ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

ঈদ কার্ড এর প্রচলন এখন সম্ভবত খুব একটা নেই। মোবাইল আসার পর থেকে এই দারুণ জিনিসটির প্রচলন একেবারেই বিলুপ্তির পথে। সেসময় ঈদ এলেই ঈদ কার্ড নিয়ে কত মাতামাতি, কার্ড সংগ্রহে কত ছোটাছুটি!

আনাড়ি হাতে লাইন মিলিয়ে মিলিয়ে লেখা দারুণ সব পদ্য, হাতের লেখায় মন জয় করার চেষ্টা, কার্ডের ভাজে দেয়া ছোট্ট চিরকুট, ব্যাপারটা আসলেই দারুণ ছিলো।

‘টিনের চালে সাদা বক, তোমাকে জানাই ঈদ মোবারক’, ‘আসবে কিন্তু বাড়িতে, বসতে দেব পিঁড়িতে…, – এরকম অসংখ্য লাইন লিখে দাওয়াত দেয়া হতো বন্ধুদের। মিলিয়ে মিলিয়ে লাইন লেখার জন্য, কত শত চিন্তা, নতুনত্ব খোঁজার কত শত চেষ্টা! চিন্তাও করতে পারিনি এত তাড়াতাড়ি ঈদ কার্ড একেবারেই হারিয়ে যাবে।

52_EID+card_30062016_0003

পাড়ার সৌখিন আর বেকার ছেলেদের অল্প পুঁজিতে ঈদ কার্ডের দোকান দিয়ে দারুণ ব্যবসা, সেখানে টিনএজার আর তরুণদের ভিড়, সাজিয়ে রাখা দারুণ সব কার্ড আর ক্যালেন্ডার। নায়ক নায়িকার ছবি, কিংবা নেতা নেত্রীর ছবি, ক্রিকেটার থেকে গুণী ব্যক্তিত্বের ছবি, নীতিবাক্য থেকে প্রেমকাব্য সবকিছুই থাকতো এই ছোট্ট অস্থায়ী দোকানগুলোতে।

ঈদ কার্ডে প্রেম নিবেদন নিয়ে কত শত কাহিনী, বইয়ের ভাজে ঈদ কার্ড ঢুকিয়ে দেয়া, কেউ কেউ স্যারদের জানিয়ে দিলে সেটা নিয়ে শাস্তি, কার্ডের লেখা পড়ে পড়ে সবার কি অট্টহাসি। এসব কি আর এসএমএস আর ভার্চুয়াল ঈদ কার্ডে পাওয়া যায়?

চিঠি হারালো, ঈদ কার্ড হারালো। ঈদের আনন্দও আস্তে আস্তে হারাচ্ছে বোধ হয়। বড় হয়েছি বলে নয়, এখনকার ছোটদের দেখি। কেমন যেন তারা প্রযুক্তিতে আটকে গেছে, স্বার্থপরতা ছোট থেকে আকড়ে ধরেছে। একটা নতুন জামা আর দুই কিংবা পাঁচ টাকার নতুন নোট হলেই আমাদের আনন্দের সীমা থাকতো না। এখনও কি সেটা আছে?

ঈদের চাঁদ দেখতে বিকেল থেকে উঁকি মারা, চাঁদ দেখলেই সে কি আনন্দ, ছোটাছুটি, গাছের মেহেদি বেটে হাতে লাগানোর উৎসব, কাউকে না দেখিয়ে পাটির নিচে ভাজ করা নতুন জামা, আরো কত কি!

সেসময় হয়তো মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা এত প্রযুক্তি ছিলো না, কিন্তু আবেগ, ভালোবাসা, আন্তরিকতা, আনন্দের একটুও ঘাটতি ছিলো না। আমাদের ছোটবেলার ঈদ কিংবা ঈদ কার্ডের সময়কার ঈদ সত্যিই দারুণ ছিলো।