ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

01010101

এইচ. টি. ইমাম স্যার। পুরো নাম হোসেন তওফিক ইমাম।বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবিচ্ছেদ্য নাম। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অসামান্য অবদান এবং বাংলাদেশ সৃষ্টির পরবর্তী কার্যক্রমে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য । ষাটের দশকে এ বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা তাঁকে বিচলিত করে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সে সময়ের মুসলিম লীগ ও সামরিক প্রশাসকদের শোষন, দমন দিন দিন ভয়াল হয়ে উঠছে। যদিও শুরুটা আরো আগেই। তিনি সরকারের উচ্চপদে আধিষ্টিত ছিলেন বলেই তাঁর চোখে বৈষম্যটা প্রকট হয়ে উঠে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার থাকাকালীন সময়ে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মুজিবনগর সরকার গঠন হলে তিনি মন্ত্রিপরিষদের সচিব পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর এদেশের ভঙ্গুর প্রশাসন ব্যবস্থা প্রাণবন্ত করে তোলা থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠনের কাজে সক্রিয় ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সময়ে ক্যাবিনেট সচিবও ছিলেন। পাকিস্তান আমলের পূরনো নিয়ম-নীতির সংস্কারের কাজেও অন্যতম ভুমিকা রাখেন তিনি। নানা অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ তার সংগ্রামী জীবন।

এইচ টি ইমাম স্যার দলের প্রতি দায়িত্বশীল, অনুগত। একজন অন্যতম প্রতিভাবান সংগঠক।সে সময় বঙ্গবন্ধু আর এ সময় দেশনেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকেছেন। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে এসেছেন, কাজ করছেন এখনও।
কথায় আছে, ফুল আপনার জন্যে ফোটেনা । এইচ. টি. ইমাম স্যারের উদারতান্ত্রিক ও সূদুরপ্রসারী ভাবনা ও প্রকাশভঙ্গী তা বলে দেয়। কিছুদিন খুব আলোচিত-সমালোচিত করা হলো তাঁকে। কেন? পত্র-পত্রিকায় বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন করলে সেটা যে অর্থের ক্ষতিসাধন করে-ব্যাপারটা তো সাধারণ মানুষ বোঝেনা । সেক্ষেত্রে সংবাদ উপস্থাপনের ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন নয় কি?

এইচ টি ইমাম স্যার সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “খণ্ডিতভাবে নয় বস্তুনিষ্ঠভাবে আমার সামগ্রিক বক্তব্যের সারমর্ম শুনে ও বুঝে দেশবাসীর সামনে আপনারা তুলে ধরবেন। আমি নিঃসন্দেহ আপনাদের সহযোগিতায় আমার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।”

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যারা বুকে ধারণ করেন, যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সমুজ্জ্বল রাখতে সচেষ্ট, ভাষা আন্দোলনের চেতনায় যারা উজ্জিবিত তাদের জন্য এইচ টি ইমাম স্যার উপদেশমুলক কথা বলতেই পারেন।দেশের প্রতিটা স্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা দেশ পরিচালনা করবে-এটাই স্বাভাবিক। দেশের উন্নয়ন বা দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখার কাজ স্বাধীনতা বিরোধীরা কিভাবে করতে পারে?