ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

শৈল্পিকতায় এই ভবন আহামরি কিছু না যে, এর ছবি তুলতে হবে। কিন্তু ভবনের নামকরণ হয়েছে যার নামে, তার শহীদ হওয়ার ইতিহাস শুনলে তখন শৈল্পিকতা শব্দ ও মহত্ব তুচ্ছ গণ্য হবে।

৩ নভেম্বর ১৯৮৮। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে দিনের শুরুটা হয়েছিলো একাধারে ভয়ানকভাবে। আবার একজন সাধারণ কর্পোরালের কারণে দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম শ্রদ্ধা আর গর্বের হয়ে আছে মালদ্বীপিয়ান জনগোষ্ঠীর কাছে। মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (এমএনডিএফ) সদর দপ্তরে  ‘দ্য পিউপিলস লিবারেশন অর্গানাইজেশন অফ তামিল টাইগার ইলাম (পিএলওটিই)’ এর সহযোগিতায় মালদ্বীপের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ লুথুফি তার কিছু বিপথগামী সেনাবাহিনীর অফিসার বন্ধুদের সাথে আঁতাত করে তৎকালীন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুমকে উৎখাতের জন্য। শ্রীলংকা থেকে মাছধরা ট্রলার যোগে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রায় আশি জন ছয় ভাগে বিভক্ত হয়ে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ১ নভেম্বর এসে পৌঁছায়।

এসেই তারা স্থানীয় উনিশ জনকে গুলি করে মেরে ফেলে,  শত লোককে আহত করে, আরো শত লোককে অবরোধ করে।  ট্রান্সপোর্ট মিনিস্টার আহমেদ মুজতবাকে পরিবারসহ জিম্মি করে। একদল অতর্কিতে ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স সদর দপ্তরের দখল নিতে হামলা করে।

তখন ভোর ৪:৩০ মিনিট। মেইন গেটে ডিউটিরত ছিলেন কর্পোরাল হোসেন আদম।

সে আক্রমণকারীদের উপস্থিতি ও উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তাদেরকে হতচকিত করে গুলি করতে শুরু করে। এতে দুইজন আক্রমণকারী মারা যায়। আর আহত হয় কয়েকজন। হোসেন আদমের কাছে বুলেট থাকা অবধি একাই পুরো আক্রমণকারীদের ঠেকিয়ে রাখে। এই সময়ের মধ্যে অন্যান্য ফোর্সরা প্রস্তুতি নিয়ে হোসেনকে সাপোর্ট দিতে আসার সুযোগ পায়।

ততক্ষনে হোসেন আদমের বুলেট সব শেষ। নিজে গুলিবিদ্ধ হয়েও গুলি করবার জন্য  সঙ্গীদের কাছে বুলেট চায় হোসেন আদম।

ওদিকে আক্রমণকারীরা বিফল হয়ে নিজেদের দুই লাশ ফেলে পলায়ন করে।

প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বন্ধুরাষ্ট্র ভারত প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধী নয় ঘন্টার মধ্যেই ষোলশ প্যারাট্রুপার মালদ্বীপের পাঠায়।

এই  ঘটনায় হোসেন আদম শহীদ  হন। তবে তার অসামান্য সাহসিকতা আর বীরত্বের কারনে ক্যু থেকে রক্ষা পায় মালদ্বীপ। মামুন আব্দুল গাইয়ুম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বহাল থাকে। সেই থেকে ৩ নভেম্বর মালদ্বীপ এই জাতীয় বীরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

শহীদ হোসেন আদম বিল্ডিংটি রাজধানী মালের জুমহুরি হিংগুন (Jumhooree Hingun) সড়কে অবস্থিত। বিল্ডিংটি ১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে তৈরি হয়, যা দেশটির মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্স অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিসেস এর সদর দপ্তর। এখানে নীচতলায় আসামী রাখার কক্ষ আছে।

এই ভবনের সামনে বিরাট একটা চত্ত্বর আছে। যেখানে হাজার হাজার কবুতর উড়ে এসে বসে, মানুষজন তাদেরকে চালসহ এটা-ওটা খাবার খেতে দেয়। এই কবুতরের কারণে চত্বরের নাম কবুতর ময়দান।

এ বছর জানুয়ারিতে মালেতে গিয়ে কবুতর চত্বরে দাঁড়িয়ে দেখলাম মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে  শহীদ হোসেন আদম বিল্ডিং।

 

ট্যাগঃ:

মন্তব্য ০ পঠিত