ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

রাজনীতির মাঠ হঠাৎ করেই সরগরম । দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দল একে অপরের মূখামূখী । সরকারের ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অচরণ অনেকটা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার মত হয়ে গেল না।

গনতন্ত্রের মূলমন্ত্র যদি হয় পরমত সহিষ্ণুতা তবে কি শাসক দল কি গনতন্ত্রের বুলী আওড়াতে আওড়াতে এর সংঙ্ঘা ভুলে গেছেন । বিরোধী দলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচীতে হঠাৎ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কি পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করা নয়।অতীতে আমরা দেখেছি সরকার গুলো যখন জনগণের আস্থা হারায় তখন উল্টাপাল্টা দমন পীড়ন নীতি শুরু হয়। কান্ডজ্ঞান লোপ পেতে থাকে। নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে থাকে । বিরোধী দলের সকল কাজে বিচলিত হয় । সব কিছুতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পায়। নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি করে প্রশাসন এর যাতা কলে পিষ্ঠ করার চেষ্টা করে । পুলিশের হাতে নির্যাতন ও দমনপীড়নের চরমপন্থা হিসাবে লাঠিচার্জ , টিয়ার শেল নিক্ষেপ, গুলি করা বিরোধী দল কিংবা সাধারণ জনগণ হতাহতের ঘটনা সহ ফলাফল- জনগণ ত্যক্তবিরক্ত হয় ও জনদুর্ভোগ বাড়ে । দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় ইত্যাদি ইত্যাদি । রাজনীতির ভাষায় দমন পীড়ন অত্যাচার নির্যাতন– ওটা তো স্বৈরাচারের পথ। শেখ হাসিনা গনতান্ত্রাচার, তিনি কেন সেই পথে যাবেন । অবশ্য বর্তমান বিরোধী দল ক্ষমতায় থাকা কালীন একই ধরনের কাজ করে জনগণ থেকে উপযুক্ত শাস্তি হিসাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারীদল থেকে সংখ্যালগিষ্ঠ বিরোধীদলে পরিনত হয়েছেন । কিন্তু শেখ হাসিনা কেন জানিদুশমনের অনিুরূপ একই কাজ করবেন ।গনমিছিলের কর্মসূচী বিএনপি ঘোষণা করেছে বেশ আগে। তখন ঢাকায় আওয়ামী লীগের কোন সভা সমাবেশের খবর জানা যায় নাই। জানা গেল বিএনপির মিছিলের আগের দিন। আওয়ামী লীগের এই সমাবেশের কর্মসূচী যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনাক্রমে বা তার অনুমোদন নিয়েই ঘোষণা করা হয়েছে তাতো সন্দেহাতীত ।মিছিলে নামকতার আশংকায় ও খোরা ‍উজুহাতে যে ১৪৪ ধারা জারী করেছেন তাও প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনাক্রমে বা তার অনুমোদনক্রমেই।

কথা হচ্ছে বিরোধী দল এধরনের গনমিছিল তো সরকারের তিন বছরে আরো অনেক করেছেন হঠাৎ কেন এমন অসহিষ্ণু অচরন । বেগম জিয়া চার ডিভিশনে চারটা রোড মার্চও করে এসেছেন। আইনশৃংখলার অবনতি। নাশকতার আশংকা। সে আংশকা তো সব সময়ই আছে। নাশকতা ঠেকাতে মিছিল বন্ধ করে দিতে হবে। কত দিন? বিরোধী দল মিছিল মিটিং ডাকলেই যদি নাশকতার আশংকা থাকে তাহলে তো দিন যত যাবে সে আশংকা তত বাড়বে। দিন যত যাবে বিরোধী দলের এ ধরণের কমসূচী ও বাড়বে ।নাশকতার আশংকা তখন আরও বেশী ধাকবে। তাহলে কি বিরোধী দলের মিটিং মিছিল চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। তার অর্থ কি দাঁড়াচ্ছে, রাজনীতির ভাষায় দমন পীড়ন অত্যাচার নির্যাতন। ওটা তো স্বৈরাচারের পথ।

কি দরকার ছিল সেদিন জেলায় জেলায় বিরোধী দলের মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করার। মিছিল মিটিং তো গনতান্ত্রিক অধিকার। সেদিনও করে যেতো। হঠাৎ করে ১৪৪ ধারা, কোথাও কোথাও জারী না করেই বেধড়ক পিটুনী গোলা-গুলি কি প্রয়োজনটা পড়েছিল। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, দোষ চাপানো হবে উচ্ছৃংখল জনতার ঘাড়ে আর সাফাই গাওয়া হবে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে। তাতে কি শেখ হাসিনার সরকারের গায়ে লেপে যাওয়া সৈরাচারী আচরণ মুছে যাবে ফিরিয়ে দিতে পারবেন পাঁচটি তাজা প্রান।বিরোধী পক্ষে জনসমর্থন দেখে মাথা গরম করে ফেলা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এভাবে চলতে থাকলে পাবলিক সাপোর্ট যে হারে কমার কথা তার চেয়ে বেশী দ্রুতগতিতে কমবে।বরং নজর দিন দিন বদলের সনদে পূরণ করুণ প্রতিশ্রুত প্রতিশ্রুতি । যেখানে মূল্যস্পীতী চাপে শেয়ার বাজারের হাহাকারে ,দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে , ছাত্রলীগের অত্যাচারে, সীমান্তে বিএসএফ এর উদ্দত্য পূর্ণ আচরণে দেশবাসী অতিষ্ঠ সেখানে সরকারের এধরনের আর্তঘাতী সিন্ধান্ত নেওয়ার যুক্তি কতটা হাস্যকর আমার বোধগম্য নয়।