ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

প্রশ্নটা এমনি এমনি জাগেনি মনের মধ্যে। অনেক কষ্ট পেয়েছি বলেই এই প্রশ্নটা করেছি রাষ্ট্রকে। জানি রাষ্ট্র কোন উত্তর দিবেনা। আমি নিশ্চিত এই কারণে, আমার মত হাজার হাজার মানুষ রাষ্ট্রগত ব্যাপারে নিয়ে অনেক সময় অনেক প্রশ্ন করেছে। কেউ প্রশ্নের উত্তর পাননি, প্রতিকারও পায়নি। আজ আমিও পাবোনা, তা জেনেই কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজার চেষ্টা করবো।

bccnews24.com-dollars

আমি বিদেশ আসার দিন ঢাকা এয়ারপোর্টে আমাকে টাকা পাচারকারী হিসাবে চিহ্নিত করলেন বিমানে উঠার লাস্ট চেকপয়েন্টে এখানের এক দায়িত্বরত কর্মকর্তা। আমার মানিব্যাগে বাংলাদেশি পাঁচ হাজার টাকা আছে বলে। মানিব্যাগ টেবিলের নিচে রেখে দিয়ে আমার দেহ তল্লাশি করতে লাগলেন। এক পর্যায়ে কিছু না পেয়ে টেবিলের নিচ থেকে মানিব্যাগ বের করে টাকাটা গুনছেন আর বলছেন আপনার নামে মামলা হবে।

আমি ভয় পেয়েছিলাম, আর বলছিলাম, “স্যার! আমার কোন দুষ বা অপরাধ হয়েছে?” স্যার রাগ করে বলতে লাগলেন, তুমি মারাত্মক অপরাধ করেছো। তুমি জাননা বিদেশে টাকা নিয়ে যাওয়া পাচারের শামিল? আমি বলছিলাম, স্যার আমি যে দেশে যাচ্ছি সে দেশে এই পাঁচ হাজার টাকায় মিলবে ২৪ টাকা। সেটা দিয়ে টেক্সি ভাড়া মিটাতে হবে, সাথে কিছু আংশিক খরচাপাতি। স্যার একথা শুনে কিছুটা নমনীয় হয়ে আমাকে আমার মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেন আর সাথে পাঁচ হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকা ফেরত দেন।

আমি প্রতিবাদ করলাম, কেন স্যার? আপনি আমার বাকি দুই হাজার টাকা দিচ্ছেন না কেন? সে প্রশ্ন করতেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। আমার সাথে যা-তা ব্যাবহার শুরু করলেন। আর বলতে লাগলেন দুই হাজার টাকা তোমাকে জরিমানা করা হয়েছে বাকি টাকা পাবেনা। আমি বলছিলাম, ঠিক আছে স্যার, জরিমানা যখন করেছেন তখন আমাকে সরকারি রশিদ দেন। যেখানে কিসের জন্যে জরিমানা করা হয়েছে আমিও বুঝে নেই? আপনি টাকাটা পকেটে রেখে দিয়ে আমাকে বুঝ দিতে পারেন না।

এদিকে পাশে বসে আছে আমাদের প্রশাসন। ভাবছি পুলিশকে অবগত করি। আবার ভাবছি যা হচ্ছে পুলিশের সামনেই হচ্ছে। বলে আর কি লাভ হবে? এদিকে অনেকের কাছ থেকে এভাবে টাকা রেখে দিয়ে দিয়ে রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছে, কেউ প্রতিবাদ করছেন না। সব কিছু সিসি ক্যামেরার মধ্যে রেকর্ড হচ্ছে। অথচ মনে প্রশ্ন জেগেছে এসব রেকর্ড কিসের জন্যে করা হয়? আমার প্রতিবাদের ফলে স্যার কিছুটা নরম হলেন, টাকাগুলা ফেরৎ দিলেন। আর আমার হাতে ছিল এক প্যাকেট মিষ্টি, সেটা রেখে দিলেন, আর বললেন এসব নেয়া নিষেধ। এদিকে বাকিরা টাকা দিয়ে সব নিয়ে নিচ্ছে নিষেধ নেই! আমি টাকাও দেয়নি, মিষ্টিও নেয়নি।

রাষ্ট্রকে জিজ্ঞাস করতে চাই, হে আমার প্রাণপ্রিয় রাষ্ট্র! তুমি যে হাজার হাজার অফিসার নিয়োগ দিয়েছ দেশ রক্ষা করার জন্যে। তারা কি যোগ্যতম ব্যক্তি? তাঁদের হাতে কি দেশ নিরাপদ? বড় বড় পুকুর চোরেরা দেশ বিক্রি করে এই এয়ারপোর্ট দিয়ে সুইস ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা পাচার করে জমা করছেন, দেখার কেউ নেই? আর আমাদের মত দিন মজুরদের প্রত্যেকদিন তাদের শিকারে পরিণত হচ্ছি। রাষ্ট্র কি ভুলে গেছে আমাদের টাকায় দেশ চলছে?

আমরা প্রবাসীরা দেশকে নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখি। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রতিদিন স্বপ্নের জাল বুনে চলেছে প্রতিটা প্রবাসী। এদিকে লুটপাট করে দেশের বারোটা বাজিয়ে চলেছে পুকুর চোরের দলেরা। আমাদের প্রবাসীদের মনে দেশপ্রেম যতোটুকু আছে তার কিঞ্চিত পরিমাণ যদি দেশের কর্তাব্যক্তিদের থাকতো তাহলে দেশ আমাদের গৌরবোজ্জ্বল স্থানে পৌঁছে যেত। তারপরেও স্বপ্ন দেখি টাকা পাচার বন্ধ হবে, দেশ আমাদের এগিয়ে যাবে।

যেতে যেতে রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করে যাই, সিসি ক্যামেরার সামনে, পুলিশের সামনে সরকারি ব্যক্তিগণ অপরাধ করে চলেছেন। আদৌ কি তার সমাধান রাষ্ট্র করবে?

এম নাসির (আল হিদ, বাহরাইন থেকে)