ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

আজ দেশ থেকে একজন লোক এসেছে বাহরাইন। লোকটি আমার গ্রামের পাশের সেন্দ গ্রামের। আমি ভালো করে জানিওনা। শুধু বলেছিলাম মায়ের কাছে, মা সেন্দ গ্রাম থেকে একজন লোক আসছে আমার কাছাকাছি। বাড়িও চিনতাম না! মা কয়েকদিন খোঁজ করে বাড়ির সন্ধান পেলেন। লোকটির আসার তারিখ ছিল আজ (২০ই অক্টোবর)।

মা আমার জন্যে কিছু কোরবানির গোসত আর কয়েকটি ট্যাবলেট দিয়ে দিয়েছে। হয়তোবা এই জিনিসগুলো বেশিকিছু নয়। তবে আমার কাছে স্বর্গের চেয়েও বেশি কিছু বলে মনে হচ্ছে। কেননা আমার অনুভব অনুভূতির মাঝে একটি জিনিস বারে বারে ভেসে উঠছে যে, এই জিনিসটি আমার মায়ের হাতে প্যাকেট করা হয়েছে। এই জিনিসগুলোতে আমার মায়ের হাতের স্পর্শ লেগেছে। মা পাটের রসি দিয়ে বেঁধে দিয়েছে। মায়ের কাপরের আঁচল ছিঁড়ে প্যাকেটের মুখ বেঁধে দিয়েছে।

আমি হাতে পেয়ে দু’চোখের অশ্রুজল ধরে রাখতে পারিনি। প্যাকেটগুলো খুলছিলাম আর সেই আঁচল, সেই পাটের রসি, ব্যাগগুলো খুব যত্ন করে রাখছিলাম। পিছন থেকে একজন এসে বলছে- ভাই, এই কাগজগুলি ফেলে দিয়ে জাগাটা পরিষ্কার করে নেই? আমি বললাম ভাই আমি পরিষ্কার করে নিমু, থাক। সে বলছিলো তাহলে ব্যাগ, রসি ফেলে দেই? আমি বললাম না ভাই এগুলো ফেলবেনা!

সে বলছিলেন এগুলা দিয়ে কি করবে? এগুলা ছিঁড়ে গেছে। খারাপ হয়ে গেছে। তাকে বলেছি- রেখে দে ভাই। মনে মনে বলছিলাম, এগুলার মধ্যে আমার মায়ের মমতা লেগে আছে, স্ত্রীর ভালোবাসা লেগে আছে, তাকে কি করে বুঝাই? সুন্দর করে নতুন একটি ব্যাগে রেখে দিয়েছি! এগুলোই হয়তোবা আরো কয়েকটা দিন প্রবাসীর দুঃখ-কষ্টের মাঝে আলো হয়ে জ্বলবে…..!

(প্রবাসী সন্তান)