ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ নামের ছোট গাছটি আজ বিশ্বদরবারে একটি সফল বটবৃক্ষের ন্যায় দন্ডায়মান। কিন্তুু সেদিনের বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টারা আজ যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে আক্ষেপ করে বলতে আমরাতো এই বাংলাদেশ চাইনি? আমার চেয়েছিলাম একটি সুখী, সম্ধৃদ্ধ বাংলাদেশ। যেখানে থাকবেনা হানাহানি,থাকবেনা কোন অন্যায় অবিচার এবং হবেনা আমার মা বোনদের সম্ভ্রমহানি। গত কয়েক দিন যাবত সারাদেশে তোলপাড় চলছে মাইক্রোবাসে গারো তরুনীর ধর্ষনের খবর নিয়ে। ইতিমধ্যে পত্রিকান্তরে জানতে পারলাম ট্রাকের ভেতর নারী ধর্ষন,মসজিদের ইমাম কর্তৃক ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষন, কলেজের প্রভাষকের কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষন। পত্রিকা এবং বিশেষ করে অনলাইন পত্রিকা খুঁজলে শুধু ধর্ষন আর সম্ভ্রম হানির মহোৎসব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে হারে ধর্ষনের মত অপরাধ বেড়েই চলছে সে হারে তৎপর হতে দেখা যাচ্ছে না, আমার দেশের রাজনীতিবিদ কিংবা প্রশাসনিক আমলাদের। রাস্তায় কিছু সংঘঠন আর বাম সংঘঠনগুলো তাদের মাতম করে যাচ্ছে। এ যেন মহাপ্রলয়, কার কথা কে শোনে। যতদিন না দেশের নোংরা রাজনীতিকে লাগাম টেনে না ধরা হবে, ততদিন এই দেশের প্রত্যেকটা সামাজিক, পারিবারিক এমনকি ব্যক্তি কাজকে রাজনীতির সাথে মিশিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। ’কে’উ কোন অন্যায় করে অপরাধী হলে সে হয়তো ক্ষমতাসীন লোকেদের আত্নীয় হবে, না হয় তার চৌদ্দ গোষ্ঠী এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রান দিয়েছে, নতুবা কোন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ক্যাডার হবে। এই হচ্ছে বর্তমান স্বাধীন বাংলার চিত্র। অন্যদিকে যে ভিকটিম আইনের আশ্রয় চাইতে যাবে,সে হয়তো রাজাকারের আত্নীয় কিংবা জামায়ত শিবিরের লোক হবে। আসলে এগুলো একবারে মিথ্যা প্রলাপ। শুধু মাত্র আপরাধীরা নিজেদেরকে বাাঁচানোর জন্য এই ধরনের কল্পকাহিনীর আশ্রয় নেয়।স্বাধীনতা যুদ্ধে এই দেশের দু’লক্ষ মা বোন ইজ্জত হারিয়েছেন। যাদের ইজ্জতের বিনিময়ে আমার স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠিত। তখনতো পাক বাহিনী এবং তাদের এইদেশীয় দোসরা ছিল,আজতো তারা নেই, তাহলে আজ কেন কোন না কোন জেলায় প্রতিনিয়ত ধর্ষনের খবর আসছে। আজ কেন আমার স্বাধীন বাংলার মায়েরা পহেলা বৈশাখে বর্ষবরনে নিরাপদে যেতে পারছেনা? আজ কেন আমার মায়েরা নিরাপদে বাড়ী ফিরতে পারছেনা? আজ কেন হাসপাতালে রোগীর আত্নীয় স্বজন আনসারের হাতে ধষিত হচ্ছে। কেন? আজ আমার বাংলা মায়ের বুক অব্যক্ত যন্ত্রনায় হাহাকার করছে। আমরা স্বাতীনতা পরবর্তী অনেক আর্জন দেখেছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প,বৈদেশিক রেমিটেন্স,হাজার হাজার কোটি জলার রির্জাভ কিন্তু দেখিনি আমাদের আইন শৃংখলা বাহিনীর সক্ষমতা, দেখিনি কোন একটি বিশেষ সময়ে আইন শৃংখলা বাহিনীর সঠিক পদক্ষেপ। কিন্তু দেখেছি পুলিশের সামনে যৌন হয়রানী হয়েছে,দেখেছি ধর্ষিতা মামলা করার জন্য ধারে ধারে ঘুরতে হয়েছে। এর একটাই কারন আইন শৃংখলার বাহিনী নিজেদের মত করে কাজ করতে গেলে তাদেরকে তৃতীয় হাতের ইশারায় চেপে ধরে।

পরিশেষে এই ধরনের অপরাধীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিয়ে আমার মায়ের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলে কঠোর পদক্ষেপ কমনা করছি।