ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

বিভৎসতার ধারাভাষ্য দেয়াটা কি খুব জরুরী? আমাদের মনস্তত্ত্ব বোধ কোথায়? আমরা কোন দিকে ধাবিত হচ্ছি? সন্ত্রসিকান্ডের বীভৎসতার ধারাভাষ্য দেয়াটা কি খুব জরুরী? হলুদ আলোর সাংবাদিকতার নমুনা দেখুন –

লিখেছে, “একই জায়গায় বারবার কোপানো হয়েছে। হাত দিয়ে কোপ ঠেকানোর চেষ্টা করায় হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয় খুনিরা। জুলহাসের মাথার বাঁ পাশে ছয় ইঞ্চি গভীর ক্ষত ..। এতে করে মাথার মগজ..এতেই মৃত্যু হয় তাঁর। মাহবুবের ঘাড়ে অনেকগুলো কোপ … স্পাইনাল কর্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে .. বিভৎসতা নৃসংসতার ছবি প্রদর্শন অনেক চেষ্টার পর নিষিদ্ধ হয়েছে, কিন্তু যথেচ্ছ বর্ননা চলছেই ..।

– একটি পত্রিকার সাংবাদিকতার নমুনা –

মিডিয়া জঙ্গিদের অধিক হাইলাইট দিয়ে, জঙ্গি বক্তব্য, জঙ্গি লিফলেট প্রচার করে এদেশে জঙ্গিদের জনপ্রীয়, গ্রহনযোগ্য করে তুলছে। এটা বন্ধ করা দরকার। জঙ্গি বক্তব্য ও হুমকি প্রচার, হুমকি পাবলিশ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে নিতে হবে। টকশোতে অনেকেই অজান্তে ‘জঙ্গি মহিমা’ প্রচার করেই চলেছে। বার বার বলছে – “উনিতো ধর্মবিরোধী কিছুই লিখেন নি ..। লিখতেন না – তাহলে কেন মারা হল”।

বক্তা পরক্ষভাবে সন্ত্রসিদের মোটিভ সমর্থন করে মেনে নিলেন কেউ ধর্মবিরোধী কিছু লিখলে তাকে চাপাতি মারা যেতে পারে। জঙ্গি মহিমা প্রচারে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নামধারি একজন তো এককাঠি বাড়িয়ে বলছে, “ওদের অনেক মহলের সমর্থন আছে, ওদের ইন্টেলিজেন্স রাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের চেয়েও বেশী।” আহা .. জঙ্গিমাহাত্যের কি সুন্দর বর্ণনা!

ফ্রান্সে, বেলজিয়ামে এত সন্ত্রসি হামলা হল, এত লোক মরে রাস্তায় পরেছিল, কেউ লাশের একটা ছবি দেখেছেন? আঘাতের বীভৎসতার বিবরন দেখেছেন কোথা .. জঙ্গি মহিমা, জঙ্গি বক্তব্য প্রচার? বিদেশী টিভি বা পত্রিকায়? সেসব দেশে বেশির ভাগ নাজুক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যাক্তির নাম পর্যন্ত প্রকাশ করা হয় না, অনেক দিন পর্যন্ত। কার্যকলাপ প্রকাশ তো অনেক দূরের কথা।

যে কোন হুমকিযোগ্য বক্তব্য, হত্যাতালিকা পাবলিশ/রি-পাবলিশ বন্ধ করতে হবে, আইন করে বন্ধ করা যাবে না। সব মহলের সহযোগিতা দরকার।

জঙ্গি হুমকি সর্বচ্চ দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও জঙ্গি মহিমা, হুমকি, জঙ্গি বক্তব্য প্রচার, শেয়ার, রি-শেয়ার বন্ধ করতে হবে। কেউ উষ্কানিমুলক বক্তব্য হাইলাইট করলে তাকে নিরুৎসাহিত করুন, জঙ্গিপ্রচার বন্ধ করতে বলুন। না শুনলে প্রয়োজনে ব্লক করুন।

জঙ্গি গোষ্ঠিরা কী চায়? প্রচার। তার শুধু প্রচার চায়। তাদের আদর্শ, অবস্থান প্রচার করতে তারা দেশে বিদেশে বোমাবাজি, আত্নঘাতি সন্ত্রসি হামলাগুলো চালাচ্ছে। তারা ভালভাবেই জানে সামান্য স্কুলে, মসজিদে বা বাজারে বোমাহামলা করে বা চাপাতি চালিয়ে রাষ্ট্র বা সমাজকে ধ্বংশ করতে পারবে না, কিন্তু প্রচার পাবে, জনপ্রীয় হবে। জাকাত/মানত/অনুদানের টাকা হাতঘুরে তাদের হাতে বেশী আসবে, নেপথ্যের সমর্থক বাড়বে।