ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

আমি এই লেখাটি কবীর সাহেবের “মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর সাদাসিধে কথা” এর পরিপ্রেক্ষিতে লিখছি

সত্য কথা বলতে, যতক্ষণ নিজের জীবনের সাথে খারাপ কোনো অভিজ্ঞতা না ঘটে ততক্ষণ মানুষ কোনো কিছুর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়না । ইলিয়াস কাঞ্চনের কথাটাই ধরুন না । তিনি সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার হয়েছেন যখন সড়ক দুর্ঘটনায় তার ফুলের মতো নিষ্পাপ বাচ্চা আর স্ত্রী মারা যায় ।

আসলে সড়ক দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয় । আমি আমার জন্মের পর থেকেই সড়ক দুর্ঘটনার কথা শুনে এসেছি । কিন্তু কিছুদিন আগে পর্যন্তও মিডিয়া বা সুশীল সমাজ বা বুদ্ধিজীবী কাউকে এই নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে দেখিনি । কিন্ত যখন তারেক মাসুদ ও মীশুক মুনীর মারা গেলেন তখন থেকে মিডিয়া ও সুশীল সমাজ এর বিরুদ্ধে খুবই সোচ্চার হয় । আজ শুধুমাত্র মিডিয়া ও সুশীল সমাজের জোরালো ভূমিকার কারণে সরকার অনেক চাপের মধ্যে রয়েছে । মিডিয়া ও সুশীল সমাজের এরকম ভূমিকার কারন হল, তারেক মাসুদ ও মীশুক মূনীর মিডিয়ার ব্যক্তি । অথচ মিডিয়া ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের এই বিষয়টি নিয়ে অনেক আগেই সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল । হইতো বা মিডিয়া ও সুশীল সমাজ যদি এই ব্যাপারে অনেক আগে থেকে সোচ্চার হত তবে তারেক মাসুদ ও মীশুক মুনীর আজ বেঁচে থাকতেন ।

আমাদের দেশে যে পরিমান সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে তাতে মিডিয়া বা সচেতন ব্যক্তি বা সরকার প্রত্যেকের এটি বন্ধ করার জন্য কোনো না কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত ছিল অনেক আগেই । কিন্তু সময় থাকতে এটা নিয়ে আমরা কোন মাথা ঘামায়নি । তাই আজ যে যাই বলুক না কেন আমি মনে করি তারকে মাসুদ বা মীশুক মুনীরের চলে যাওয়ার জন্য আমরা পুরো জাতি দায়ী ।