ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এর জানাযায় অংশ গ্রহণ করতে না পারায় মনটা অনেক খারাপ ছিলো। অপেক্ষায় ছিলাম অন্তত শেষ বিদায় জানাতে কবরস্থান যাবো। নানা জল্পনা কল্পনা শেষে গভীর রাত্রে জানতে পারলাম নুহাশ পল্লীতেই হবে তার কবর। ঘুম থেকে উঠে উত্তরা থেকে নুহাশ পল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেরি হয়ে গেলো। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি। গাজীপুরের হোতা পাড়া প্রধান সড়ক থেকে নুহাশ পল্লীর রাস্তায় উঠে কিছুদূর যাওয়ার পর শুরু হল প্রচন্ড জ্যাম। বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তায় প্রচুর কাঁদা। কিছুদূর যাওয়ার পর আর যেতে পারছি না। মোটর সাইকেল নিয়ে গিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না । হাজার হাজার মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে, কাঁদা পাড়িয়ে হাঁটছে তো হাটছে। হতভম্ব হয়ে গেলাম। রাস্তায় দাঁড়ানোর মতো জায়গা নেই। গাড়ী সব থেমে আছে। যারা অপর প্রান্ত থেকে আসছে তারা শুধু বলছে মোটর সাইকেল নিয়ে যেতে পারবেন না, হেঁটে যান।

প্রথমে এসব কথায় কান না দিয়ে কষ্ট করে একটু একটু করে এগোচ্ছি কিন্তু আর পারলাম না, বৃষ্টিও আরো জোরে নেমেছে, জানাযাও মিস হবে, এই ভেবে গ্রামের এক বাড়ীর আঙ্গিনায় মোটর সাইকেল রেখে পায়ে হেঁটে রওনা দিলাম। হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে, লাল আঠালো কাঁদা, কিন্তু তখন কোন কষ্টই কষ্ট মনে হচ্ছিলো না। শুধু মনের ভেতর তাড়া ছিলো কখন পৌছাবে নুহাশ পল্লী। হাঁটছি আর ফিল করছি, কোন মৌন মিছিলে আছি। সবাই দলবলে হাঁটছি। এক সময় পৌঁছালাম নুহাশ পল্লী। কিন্তু দুঃখ জানাযা শেষ হয়ে কবরে শুয়ে দিয়েছেন আমাদের প্রিয় হুমায়ুন আহমেদকে। শুধু মোনাজাত পেলাম, আর তার কবরে একটু মাটি দিতে পারলাম। এটাই আমার সব কষ্ট-দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে। নুহাশ পল্লীর ভেতর তখনও প্রচুর মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন তাকে। মিডিয়া, তারকা,ভক্ত সবাই বৃষ্টিতে ভিজছেন আর তার স্মৃতিচারণ করছেন। ভক্তের সংখ্যা কমছে না। বাংলার মানুষ হুমায়ুন আহমেদ কে কতোটা ভালবাসেন তা আজকে নুহাশ পল্লীতে এসে দেখতে পেলাম। কতো কষ্ট করে দূর দূরান্ত থেকে হেটে হেটে তার ভক্তরা আসছেন। কারো মুখে কোন ক্লান্তি বা বিরক্তির ছাপ নেই। এটাই আসলে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

হুমায়ুন আহমেদ কোটি কোটি ভক্তদের মাঝে বেঁচে থাকবেন আজীবন। আপনাদের সবার উদ্দেশ্যে নুহাশ পল্লী গিয়ে উঠানো কিছু ছবি শেয়ার করলাম।