ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
FBI

বছর দু-এক আগে নিউইয়র্কের কিছু বিএনপি নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারি জয় কে পরিকল্পিত ভাবে অপরাধী বানানোর জন্য দুজন সসস্ত্র এফবিআই এজেন্টকে উচ্চমুল্যে ঘুষের বিনিময়ে হাত করে। একাজে রিজভি আহাম্মেদ সিজার নামে এক তরুন বিম্পি কর্মিকে দায়িত্ত্ব দেয়া হয়েছিল।
যদিও পরিকল্পনা সুরুতেই ফাঁস হয়ে যায়। ২ FBI সদস্য গ্রেফতার হয়, এবং সুত্র ধরে রিজভিকেও গ্রেফতার করা হয়।
এদের পরিকল্পনাটি ছিল রিতিমত ভয়াবহ।
পরিকল্পনা মাফিক প্রথমে এফবিআই অফিসে রক্ষিত জয়ের বেপরোয়া ড্রাইভিং রেকর্ড থেকে নথি সরিয়ে ড্রাঙ্কড্রাইভিং রিপোর্ট ভরে দেয়া, এরপর জয়কে অপহরন করে জোড়পুর্বক মদ খাইয়ে কঠিন মাদক মামলায় ফাঁসানোর নৃসংস পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছিল। জয় তখন ভার্জিনিয়ায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। মার্কিন আইনে ২য় বার মাদকমামলায় কঠিন শাস্তি।
কিন্তু ভাগ্য ভাল এরা ঘটনা ঘটার আগেই ওরা ধরা পরে যায়।

আমেরিকার উচ্চমানের নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় নথি হাতানোর সময়ই এই দুই এফবিআই অফিসার ধরাপরে যায়, মামলার প্রধান আসামি এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট রবার্ট লাস্টিক ও জোহানেস থালের। এদের তাৎখনিক গ্রেফতার করা হয়। পরে রিজভী আহমেদ সিজার (৩৬) কে গ্রেফতার করা হয়। সে নিউইয়র্ক বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাসাসের নেতা মোহাম্মদ উল্ল­াহ মামুনের ছেলে। মার্কিন গণমাধ্যমে সে সময় ব্যাপক আলোড়ন শৃষ্টি হয়েছিল।
মার্কিন আদালতে সুধু রেকর্ড চুরি ও ঘুষ মামলায় ৩ বছর জেল হয়, বাকি মামলাগুলো চলমান আছে। যার সর্বচ্চ শাস্তি ২০ বছর জেল।
তখন বাংলাদেশেও একটি অপহরন/হত্যাচেষ্টা মামলা হয়।

কথিত আছে নিউইয়র্কের বিএনপি নেতৃবৃন্দের চক্রান্তকালে্র সময়টায় আলোচিত সফিক রেহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন, নিশ্চই অপহরন বা হত্যা করতে নয়।
জয়কে ফাঁসানোর পর এই রিপোর্ট কত ফলাও করে বিশ্বব্যাপি প্রকাশ করা যায় .. করতে যা যা উপাত্ত দরকার …

সাপোর্টিং লিঙ্ক – মার্কিন জাষ্টিস ডিপার্টমেন্টের অফিসিয়াল অভিযোগ পত্র।
মার্কিন জাষ্টিস ডিপার্টমেন্টের অফিসিয়াল অভিযোগ পত্র

    সংযোজন

শফিক রেহমানরা এখন জাতির জন্য ক্যানসার ছাড়া অন্য কিছু নয়।
ওনার (কুট) মেধা ছিল, বিম্পির ভেতর ওনার পর্যায়ের মেধাবী এখনো নেই।
২০০১ এর পর ওনার বিপুল জনপ্রীয় সাপ্তাহিক যায়যায়দিন কে দৈনিকে রূপান্তর করে দেয় বিম্পি (তারক-মামুন গং) তেজগায়ে বিশাল জমি সহ বিলাসবহুল অফিস। তখন বিপুল জনপ্রীয়, তেজগার সেই রাস্তার নাম পর্যন্ত বদলে ফেলেছিল সে।
কোন এক অজ্ঞাত কারনে মামুনের সাথে চরম বিরোধে জড়িয়ে পরে এই সফিকরেহমান। তখন এই লোফার মামুনের ক্ষমতা বিম্পির সেকেন্ডম্যান পর্যায়ে। ২০০৬এ বিরোধ চরম পর্যায়ে উঠে। ২০০৬ এর শেষের দিকে হঠাৎ একদিন তার দৈনিক পত্রিকাটিতে সম্পাদকের নামের স্থানে তার নাম উধাও হয়ে যায়, মামুনের ধমকে সে আর অফিসেই ঢুকতে পারেনি, ঋন ও বকেয়া বিল তার উপর জোরপুর্বক চাপিয়ে দেয়া হয়।

রক্তাক্ত ২৮সে অক্টোবর সেই উত্তাল বিকেলে সে প্রানের ভয়ে বিমানবন্দরে গিয়ে লন্ডনের টিকেট কাটে। তখন মামুন স্টাফ-সাংবাদিক লেলিয়ে দেয় এই বলে যে বেতন-বকেয়া রেখে পালিয়ে যাচ্ছে …
এরপর অনেক কাহিনী, বিমানবন্দরের লবিতে পাওনাদার সাংবাদিকদের বিক্ষোভ-স্লোগান .. একপর্যায়ে চড়-থাপ্পোর দিয়ে বিমান থেকে নামিয়ে আনা। সেই দিনের কথা মনে হয় কেউ ভুলতে পারবে না। আমার কাছে ফোন আসলো “এখনি এয়ারপোর্টে চলে আয় .. চরম নাটক চলছে”। কিন্তু আমি দেখি নাটক বংগভবনে, সরকার বদলে যাচ্ছে … বাইতুল্মুকার্মে-পুরানাপল্টনে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া .. গণপিটুনিতে নিহতদের লাশ …
এরপর সফিকরেহমান-মামুন বিরোধ কোন পর্যায়ে ছিল আর জানা যায় নি। পরে যায়যায়দিন HRC গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেয় মামুন।

অতচ আগে উনি ছিলেন বাম উদারপন্থি, একমাত্র তার যায়যায়দিন পত্রিকাতেই মুনতাসির মামুন, তসলিমা নাসরিনের কলাম নিয়মিত প্রকাশিত হত। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের লেখা “একাত্তরের দিনগুলি ” সর্বপ্রথম এই শফিক রেহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক সন্ধানীতেই ধারাবাহিকভাবে বেরোয় যা পরবর্তীতে সন্ধানী প্রকাশনী থেকেই বই আকারে প্রকাশ করা হয় । ৯৩ তে গনআদালত গঠনে তার পত্রিকাতেই প্রথম পরামর্শ এসেছিল, যায়যায়দিন গণআদালতের আগ্রাসি সমর্থন ছিল। সেই প্রজন্মে তার পর্যায়ে এইরকম সৃজনশীল আধুনিকমনা লোক বাংলাদেশে দ্বিতীয়টি আমার চোখে পড়েনি। শফিক রেহমানের মত উদার মুক্তমনা লোকটি কিভাবে বিএনপি-জামাতের মতো দলে নোংড়া দলে নাম লিখিয়ে নোংড়া খেলায় মেতে উঠলো সেটা আমার কাছে আজও ঠিক বোধগম্য হয় না। ২০০৯ এর পরে উনি নিজেকে নেড়িকুকুর ঘোষনা করে, বিম্পি থেকে এত লাত্থিগুতো খাওয়ার পরও ম্যাডামের ভাষন লিখে দিতেন।