ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা,লেখক,প্রকৌশলী অভিজিত রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহম্মেদ বন্যার উপর উগ্র সম্প্রদায়িক গোষ্ঠী কিংবা দুর্বৃত্ত যারাই হামলা করুক না কেন, এখনও আইনশৃংখলা বাহিনী তথা প্রশাসন কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি। দায়স্বীকার করে বার্তা দিয়েছে আনসার বাংলা-৭। এভাবে প্রতিদিন প্রগতিশীল লেখক,পাঠক অথবা প্রকাশ্যে খুন হচ্ছে তার একটিও এখন পর্যন্ত প্রশাসন কিংবা দায়িত্বশীর সংস্থা সঠিক খুনিকে চিহ্নিত করতে পারেনি। কেন বা কি কারনে পারছে না?

অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ স্যার,সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, ব্লগার রাজীব হায়দারসহ আরো অনেকে খুন হওয়ার পর কয়েকদিন পত্রিকা কিংবা সংবাদ মাধ্যমে গরম গরম খবর ছাপা হয়। আর টিভিটকশো গুলোতে চলে বুদ্ধিজীবিদের টক,ঝাল,মিষ্টি আলোচনা।তারপর আস্তে আস্তে খুন হওয়া লোকগুলোর নিথর দেহগুলোর মত টক,ঝাল,মিষ্টি সবই নিথর হয়ে যায়। খুন হওয়ার পর পরই গৎবাধাঁ কয়েকটি বুলি আওড়িয়ে প্রশাসন ও সরকারের কর্তাব্যক্তিরা দায়িত্ব শেষ করেন। এবং প্রকাশ্যে কাউকে না কাউকে রাজনৈতিক সন্দেহ করে থাকেন। আমরা আর ২৪ঘন্টা কিংবা ৪৮ঘন্টার আল্টিমেটাম চাই না, আমরা প্রকাশ্যে কাউকে সন্দেহ করতে চাই না, আমরা কোন রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করতে চাই না,আমরা সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং জঙ্গি হামলার কথা শুনতে চাই না,আমরা সরকার এবং প্রশাসন বলতে চাই আমরা এভাবে মরতে চাই না। আমরা লড়াই করে মরতে চাই, সরকার এবং প্রশাসন যদি আমারদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। তাহলে আমদেরকে লড়াই করার অনুমতি দিক, আমরা লড়াই করে মরতে চাই। আমরা চাই খুনি যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় এনে তাকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেওয়া হোক,যেন এই শাস্তি দেখে সকল মুক্তমনা, প্রগতিশীল মানুষ, লেখক, পাঠক তথা সাধারন মানুষ জানুক এদেশে আর একটি মানুষও মৌলবাদি জঙ্গি অথবা দুবৃত্তদের হাতে হত্যার স্বীকার হয়নি।আর যারা হত্যার স্বীকার হয়েছেন তাদের আত্না এই শান্তনা পায় যে আমাকে অপঘাতে হত্যাকারীরা শাস্তি পেয়েছে। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন বলতে পারে আমার স্বজন হত্যার বিচার হয়েছে।তাই বলতে চাই, আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারিন্টি চাই। আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই,আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই।

মহিউদ্দিন (মহি)