ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

আমার বাবা-মার প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই, কী দিয়েছেন কী দেননি ইত্যাদি বিষয়ে। উনারা যা আমাদের জন্য করেছেন তাতে আমি যারপর নাই খুশি। কিন্তু আদর্শিক কোন ব্যাপারে ত্রুটি হলে আমি ছেড়ে কথা বলি না। যেমন আমার মা এক সময় আলমডাঙ্গা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বিদ্যাউৎসাহী সদস্য ছিলেন। পরিচালনা পর্ষদের সেই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আমার বন্ধুপিতা ডাঃ আব্দুল হামিদ। আমার আব্বা খুব বিদ্যানুরাগী হলেও কোন সময় জন-প্রতিনিধিত্বমূলক কোন কাজে নিজেকে জড়িত করেননি। মাকে পাঠিয়েছিলেন, আর এ কাজে ইন্ধন ছিল ডাঃ আব্দুল হামিদ সাহেবের। ডাক্তার সাহেবের পরিবারের সাথে আমাদের খুবই সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। উনার বড় মেয়ে আমার বড় বোনের সাথে পড়তো, উনার এক মেয়ে ও এক ছেলে আমার সাথে পড়তো। আপনারা বলবেন আমার মা খারাপ কি করেছিলেন উনি বিদ্যায় উৎসাহ দান করেছেন, মহৎ কাজ। মা যখন বিদ্যা-উৎসাহী সদস্য ছিলেন তখন বুঝিনি, কারণ আমি পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। কিন্তু এখন বুঝি তাঁর এই কাজে যাওয়া উচিৎ ছিল না।

আপনারা কি জানেন আলমডাঙ্গা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন একজন রাজাকারের দোসর, স্বাধীনতা বিরোধী? উনি জনাব লথাফত হোসেন। উনি যে একজন স্বাধীনতা বিরোধী একথা আমাকে আলমডাঙ্গা থানা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জনাব আব্দুল হান্নান বলেছেন এবং উনার বইতে তা লিখেছেন বলে জানিয়েছেন। আমাকে আলমডাঙ্গার আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা বলেছেন এই রাজাকারের দোসর লথাফত হোসেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে একটা বাড়ি দখল করেছিলেন। তারপর নাকি উত্তরার ওদিকে কোথাও চলে যান। এই ভদ্রলোক যে স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন তার প্রমাণ পেয়েছি বুখারেষ্ট থাকা অবস্থায়। উনার এক শ্যালক অথবা চাচাত শ্যালক, সাবেক সেনাবাহীনি সদস্য এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দোসর এই সময় বাংলাদেশ দূতাবাস রোমানিয়াতে কর্মরত ছিল। এই সময়ে বঙ্গবন্ধুর এক খুনি কর্ণেল পাশা বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব ছিল। জনাব লতাফত সাহেবের শ্যালক বললেন যে জিয়া এবং বিএনপি দেশটাকে বাঁচিয়েছে ইত্যাদি। উনার দুলাভাই স্বাধীনতার আগে পরে সব সময়ই আওয়ামী লীগ বা শেখ মুজিবকে ঘৃনা করেছেন ইত্যাদি। সেদিন যে কি কষ্টে এই সব হজম করেছিলাম তা আপনাদের বোঝাতে পারবো না। তখন আমার হাত পা বাধা ছিল, বাংলাদেশ দূতাবাসটা সে সময় খুনিদের আঁকড়া ছিল। আর একজন জার্মান প্রবাসী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী খান আমাকে বলেছেন যে লতাফত হোসেন স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল একজন মানুষ।

যে সময়ে লথাফত হোসেনের মত মানুষ আলমডাঙ্গা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন, তখন আমার মা সুফিয়া জোয়ার্দার এবং ডাঃ আব্দুল হামিদ সাহেবের কি উচিত হয়েছিল পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিত্ব করা। যেখানে উনারা কোন পদক্ষেপই নিতে পারেননি ওই স্বাধীনতা বিরোধীর বিরুদ্ধে। কর্মজীবনে একজন শহীদের সহযোগী ছিলেন ডাঃ আব্দুল হামিদ। এটা সেই সময়ে উনি কেন ভুলে গিয়েছিলেন আমার বোধগম্য না। উনি এই কাজের মধ্য দিয়ে মরহুম ডাঃ বজলুল হক সাহেবের আত্মাকে কতটা আঘাত করেছেন তা কি অনুভব করতে পারেন? আমি মনে করি অবশ্যই না। ডাঃ আব্দুল হামিদের কথা কি বলবো মরহুম ডাঃ বজলুল হক সাহেবের এক ছেলেই নাকি চুয়াডাঙ্গার সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো মোজাম্মেল হকের মেয়েকে বিয়ে করেছেন। তথ্যটা ডাঃ রওনক তুহিন ভাইয়ের লেখায় পড়েছিলেম যা এখন আমাদের আলমডাঙ্গা গ্রুপ থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও এই লথাফত হোসেনের কাছে আলমডাঙ্গার একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বাবা প্রতিদিন মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, অপমানিত হয়েছেন মাঝে মঝেই। সে ব্যাপারেও এই পরিচালনা পর্ষদ কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। দ্রুত এই শত্রুদের ভুলে যাবার কারণে সমাজের অনেক ক্ষতি হয়েছে। যার কারণে কারো চোখে পড়ে না বঙ্গবন্ধুর দেওয়াল চিত্রও জেলবন্দী! শহীদের পরিবার হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসাবে ডাঃ আব্দুল হামিদের চোখে প্রথম পড়ার কথা ছিল যে, এই দেওয়াল চিত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মানিত করা হয়েছে। কারণ এই দেওয়াল চিত্র উনার বাসস্থানের উল্টোদিকে।

যে ভবনের সামনে এই দেওয়াল চিত্রটি স্থাপন করা হয়েছে এটা জনগণের জন্য উন্মুক্ত কোন স্থান না। আপাতত এটা মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যক্তিগত সম্পদ। এই জাতীয় স্থাপনা অবশ্যই জনগণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে হওয়ার কোন বিকল্প নেই। যাতে জনগণ বিশেষ দিনগুলোতে বা তাদের মনোবাসনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা-ভালবাসা জানাতে পারে।

আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের এই ভবনের যে নকশা তাতে এর সামনে বঙ্গবন্ধুর দেওয়াল চিত্রটি স্থাপনে উনাকে সম্মানিত নয় বরং অসম্মানিতই করা হয়েছে। এই ভবনের সামনে মুখোমুখি দাঁড়ালে বাম দিকে বঙ্গবন্ধুর দেওয়াল চিত্রটি স্থাপন করা হয়েছে। এই ভবনের জটিল নকশার কারণে ডানদিক থেকে ওখানে যে এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে কেউ বুঝতেই পারবে না। তাছাড়াও পুরো ভবনটি গরাদ বা বেড়া দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে বঙ্গবন্ধুর ছবিটাকে জেলেবন্দী করে রাখা হয়েছে।

আমি জানিনা কে এই দেওয়াল চিত্রটা ওখানে স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে, কোন সংস্থার অর্থায়নে এটা হয়েছে। যদি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিজস্ব অর্থায়নে এটা হয়ে থাকে তারপরও তারা এটা করতে পারেন না। বঙ্গবন্ধু কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি না, বঙ্গবন্ধু দলমত নির্বিশেষে সবার। যারা বর্তমানে আলমডাঙ্গায় বসবাস করছেন কারো চোখে এটা পড়লো না আমার খুবই আশ্চর্য লাগছে। আলমডাঙ্গায় আমাদের সময়ের বা একটু বয়সে বড় যারা ছিলেন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পরিক্ষিত বঙ্গবন্ধু ভক্তকে আমি জানি। এরা হলেনঃ স্বপন চৌধুরী, রওনক তুহিন, জাহিদ হোসেন নজরুল, জামসেদুল মুনি, মোঃ তাহাজ আলী তাছাড়া তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাহিদ হাসান মুন্না ও খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান এরা দু’জন আবার ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের নেতাও এদেরও কারো চোখে পড়লো না। এদের কেউ একটা প্রতিবাদ করতে পারল না, ফেসবুকেও তো দু’কলম লেখা যেত। এবার বিজয় দিবসে এখানে আলোকসজ্জা হয়নি বলে পিন্টু রহমান আক্ষেপ করে একটা নিবন্ধ লিখেছেন সেখান থেকেই আমি প্রথম এই দেওয়াল চিত্রটা দেখি।

এর আগে আমার বন্ধু হাসিবুল হক রতন অবশ্য এই দেওয়াল চিত্র নিয়ে লিখেছিল। কিন্তু সেখানে কোন ছবি ছিলনা। রতনের বিষয় ছিল আলমডাঙ্গাতে বঙ্গবন্ধুর একটা দেওয়াল চিত্র আছে আর একটা ভাস্কর্য বানিয়ে চার তলার মোড়ে যানজট তৈরি করা ঠিক হবেনা। সেটা আমি সমর্থন করেছিলাম। কারণ তখন আমি জানতাম না এই স্থাপনার এই করুণ অবস্থা। এখন আমি মনে করি কোন একটা উন্মুক্ত স্থানে বঙ্গবন্ধুর একটা ভাস্কর্য স্থাপন করা উচিৎ।

এব্যাপারে আমি বেশ কয়েকজনর সাথে কথা বলি। আমি যাদের সাথে কথা বলি উনারা হলেনঃ ১. প্রাক্তন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কুদ্দুস, ২. প্রাক্তন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সফিউর রহমান জোয়ার্দার, ৩. মুক্তিযোদ্ধ নুর মোহাম্মদ জকু, ৪. মুক্তিযোদ্ধ গোলাম মোস্তফা দুলাল, ৫. মুক্তিযোদ্ধা রবিউল, মুক্তিযোদ্ধা সবেদ আলী, ৬. মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী খান, ৭. মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার নাসির উদ্দিন মঞ্জু, ৮. মুক্তিযোদ্ধা মনিদ্রনাথ দত্ত, কেন আপনারা বঙ্গবন্ধুকে জেলবন্দী করলেন আবারও। উনারা কেউই আমাকে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। কেউ কেউ হিসাব কষেছেন কে এই সময় থানা কমান্ডার ছিলেন ইত্যাদি। কার প্রশাসনিক আমলে এটা হয়েছে। যাদের সাথে আমি কথা বলেছি তাঁরা অবশ্য একবাক্যে স্বীকার করেছেন এটা ঠিক হয়নি।

আমি খুব শক্ত করে ধরেছিলাম খন্দকার নাসির উদ্দিন মঞ্জু (উকিল) কে। উনি বললেন কর্তৃপক্ষ এটা করেছে। আমি প্রায় উনার সাথে একঘণ্টার উপরে কথা বলি উনি কোন ব্যাপারে আমাকে খোলা খুলি কোন কথা বলেননি। আমার মনে হয়েছে উনি চাপের মধ্যে আছেন। আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এটা যে একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল সেটা যখন মানছেন তাহলে একটা সংবাদ সম্মেলন করে কেন এর প্রতিবাদ করলেন না। এর কোন সন্তোষজনক উত্তরও উনি আমাকে দেননি। যে সময় রাজনীতিতে জড়িত ছিলাম সেই সময়ের মঞ্জু চাচা আর আজকের মঞ্জু চাচাকে আমি মেলাতে পারিনি। তবে যখন উনি আমার সাথে কথা বলেছেন স্নেহের কোন কমতি ছিল না। উনি আমার মেজ চাচার বন্ধু ছিলেন তাছাড়া আমাদের পারিবারিক বন্ধুও।

বঙ্গবন্ধুর দেওয়াল চিত্রটিতে বিশেষ দিনে আলোকসজ্জা করার চেয়ে জরুরী এটাকে উন্মুক্ত করা পুরোপুরি জনগণের জন্য। আলোকসজ্জা না হলেও সেখানে আমরা মোমবাতি জ্বালাতে পারি। আমাদের বিদ্যুৎ স্বল্পতার কথাও মাথায় রাখতে হবে। যদি এটা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আলমডাঙ্গার ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে থাকে তাদের উচিৎ হবে এটাকে গরাদের বাইরে একটা বেদী তৈরি করে সেখানে স্থাপন করা। কারণ এটা এখন যেভাবে স্থাপন করা হয়েছে তা মাটি থেকে সামান্য উঁচুতে। একারণে অসাবধানতা বশত অনেকের পা লাগতে পারে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর দেহের নীচের অংশ এখানে অনেক বেশী দেখানো হয়েছে। এটা আবক্ষ হওয়ায় বোধহয় উচিৎ ছিল। এক্ষেত্রে সে সব ব্যক্তি এটা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন তাদের উচিৎ ছিল ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের দেওয়াল চিত্রটি দেখে নেওয়া তাহলে খুব সহজেই এই সকল ত্রুটি এড়িয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ রাখা যেত।

এই দেওয়াল চিত্রের ব্যাপারে আমি যতজনের সাথে কথা বলেছি এরমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম আমাকে খুবই সাহসিকতার সাথে সব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিয়েছেন এবং আমাকে বলেছেন আমি উল্লেখ করতে পারি যে এ সকল তথ্য আমি উনার কাছ থেকে পেয়েছি। ঠিক একই রকম ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধা সবেদ আলীও, আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমাদের কথার একটা রেকর্ড কি আমি রাখতে পারি উনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন। আমি প্রত্যেকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের পর নিশ্চিত হয়ে নিয়েছি যে উনার কাছ থেকে তথ্য পেয়েছি এটা আমি উল্লেখ করতে পারি কিনা। উনি আমাকে সম্মতি দিয়েছেন। জনাব সবেদ আমাকে বলেছেন শুরুতেই উনি এটার প্রতিবাদ করেছিলেন যে, বঙ্গবন্ধুর দেওয়াল চিত্রের জন্য এটা সঠিক জায়গা না। কিন্তু যে প্রকৌশলী এটা করেছে সে কর্ণপাত করেনি। আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনি কি এর আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিবাদ করেছিলেন, কোন সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস রিলিজ এ জাতীয় কিছু, এ প্রশ্নটা আমি প্রায় সবাইকে করেছি যারা আলমডাঙ্গা আছে। কিন্তু কেউ সে কাজটা করেনি। আমি উনাদেরকে বলেছি তাহলে আপনারা কেমনে প্রমান করবেন যে আপনারা প্রতিবাদ করেছেন বা আমরা কেন আপনাদের বিশ্বাস করবো যে আপনি এর প্রতিবাদ করেছেন? এর কোন উত্তর উনাদের নেই।

এই ব্যাপারে আমি যখন অনুসন্ধান শুরু করি তখন যাদের সাথে কথা বলি তাঁরা আমার ছোট চাচার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। যে উনি থানা কমান্ডার থাকা অবস্থায় এটা হয়েছে। আমি তাদেরকে প্রশ্ন করেছিলাম যে একজন থানা কমান্ডার কি এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আইন বা সংবিধান কি এতই স্বৈরাচারী যে কমান্ডারকে এত ক্ষমতা দিয়েছেন। তখন তাঁরা অবশ্য বলেছেন না তা ঠিক না। নির্বাচিত সকল সদস্যবৃন্দ মিলে যে সিদ্ধান্ত নেন সেই অনুযায়ী কাজ হয়। এর অর্থ দাঁড়ায় আমার চাচার একক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ স্থাপনা তৈরি হয়নি। তারপরও উনি যেহেতু কমান্ডার ছিলেন এর দায়-দায়িত্ব কমবেশি উনার ঘাড়ে বর্তায়। হ্যাঁ উনার মত একজন বঙ্গবন্ধু ভক্তের কাছ থেকে এটা কারো কাম্য না। যদি উনি কোনো চাপের মুখে বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতির কারণে এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে উচিত ছিল একটা সংবাদ সম্মেলন করে সব গোমর ফাঁস করে দেওয়া এবং পদত্যাগ করা। যেহেতু সেটা উনি করেননি সে ক্ষেত্রে জনগণ তার কাছে কৈফিয়ৎ চাইতেই পারে।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কুদ্দুস সাহেব আমাকে বলেছেন ভবিষ্যতে উনি নির্বাচিত হলে বঙ্গবন্ধুর দেওয়াল চিত্রটিকে উন্মুক্ত করে দেবেন। সরকার ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছেন। এখন একটা অস্থায়ী পর্ষদ গঠন হবে। অতএব কবে কে নির্বাচিত হবে সে জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকতে পারি না। অনতিবিলম্বে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হোক না হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিক।

আমি মনে করি সকল মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা তথা দেশবাসীর উচিৎ বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও জেলখানার রোজনামচা বই দু’টো পড়া। তাহলে সকলেই বুঝতে পারবেন যে, কত ত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ আর কত কষ্ট অত্যাচার বঙ্গবন্ধু আমাদের জন্য করেছেন।

আমার এক নিবন্ধে আমারা বন্ধু ফজলে রহমান মিলনের এক মন্তব্যের উত্তরে আমার বড় বোন লিখেছিল আমলারা নাকি সবসময়ই একটু বেশী বুদ্ধিমান হয়। সেদিনও হেসেছিলাম আজও আবার হাসছি, তবে এর উত্তর দিইনি। আমলাদের বউদের এই এক সমস্যা। তবে কূটবুদ্ধিতে আমলাদের জুড়ি নেই। যাই হোক আমি আলমডাঙ্গার সর্বোচ্চ আমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে টেলিফোন করেছিলাম বঙ্গবন্ধুর এই দেওয়াল চিত্রের ব্যাপারে। আমি উনাকে আমার অভিযোগ গুলো জানিয়ে উনাকে প্রশ্ন করেছিলাম উনি কি মনে করেন এই দেওয়াল চিত্রটি কি সঠিক জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে? উনি আমাকে বললেন, “উনি নতুন এসেছেন আর এ স্থাপনা মনে হয় দু’/তিন বছর আগে উদ্বোধন করা হয়েছে, আর মন্ত্রণালয় থেকে মনে হয় এটা অনুমোদন করা হয়েছে। উনি আমাকে বোঝালেন উনি একজন সিভিল অফিসার, উনি তো নকশা করেননি, যারা নকশা করেছে এটা তাদের এখতিয়ারে ইত্যাদি। আমি উনাকে বললাম, দেখেন এগুলো আমার অজানা না যে আপনি একজন সিভিল কর্মকর্তা এবং এই স্থাপনার দায় দায়িত্ব কোনভাবেই আপনার না। আমি ব্যক্তিগত কোন ক্ষোভ নিয়েও আপনাকে ফোন করিনি। আমি উনাকে জানালাম যে, আমি জানি আপনি ১৬ই ডিসেম্বর এই স্থাপনায় সম্মান জানাতে গিয়েছিলেন এবং তখন আপনার সাথে আইনজীবী খন্দকার নাসির উদ্দিন মঞ্জু ছিলেন। আপনার কি মনে হয়নি যে এ দেওয়াল চিত্রটা সঠিক স্থানে স্থাপিত হয়নি বা এ স্থাপনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা হয়েছে। একজন চৌকস কর্মকর্তা হিসাবে আপনি কি মনে করেন?

উনি রাজনীতিবিদদের মত আমাকে বোঝালেন যে, কেউ হয়তো বা অসম্মান করতে পারে রাতের আধারে। আপনারা জানেন কিছু দুষ্কৃতিকারী তো থাকে এবং ছিল, এসব বিভিন্ন কারণে মনে হয় ওইটা করা হয়েছে। তারপরও আমার যদি কোন আপত্তি থাকে তাহলে মন্ত্রণালয়ে আমাকে অভিযোগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় হয়তো বা ব্যবস্থা নিতে পারে। আমি অবাক হয়েছিলাম উনার কথা শুনে, দুষ্কৃতিকারীর ভয়ে এটাকে গরাদের মধ্যে রাখা হয়েছে। আমার প্রশ্ন তাহলে প্রশাসন কি করে বা করবে যে তারা বঙ্গবন্ধুর এই স্থাপনাকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। আর এখন যেখানে স্থাপনাটি তা যে দুষ্কৃতিকারীর নাগালের বাইরে তা তো না। মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করার পর তারা যদি ব্যবস্থা নেয় এবং উন্মুক্ত করে দেয় তখন এটার নিরাপত্তার কি হবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কি বলবেন আমাকে? আমি উনাকে বলেছিলাম যে যদি আমি অভিযোগটা আপনাকে করি আপনি কি এটা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেন না। উনার উপদেশ যেহেতু তৈরী হয়ে গেছে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হয়ে গেছে সেহেতু উনি এ বিষয় নিয়ে আর প্রশ্ন তুলতে পারেন না। অতএব আমাকে মন্ত্রণালয়েই অভিযোগ করতে হবে। এর অর্থ উনি প্রজাতন্ত্রের সেবক বা কর্মচারী বা কর্মকর্তা না, উনি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী আর ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কোন রাজাকার। তা নাহলে বঙ্গবন্ধু যেখানে অসম্মানিত সেখানে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কথা বলতে ভয় পাবে কেন। এরপর উনি আমাকে লিখিত অভিযোগ করতে বললেন বা আমার পক্ষে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে এ বিষয়টা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায় কিনা ডি.সি. সাহেবের সাথে পরামর্শ করা সিদ্ধান্ত নেবেন।

আমার প্রশ্ন ছিল উনার কাছে আপনি কি স্বপ্রনোদিত হয়ে কিছু করতে পারেন না? উনি জানালেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে সেটা উনি করতে পারেন না। আমি উনাকে বলেছিলাম, আপনি এই উপজেলার হর্তাকর্তা আর যখন কোন নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকে তখন কিন্তু আপনিই সর্বেসর্বা। তারপরও আপনাকে মন্ত্রণালয়কে ভয় করতে হবে, যেখানে বঙ্গবন্ধু অসম্মানিত। উনি আমাকে বললেন, ” বঙ্গবন্ধু তো আমার কাছে মনে হচ্ছেনা অসম্মানিত। আপনার কাছে যেহেতু মনে হচ্ছে, আপনি এই অভিযোগগুলো দেন। এরপর আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করি আপনি তাহলে মনে করছেন এটা সঠিক জায়গায় হয়েছে, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারণে? এ প্রশ্নের কোন উত্তর উনি না দিয়ে আমাকে বললেন আপনার যদি মনে হয়ে থাকে তাহলে অভিযোগ করেন। তখন উনাকে আমি বলেছিলাম নিঃসন্দেহে আমার মনে হয়েছে বলেই আমি জার্মানিতে বসে আপনার টেলিফোন নাম্বার যোগাড় করে ফোন করেছি। তখন উনি বেফাঁস কিছু বলে ফেলার ভয়েই হোক আর সঠিক উত্তর না থাকার কারণেই হোক বললেন আমি একটা মোবাইল কোর্টে আছি আপনি বরং পরে ফোন করেন। সেদিন ছিল ৩০শে ডিসেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে দশটা, খোঁজ নিয়ে জেনেছি এ সময় কোন মোবাইল কোর্ট ছিল না। তাছাড়া একজন বিচারকের মোবাইল কোর্ট চলা অবস্থায় টেলিফোন ধরা খুবই অশোভন বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।