ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

হয়ত লিখাটা যখন পড়ছেন তখন ও দেশের আইনশৃংখলা অথবা দারিদ্র্য কিংবা রাজনৈতিক কোন পরিস্থিতি আপনার মনকে হতাশ করছে আবারো, আপনি বিচলিত হচ্ছেন, ভবিষ্যত অন্ধকার দেখছেন। সহজভাবে বললে এই দেশের সার্বিক অবস্থার তুলোধুনো করছে, গালাগালি করছেন নেতাদের আর নিজেদের কপালের। তারপর ও এমন কেও কি আছে যারা নিচের খবরটি পড়ে এতটুকু বিচলিত হন্ নি?

বিখ্যাত ধনকুবের মোহাম্মদ আল ফায়েদ স্কটিশ সরকারের এক পরিকল্পনার সমালোচনা করার সূত্রে নেতিবাচক উদাহরণ টানতে গিয়ে বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করেছেন। সম্প্রতি প্লান্ট নির্মাণের বিরুদ্ধে স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টারকে লেখা এক চিঠিতে উদাহরণ হিসাবে বাংলাদেশকে টেনে আনেন হ্যারডস’র সাবেক বস।

“এটা স্কটল্যান্ড, বাংলাদেশের মত এটা ময়লা ও আবর্জনার স্তুপ নয় “ – মন্তব্য করেন তিনি।
[সূত্র]

যখন ভিনদেশের কোন নাগরিক এ ধরনের মন্তব্য করেন তাও লিখিত আকারে তখন আমরা জাতি হিসেবে অপমানিত হয়, লজ্জিত হয়, আত্ন-সমালোচনা করি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলি।

আমরা দুশ বছর তাদের ই (গ্রেট ব্রিটেন) লুটতরাজের শিকার, এরপর পাকিস্তানের নির্যাতন এবং এরপর আস্তে আস্তে এগুচ্ছি হামাগুড়ি দিয়ে। অদূরদর্শী নেতৃত্ব আর পাহাড় পরিমাণ সমস্যা নিয়ে ও আমাদের দেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক ভাবে একটা অবস্থান করে নিচ্ছে, মাথা তুলে দাড়াচ্ছে। ময়লা -আবর্জনার স্তুপ (!) হওয়ার পর ও ঢাকা শহরের এক খন্ড জায়গার দাম প্রায় নিউইয়র্ক এর সমপরিমাণ জমির দামের সমান।

ফায়েদ সাহেবের অতীত দেখলে জানা যাবে তিনি মিশরীয় বংশদ্ভূত এবং স্কটল্যান্ডে অভিবাসিত। তিনি রেফারেন্স হিসেবে উনার মহাদেশ জন্মভূমি (আফ্রিকা) র অনেক দেশ যাদের অবস্থা বাংলাদেশ এর চেয়ে মন্দ বৈ কি ভাল নয়, সেসব দেশ কে আনেন নি। বিল গেটস থেকে শুরু করে বাফেট সবারই দারিদ্র্য আর অভাবের প্রতি তাদের সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, নিরসনে অবদান রাখছেন যেটা তাদের আভিজাত্যকে আরো জোরদার করছে।

ফায়েদ সাহেব যতই রিজ কিংবা হ্যারডস এর অধিকর্তা হন্ না কেন তিনি আমাদের মাছে অভিজাত হিসেবে নয়, একজন লোভী ধনী হিসেবেই চিহ্নিত থাকবেন। সময় এসেছে এসব তথাকথিত ধনীদের দায়িত্বহীন মন্তব্যের প্রতিবাদ করার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ভেবে দেখবেন কি?