ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আমরা সবাই দুর্নীতির বিপক্ষে বড় বড় কথা বলি, এনিয়ে কলাম, প্রবন্ধ লিখছি কিন্তু আমরা কী সত্যিই দুর্নীতি মুক্ত হতে পেরেছি বাস্তবিকভাবে। আমাদের কর্ম, আমাদের অর্থ উপার্জনে, আমাদের বাস্তবিক চলার পথে? না পারিনি। পারিনি সত্য কথা বলতে, পারিনি প্রতিবাদ করতে, না পরিনি অন্তর হতে পবিত্র। আমরা সবাই বলি এক, আর কাজকর্মে করি এক। সে রকম একটি লেখা আমি এখানে তুলে ধরব আশা রাখি আমার প্রাণ প্রিয় ব্লগ টিম এটিকে কবিতা আকারে না নিয়ে প্রচার করার জন্য উদ্দ্যোগ নেবেন। দয়া করে প্রকাশ করবেন। এই লেখাটি নিম্নে লিখিত হল।

দুর্নীতিতে আমার নিরবতা – মহা অন্যায়

লেখক ডক্টর আব্দুর রহমান খোকন
সাবেক এমপি , বরগুনা – ১

আমিতো স্বাধীন দেশের নাগরিক,
দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন;
প্রতিরোধ করা আমার দায়িত্ব,
আমার নিরবতা আমাকে সব ভুলিয়ে দিয়েছে।
স্বাধীন বাংলায় মানবতাবিরোধীদের পক্ষেও দেখি কঠিন অবস্থান,
এ’ লজজা স্বাধীনতার,এ’ লজজা মা মাটি মানুষের।
দুর্নীতিবাজরা গড়ছে সম্পদের পাহাড় ,
মেহনটী, শ্রমজীবী মানুষেরা হচ্ছে সর্বশান্ত,
দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন-
বিস্তৃত হচ্ছে দিনে দিনে অধিকতর ।
শোষকের শোষণমাত্রা হচ্ছে ভীষণভাবে সম্প্রসারিত,
শোষিত- বঞ্চিত মানুষের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে,
বেকারদের হাহাকার বাড়ছে অবিরাম,
বেহায়াদের বেহায়াপনা হচ্ছে লাগামহীন।
অন্যায়- অনিয়ম মেনে নেওয়াতে আজ আমি ভীষণ অভ্যস্ত,
ধীরে ধীরে আমার ভিতরকার সত্যের মৃত্যু হচ্ছে।
আমার হৃদয়ের জাগ্রত দেবতাকে মারছি পলে পলে,
অমিত আর মানুষ থাকছিনা,
আমিতো নিশ্চিত পশুতে পরিণত হচ্ছি।
ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্ত্বা আমাকে ঘৃণা করছে,
নিজ স্বার্থ রক্ষায় আজ আমি ভীষণ অন্ধ্ব,
আজ মানবতা – মানবিকতা উপহাসের বস্তু।
ন্যায় অন্যায়ের মাঝে আমি কোনও ফাঁক দেখিনা,
ধর্মের কথা হয়েছে আমার অকর্মের রক্ষা কবচ,
রাজনৈতিক দলের সদস্য বলেইত-
আমি আজ দেশপ্রেমিক।
আমি আজ নীতি নৈতিকতার লালনের চেয়ে ক্ষমতাকে ভালবাসি;
স্বার্থের ঠুলিতে আজ আমার চোখ বাঁধা,
আজ আমি শ্রেষ্ঠ জীব নই,
পশুর রাজা হয়ে গেছি।
রাষ্ট্রের ব্যাংক ভুয়া এল,সি খোলে,
ভেজাল খাদ্যে সয়লাব বাজার,
মৃত্যু হচ্ছে অসংখ্য শিশুর।
শিক্ষা নয় চলছে সার্টিফিকেট লাভের মহড়া-
সার্টিফিকেটের আলখেল্লায় ভরপুর আমার শরীর।
আজ অমি দেশকে ভালবাসি না –
ভালবাসি নিজকে,
আজ আমি শপথ পড়ি না-
দেখি স্বপথ।
খাদ্য গুদামে খাদ্য মজুদ করে-
অমি অনাহারীদের আর্তনাদ দেখি,
ক্ষুধার্ত তরুণীর উলংগ শরীর দেখি অমি,
ভীষণ ভাললাগে আমার,
খুব আনন্দ পাই অমি।
জনসেবার নামে জনতার সর্বনাশ করছি অহরহ।
হে চির সত্য জাগ্রত ভগবান –
তুমি আমার নিরবতা ভঙ্গ কর,
তুমি আমার হৃদয়ে সত্যের অগ্নিমশাল জ্বালো
তুমি বলে দাও জীবন বড় নয়, কর্ম বড়।
তুমি বলে দাও ধন সম্পদ অর্জনয় জীবন নয়,
সত্যয়ের লালন- পালন জীবন, মানবধর্ম।
তুমি বলে দাও অসত্য – অন্যায় কে মানবে না –
তুমি বলে দাও অসত্য -অন্যায় মেনে নেওয়া মহা অন্যায়।
তুমি আমায় শক্তি যোগাও, সাহস যোগাও –
আমি যেন আমার নিরবতা ভাঙতে পারি,
গড়তে পরি সুন্দর মানুষ সরোবর।

আমাদের চলা-ফেরা, কথা-বার্তা, মৌখিক কথা, খাতা-কলম এ বিভিন্ন যে লেখালেখি করি তার সংগে বাস্তব জীবন দর্শন ঠিক রাখা চায়। আমরা যত বলি দুর্নীতির বিপক্ষে কথা আমরাই কিন্তু দুর্নীতির সহিত জড়িত এতে 99.99% সত্য কথা। দেশের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর, পেশার মানুষ দুর্নীতিতে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। হইত সংখ্যা অধিক বেশি এবং অতি কম আছে।
দুর্নীতি আমাদের জাতীয় জীবনে অভিশাপ এর উপর অনেক অনেক সেমিনার, সভা ও জনগণকে সজাগ করার জন্য প্রচুর হয়, এবং হচ্ছে এই গুলিতে গলা চিত্কার করে দেশের বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ,শিক্ষক, আমলা, সরকারী -বেসরকারি বিভিন্ন শ্রেণীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জনগণকে সজাগ করেন। কিন্তু বাস্তব হলো ইনারায় বা তাঁরাই এই দুর্নীতির সহিত অধিক হইতে অধিকতর জড়িত। যার কারণে দুর্নীতি রোধ কোনরকমে সম্ভব না।

আমার কথা হলো দুর্নীতি করে দেশের উর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ সাধারণ জনগণ না। দেশের এখনো 60 ভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর তারা দুর্নীতি করেই না এবং জড়িত হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আবার বাকি 40 ভাগের 25 ভাগ অধীনস্থ উদ্বর্ত্তনের তার অর্থ হচ্ছে বাকি উর্ধ্বতন মানুষ দুর্নীতি করেন এবং এরাই দুর্নীতি করতে বাধ্য করেন অধস্তনদের আর যদি তাই না হবে তারা উত্সাহিত করেন নিচের কর্মকর্তাদের কারণ তার নিরুত্সাহিত করলে বা বন্ধ করলে দুর্নীতি হবেই না। অধস্তন কখনো সাহস পাবে না উর্ধ্বতন কড়া হলে।