ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

আজ সকালে হাঁটার সময় হঠাৎ হালকা একটা ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল (হু হু নয়; ফু ফু বাতাস!); এতে শরীর মন জুড়িয়ে যায়। সাথে সাথে মনে পড়ে যায় সেই ছোটবেলার কথা। তখন ছিলাম গ্রামে খোলা প্রান্তুর; ছিল না এত ইট-পাথরের স্তূপ। আমার খুব প্রিয় মুহুর্ত ছিল বৃষ্টি আসার ঠিক আগে আগে প্রকৃতি যখন একধরনের ঠান্ডা হয়ে যেত। বুঝতে পারতাম বৃষ্টি নামার সময় হয়ে আসছে।

14110008

এক দৌড়ে চলে যেতাম ডাকাতিয়া নদী র পাড়ে। বয়ে যেত তুমুল হাওয়া; যেন আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। দুই হাত প্রসারিত করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। প্রকৃতির সেই কি রূপ। আকাশে কালো কালো মেঘের সেই কি দৌড় ঝাপ; তাদের সময় হয়ে এসেছে বৃষ্টির পানি হয়ে আবার মাটির বুকে ফিরে আসার। মাঝে মাঝে আকাশের বুক চিড়ে ছুটে যেত বজ্রপাতের তীব্র আলোর-ঝলকানি। তার নিচে কাকের বাতাসের বিরুদ্ধ উড়ে যাওয়ার প্রানান্ত চেষ্টা; তারাও বুঝি খুব মজা পেত। একসময় বড় বড় ফোটাঁ হয়ে বৃষ্টি নেমে আসতো । সাথে সাথে পুরো প্রকৃতি মাটির সোঁদা গন্ধে ভরে উঠতো; সেই এক মাতাল করা গন্ধ। আর এক দৌড়ে লাফিয়ে পড়তাম নদীতে । কাক ভেজা হয়ে ঘরে ফিরতাম। আর দাদীর হাতের সলার বাড়ি তখন খারাপ লাগলেও এখন দাদীকে অনেক মিস করি । কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করে “মা”কে মনে করে ঘুমিয়ে পড়া।