ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

১। প্রতিদিন গণমাধ্যমে আমরা একটা নাটকের কিছু অংশ দেখি, নাটকের পুরো অংশটা আমাদের অজানাই থাকে।

২।রেডিও কিংবা টিভির চ্যানেলের সংবাদে কিংবা সংবাদপত্রে নিঃসন্দেহে একটা স্লট প্রতিদিন দখল করে জিনিস পত্রের দাম বাড়া কিংবা দাম বাড়ার ফলে মানুষের যে কী পরিমান কষ্ট হচ্ছে সে সম্পর্কিত খবর। কোন ভিকটিম পিটিসি দেয়, দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তারা পাইকারী, খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযুক্ত করেন। স্বল্প আয় করে এত পয়সা ব্যয়ের ফলে তাদের জীবনযাত্রা কতটা যে কঠিন হয়ে পড়েছে তা অস্রু সম্বলিত চোখে তুলে ধরেন।

৩।কিন্তু এটা কখনো দেখানো হয়না কিংবা জানানো হয় না,বাজারে দাম যাই থাকুক,সকাল ১১ টার মধ্যে বাজারের সব শাক- সবজি শেষ হয়ে যায়।একটু বেলা হলে মাছ তো দূরে থাক মাছের গন্ধ ও পাওয়া যায় না। ঘণ্টায় তিন টা চারটা গরু জবাই পড়ে। দোকানে বিক্রয় প্রতিনিধির ভীড়ে কেনা কাটা করাই মুশকিল হয়ে পড়ে।

৪। তার মানে দুটো হতে পারে,এক বাজারে দু ধরনের ক্রেতা আছে অথবা গণমাধ্যমে আমরা যা দেখছি তা ঠিক না অথবা বানানো। বাজারে দু ধরনের ক্রেতা বলতে আমি বুঝিয়েছি এক পক্ষ মলত্যাগের ভালো আয়োজন করতে ইচ্ছা মত পণ্য কিনছে,দাম যাই হোক না কেন। অন্য আরেক পক্ষের ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে কিনতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তারা আসলেই কষ্টে আছে। গণমাধ্যমে একপক্ষের খবর প্রচার করার ফলে অন্য পক্ষের মানুষ সম্পর্কে সারা জাতি অবগত হচ্ছে না। তারা বঞ্ছিত হচ্ছেন।

৫। অবাক হলেও সত্য এই যে পণ্য গ্রাস কিংবা পণ্যের প্রতি দাসত্বের শিক্ষা আমরা খুব ছোট বেলা থেকেই পরিবার, আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে পাচ্ছি। আমাদের সমাজ আমাদের শিখায় খাও আর হাগো। পণ্য প্রীতির এই মনোভাব আমাদের খুব ছোট বেলায় গড়ে তোলেন আমাদের বাবা মা। আদরের ছলনায় তারা বলেন, বাবা পড় , ঘুমাও, খাও, হাসো, কাদো,পাদো,তোমাকে এটা ওটা কিনে দেব। আমরা দেখি পরিবারে বাবা কিংবা অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতে টাকা পয়সা তুলে দেন, আর বলেন এটা কিনো ওটা কিনো। এমন সময় তারা বাচ্চাদের টাকা পয়সা দেন যখন তারা হয়ত বুঝতেও শিখেনি টাকা-পয়সা কি? বা এর গুরুত্ব।সত্যিই আজব করার মত বিষয় শর্ত দিয়ে কিংবা শরীরে বিনিময় বীজ ঢুকিয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের বড় করছি।

৬। শেষ আজকে বাজার নিয়ন্ত্রনহীন হওয়ার প্রধান কারণ এদেশের ব্যবসায়িক শক্তি লাগামহীন হয়ে গেছে। নীতি নৈতিকতা তাদের ছেড়ে গেছে অনেক আগেই। তাদের ইচ্ছায় অনিচ্ছায় এ দেশ চলছে, রাজনৈতিক দল গুলো তাদের হাতে অনেক আগের থেকেই। আর গণমাধ্যম তো পুঁজির দাসত্ব করে। এদেশের প্রান্তিক কৃ্ষকদের বাজারে প্রবেশ করতে দিলে, দাম নিয়ন্ত্রন কিংবা যে একটি পরিবার কি পরিমান পন্য ক্রয় করতে পারবে সে সম্পর্কে কোন নির্দেশনা থাকলে বাজার নিয়ন্ত্রন সহজ হত।

ছোট বেলা থেকে আমাদের পণ্য দাসী বানানো না হলে আজ অকর্মন্য মন্ত্রীর বাজে কথাও শুনতে হত না।