ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

বই পড়ার উদ্দেশ্য এবং না পড়ার উদ্দেশ্য এক হবে, যখন পাঠক সমাজ আর শিক্ষার্থীরা বই পড়বে শুধুমাত্ত বিনোদনের জন্য, না হয় অলস সময়ে বা ভাল ফলাফল করে জীবনে উচ্চপদে চাকরী করার জন্য।
আজকাল খবরের কাগজে বা টেলিভিশনে শিক্ষাজীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ন পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভাল ফলাফল অর্জনকারীদের আনন্দে আন্দোলিত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। হাজার হাজার শিক্ষার্থী জি.পি.এ. ৫ অর্জন করে।

এখন প্রশ্ন হলো এই হাজার হাজার জি.পি.এ. ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কি শুধু ভালো ফলাফল করার উদ্দেশ্যই পড়াশোনা করে ? এই প্রশ্নের আলোচনা বা সমালোচনায় আমি, আপনে, কেউ করতে পারবোনা। কারন বাস্তবতা বলে একটা কথা আছে, এই বাস্তবতার কাছে সকল নৈতিকতা, আদর্শ মুখ থুবড়ে পড়ে।

এই বাস্তবতার জন্যই – আমরা পড়াশোনা করি, খুব ভাল ফলাফল অর্জন করি, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, বড় বড় পদবী নিয়ে বড় বড় পদে চাকরী করি। আর এই ব্যক্তিটি যখন তুচ্ছ সামান্য বিষয় নিয়ে একজন রিক্সাওয়ালাকে থাপড় মাড়ে, তখন রাস্তার পাশে দাঁড়ানো অন্য রিক্সাওয়ালা আর আপনার মাঝে কোন পার্থক্য আপনি হয়তো দেখতে পারবেননা। কিন্তু আপনি যে কখনই বই পড়ে আপনার ভিতরটাকে আলোকিত করতে পারেননি – এ কথা অস্বীকার করতে আপনার কষ্ট হবে।

সুতরাং বই পড়ার উদ্দেশ্য শুধমাত্র বিদ্যা আর জ্ঞান অর্জন হতে পারেনা, নিজের ভিতরের মনুষ্যত্বকে আলোকিত করাই বই পড়ার মূল উদ্দেশ্য হতে পারে।

আমাদের বর্তমান সমাজে যে গণতন্র চর্চার কথা বলা হয়, এই গণতন্র চর্চার ভাষা কোন পাঠ্যপুস্তকে লিপিবদ্ধ আছে আমার জানা নেই। সুতরাং এই ভুল গণতন্র চর্চা করা থেকে আমরা কী বলতে পারিনা, এই রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা নিয়োজিত তারাও একদিন বই পড়েছে শুধুমাত্ত পড়াশোনা করার জন্য আর এই গণতন্র’র সঙ্গা পরীক্ষায় লিখে পাস করে রাজনীতি করার জন্য। গণতন্র’র সঙ্গা হয়তো তারা বুঝেছিল কিন্তু বাস্তবতার জন্য হয়তো উপলব্ধি করে ভিতরের মনুষ্যত্বকে জাগাতে পারেনি।

আজ শিক্ষা এবং বই পড়ার যে উদ্দেশ্য প্রচলিত হয়েছে তা গ্রহন না করে ভিন্নভাবে গ্রহন করাই আমাদের দায়িত্ব। দেশের ৪০ বছরের সামনে দাঁড়িয়ে সবাই বদলে যাওয়ার কথা বলে, কিন্তু কেউ বদলেও যাচ্ছেনা আবার পরিবর্তনকে গ্রহনও করতে চাইছেনা।

লেখক – মহাম্মাদ মন আলমাজি