগ প্রমাণে স্ক্যানড প্রশ্নপত্র বা স্ক্রিনশট আছে বলেননি, প্রমাণ হিসেবে দিয়েছেন, প্রশ্নফাসের গণদাবি, ফেসবুকের কিছু স্ট্যাটাস, কথিত প্রশ্ন পেয়ে মেডিকেলে সিলেক্টেড হয়েছে দাবি করা এক ছাত্রের স্ট্যাটাস। উনি অবশ্য জানেন না সেটা ছিল মজা করার জন্য ভুয়া স্ট্যাটাস। (কোন পাগলে বাকী জীবনটা বরবাদ করার জন্য স্বীকার করবে ভুয়া পাশে ডাক্তারির)!

আসল ঘটনাটা ছিল রেজাল্টের পরদিন তাহসিন নামের এক ছেলে মেডিকেলে চান্স পাওয়া নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দেয়। যেখানে সে লিখে সে আগের রাতে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। মেরিট ১২। মার্কস পেয়েছে ১৯৮।
স্ট্যাটাসের শেষে লিখা ছিল “অনলি Question আউট ইজ রিয়েল”। এরপর বিশাল তোলপাড়। কয়েক ঘন্টায় সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে গেলো তাহসিন নামে এক ছেলে কোয়েশ্চেন পেয়ে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। প্রশ্ন পেয়ে একজন ফার্স্ট হয়ে গেল।

হায়রে হুজুগে বাঙালি! তাহসিন (HSC রোল: ১১৮৭৫০) মেডিকেলে এক্সামই দেয়নি এবং মার্ক ১৯৮ পায়নি, নিশ্চিত। কারণ এবারের পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বরই ছিল ১৯৪। সে মজা করেছে, আর আমাদের সবাইকে আবুল বানিয়েছে।

ফেবুতে অনেকে ব্যাপক দাবি করলেও আমি একটিও প্রমাণও পাইনি, অভিযোগ প্রমাণে কেউ স্ক্যানড প্রশ্নপত্র বা স্ক্রিনশট দিতে পারেনি। পরীক্ষার আগের রাতে কেউ দাবি করেনি প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। কোন প্রিন্টেড পত্রিকায় পরীক্ষার আগে বা পরদিন দাবি করেনি প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। তবে পরীক্ষার দিন ও পরে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, আসিফ নজরুলসহ সবাই বলছে সেসবই প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ।

আসলে সেটা প্রশ্নফাঁস ঘটনা ছিল না, ছিল নকলবাজি।
উচ্চ প্রযুক্তির মাধ্যমে নকলবাজির অভিযোগে মূল হোতাসহ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার। ইউজিসির সহকারি পরিচালকসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। সেটা পরীক্ষার আগের দিন নয়, পরীক্ষা চলাকালিন। এই ঘটনায় পরীক্ষা চলাকালিন নকল চক্রের সদস্য হিসেবে এক বৈধ ছাত্র পরিক্ষা শেষের অনেকটা আগে প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে আসে, এই চক্রের কাছে উত্তরপত্র তৈরি করে অতিক্ষুদ্র মোবাইলে এসএমএস -এর মাধ্যমে উচ্চমূল্যে সরবারাহ করছিল। পরীক্ষা চলাকালিনই তা নস্যাৎ করা হয়। অথচ সবাই টকশোতে দাবি করছে সেই ঘটনাই প্রশ্নফাঁসের মোক্ষম প্রমাণ!

রংপুরে আরেকটি গ্রেফতার ঘটনাকেও সবাই প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ হিসেবে দাবি করছে। রংপুরে কী ঘটেছিল?
রংপুরে র‍্যাব তিন সরকারি ডাক্তারকে একটি কোচিং সেন্টারের মালিকসহ আটক করেছিল। সেটাও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নয়। প্রতারণার অভিযোগে। কয়েকজন প্রভাবশালী অভিভাবক র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করে যে, এদের কাছে উচ্চমূল্যে প্রশ্ন কিনেও প্রশ্ন মিলেনি, প্রতারণা করেছে। র‍্যাব দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করে। তবে অভিযোগকারি প্রশ্ন ক্রেতাদের গ্রেফতার করল না কেন? ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই তো আইনের দৃষ্টিতে অপরাধি।

আশ্চর্য! এই গ্রেফতার ঘটনাকেও প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ বলে দাবি করছে টকশোর টকবাজরা, আসিফ নজরুলেরা। কোচিং সেন্টারগুলোর প্রত্যক্ষ মদদে চলা ভর্তিচ্ছুরা। মূলত কোচিং সেন্টারগুলোর প্রত্যক্ষ মদদেই চলছে আন্দোলন। আবার পরীক্ষা হলে তো আবার রমরমা কোচিং বাণিজ্য! আগের দুটি বছর পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে এইচএসসি ও এসএসসি প্রশ্নফাঁস হত, লাখ টাকা লাভের সুযোগ থাকলেও এরা প্রশ্ন বিক্রি করত না। এসব হুবুহু মিলে যাওয়া প্রশ্ন বিনামূল্যে ফেসবুকে দেয়া হতো, শুধুমাত্র পরীক্ষা বানচাল করর জন্যেই।

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের রেটিনা চক্র, উচ্চমূল্যের বিজিপ্রেস চক্র, বিনামূল্যে ফেসবুকে গণশেয়ারে প্রশ্নফাঁস করে পরীক্ষা বানচাল চক্রসহ সকল চক্রগুলোকে গত বছরই কঠিন হাতে দমন করা হয়েছিল। তাই এবার ২০১৫’তে এইএসসি, এসএসসি’তে কোন প্রশ্নফাঁসের ঘটনা দেখা যায়নি। কোচিং সেন্টারগুলোর প্রত্যক্ষ মদদে ঢাবির গতবারের ফেল করা ভর্তিচ্ছুদের দ্বিতীয়বার সুযোগ (দ্বিতীয় রমরমা কোচিং বানিজ্য) আন্দোলনও হালে পানি পায়নি।
এবার মেডিকেল ভর্তি প্রশ্ন ফাঁসের ঢালাও অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। এটাই বাস্তব।