ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু কমছে না। প্রতিদিন গড়ে ৫৫ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং বিআরটিএর সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সেলগুলো দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর কিছু করতে পারছে না।যেন দিন দিন আরো বেড়েই চলেছে ।বিআরটিএ এর রিপোট থেকে জানা যায় ১৯৯৯ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় শুধু মারা য়ায় ৩৭২২জন, ২০০০সালে-৩৭৬১,২০০১সালে-৩৮০৮,২০০২সালে-৩৭২৪ জন,২০০৩ সালে৩৯১২, ২০০৪ সালে-৩৩২২জন (আমার বাবা সহ) ,২০০৫ সালে -৩১৯৭ জন ২০০৬সালে-৩৪০৫ জন ২০০৭ সালে ৩৭৪৪ জন , ২০০৮ সালে -৩৫৩১জন ,২০০৯ সালে ৩৯০২ জন ২০১০ সালে -৪১২৩জন সূত্র ইন্টারনেট । বেসরকারি হিসাবে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ২০ হাজার জন এর বেশী । এভাবে দিনে দিনে সড়ক দূঘটনা বেড়েই চলছে । যার জন্য অনেকাংশে চালকের বেপরোয়া গাড়ী চালনা , ট্রাফিক আইন না মানা , ঝুকি পূর্ণ ওভার টেকিং , একটানা নিদ্রাবিহীন গাড়ী চালানো সহ খামখেয়ালীপনা ইত্যাদি বলে অনেকে মনে করেন । অথচ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ১৯৯০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট এক লাখ ৮৯ হাজার পেশাদার চালকের লাইসেন্স দিয়েছে কোনো ধরনের যোগ্যতার পরীক্ষা ছাড়া। গত বছরের আগস্টে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীর নিহত হওয়ার পর গঠিত তদন্ত কমিটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তার কোনো সুপারিশ বাস্তবায়নের কথাও কেউ শোনেননি। কিন্তু নির্মম সত্য আমাদের সরকার গুলো এ ব্যাপারে গুরুত্বই দেন না যেমন মোটরযান আইনে শাস্তির বিধান কম। তাই আইন অমান্য করার প্রবণতা বেশি। আইনটি যুগোপযোগী করা হলে চালকসহ সবার মধ্যে ভয় কাজ করবে।

চালকের ভূমিকা: বুয়েটের তিন শিক্ষক ২০০৬ সালে সড়ক নিরাপত্তায় চালকদের ভূমিকা বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালান। তাতে বলা হয়, ৬০ শতাংশ চালকই জীবনে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে বেরিয়ে আসে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী চালকেরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটান। এই বয়সের চালকের ৪১ দশমিক ২ শতাংশ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

গতকাল ও এরকম সড়ক দূঘটনায় মারা যান সাংবাদিক দীনেশ দাস এবং অনেকেই , কিন্ত নিহতের পরিবারের হাহাকার কে শুনে ,কে শুনবে শিশু অথৈ এর বাবা হারানোর হাহাকার । এমনই এক দূর্ঘটনায় ২০০৪ সালের ১২ জুন মারা যান আমার বাবা সওজ কর্মকর্তা নুর আহামেদ সে দিন এর অসহায়ত্ব আমরা সাত ভাই-বোনের হাহাকার কোন সরকার শুনতে আসেনি । আমদের ঐ হঠাৎ অপ্রস্তুত হারানোর ব্যাথা দেখানোর মত ভাষা আমার জানা নেই । আজ সাত বৎসর পর ও সে দিনের বাবার ছিন্ন ভিন্ন খুলির লাশ আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় । আর অর্থনৈতিক ক্ষতি তিলে তিলে আমার মায়ের ভেঙ্গে পড়া তা ভুক্ত ভোগী ব্যতীত কেই বুঝবে না । যখনই কোন সড়ক দূর্ঘটনা দেখী তখনই মনে হয় আরেকটি পরিবার আমার মত নিঃস্ব আসহায় হয়ে গেল । প্রতিদিন আমি বাবার মৃত্যু দেখতে চাই পেতে চাই না প্রতিদিন কষ্ট ।

বি.দ্র. পুলিশ দীনেশ দাসের হত্যাকারী বাস চালককে আটক করে এবং জানায় টিসিবির স্টাফ বাসের ঐ চালক লাইসেন্স বিহীন ।