ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র ভারতের বর্ডার ফোর্স তথা বিএসএফ নিয়মিত তাদের সরকারের পক্ষে আমাদের নিরীহ লোকজন কে হত্যা করে বন্ধুত্বের উপহার পাঠাচ্ছে নিয়মিত। ভারত বালাদেশের সীমান্তের প্রায় পুরোটা জুড়ে আবস্থান । তাদের সীমান্তের র্ফোস বিএসএফ প্রতিনিয়ত অকারনে আমাদের নিরীহ লোকজন কে হত্যা করে আসছে। সীমান্তে বিএসএফ এর কাজ কি রক্ষকের না খুনের ? এটাই কি ভারত সরকারের বন্ধুত্বের নিদর্শন নাকি বন্ধুপ্রতীম আচরণকারী দেশের জন্য উপহার । বিগত ৪০ বছরে ভারতীয় এ বাহিনীর হাতে বাদ যায়নি শিশু ও নারীরা, ফেলানী ও আব্দুর রহমান তার উৎকৃষ্ট প্রমান ।

এই ৪০ বৎসরে এই খুনী বাহিনীর হাতে হত্যার শিকার হন সহস্রাধিক । বিএসএফ এর দাবী তারা চোরাকারবারী দমনে বিভিন্ন সময় গুলি চালাতে বাধ্য হয় । কিন্ত চোরাকারবারী কি শুধুই বাংলাদেশী জনগণ না তাদের দেশের জনগণেরও সংশ্লিষ্টতা আছে যদি থাকে তা হলে এ পযন্ত কতজন তাদের চোরাকারবারীকে তারা হত্যা করেছে। বিএসএফ ও ভারত সরকারের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা উচিত । পাশাপাশি ১৯৬৪ সাল থেকে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করা পাকিস্তানের কয়জন নাগরিক কে এজাতীয় বর্ডারে হত্যা করেছে তাও প্রকাশ করা উচিত । বিশ্বের কোথাও চরম যুদ্ধাবস্থায় ও এধরনের নিরীহ মানুষকে হত্যার নজীর পাওয়া যায় না । এমনকি ফিলিস্তিন সীমান্তে ও না । যেখানে আমরা সবসময় তাদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়াই তারা হত্যার মাধ্যমে বন্ধুত্বের কোন পথ আগাতে চায় আমার বোধগম্য নয়। আমরা কি তবে সবসময় তাদের এই নির্যাতন এর বোঝা বয়ে চলবো ।

গত কয়েকদিন আগে প্রকাশিত এক যুবককে উলঙ্গ করে নির্যাতনের লোমহর্ষক দৃশ্য বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেয়। সভ্যবিশ্বের অগোচরে নিয়মিত যে অসভ্য নেশায় ভারতের সরকার লিপ্ত তা বিশ্ববাসীকে জানানোর সময় এসেছে । কেন আমরা বারবার শুধুমাত্র মিথ্যা বন্ধুত্বের আশ্বাসে আস্বস্থ হব । কেন আমাদের একের পর এক সরকার গুলো নতজানু পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে আমার জানা নেই । ঘৃণা করতে ইচছা করে সেইসব লোকজন কে যারা দেখতে পায়না ফেলানীর যুলন্ত লাশ । যারা দেখতে পায়না বিএসএফ এর হাতে নিহত আব্দুর রহমানের পড়ে থাকা রক্তার্ত লাশ যারা দেখতে পায়না নিয়মিত সীমান্ত অত্যাচারিত এদেশের সীমান্তবাসীকে । ধিক তাদের যারা আমাদের নদী বন্ধ করে ঐ দেশকে ট্রানজিট দিতেও কার্প্যর্ণ করে না ।

বিএসএফ বারবার সীমান্তখুন ও মধ্যযুগীয় নির্যাতন বন্ধের আশ্বাস দিলেও আমাদের ভারতপ্রীতি মূলক পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাস্তবায়ন হয় না । বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশীকে উলঙ্গ করে হাত পা বেঁধে বুট ও লাঠি দিয়ে নির্দয়ভাবে নির্যাতনের ঘটনা পৈশাচিক, বর্বরোচিত, নিষ্ঠুর -এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই ।

বিভিন্ন সময় কিছুলোকের মূখে বলতে শুনি –বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নাকি ভারতের হাতে নিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র স্বাধীন এই দেশের জন্মলগ্ন থেকেই। সে লক্ষ্যেই কি সীমান্তে অবিরাম নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা ও হামলা চালাচ্ছে ? দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কি সত্যিই হুমকির সম্মুখীন ? সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও ভারতের সব অন্যায় দাবির কাছে কেন নিঃশব্দ আত্মসমর্পণ ? যে ভারতীয়রা অবিরাম সব শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেই যাচ্ছে।

এই বিপর্যয় উত্তরণ এর জন্য জাতি হিসাবে আমাদের কে আবার জেগে উঠতে হবে মিডিয়াকে নিতে হবে জোরালো ভূমিকা। গড়ে তুলতে হবে জাতীয় ঐক্য । প্রতিহত করতে হবে নির্মম উপহার ।
[লিংক]

বিএসএফ এর হাতে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে অপহৃত -বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ান ৫৫ বছর বয়সী হাবিলদার লুৎফর।