ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

অনুষ্ঠান স্পন্সর বা বিজ্ঞাপন নিয়ে কথা কম হয়নি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এবারের ঈদেও বিজ্ঞাপনের জ্বালায় অতিষ্ঠ ছিলাম। দুই মিনিট অনুষ্ঠান দেখায় তো বিশ মিনিট বিজ্ঞাপন দেখায়। নাটক চলার সময়ই বেশি ঘটছে এই ঘটনা। আমি বুঝি না, টিভি কি শুধু আমাগো দ্যাশেই আছে না-কি! বিদেশের কোনো চ্যানেলে একটু চোখ ফিরালেই তো হয়! আমাদের মা-বোনদের যে আমরা গালি দিই স্টার জলসা দেখার জন্য, কিন্তু এই ঈদের ছুটিতে আমি নিজেও দেখছি রীতিমতো পরান ভইরা। ওরাও বিজ্ঞাপন দেয় কিন্তু আমাদের মতো আহাম্মকের মতো না। আর আমাদের মাশাআল্লাহ কিছু বিজ্ঞাপন তো আছে দেখলে এক্কেবারে বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ দিতে মন চায়। এর মধ্যে একটা আছে সম্ভবত প্রাণ নুডুলসের। এক পাগল দুই মাইয়ারে জানালা দিয়া জিগায় আর মাথা চুলকায়… প্রাণ নুডুলস কী? আর আমার এক ফেসবুক বান্ধবী আছেন তার নাম বলছি না, তিনি এক বিজ্ঞাপনে জিজ্ঞেস করেন, হ-র-লি-ক্স! মুখের এক্সপ্রেসন এমন, মনে হয় তিনি জীবনেও হরলিক্সের নাম শুনেন নাই। জীবনে খানও নাই। আল্লাহ তারে হেফাজত করুন। কেডা যে বানায় এমন বিজ্ঞাপন।

অন্যদিকে আবার এই ঈদে নতুন একটা ঢং চোখে পড়লো নির্মাতাদের। ছয় পর্বের ধারাবাহিক! আরে মিয়া মানুষ একটাই ভালোভাবে দেখতে পারে না বিজ্ঞাপনের জ্বালায় আর আপনি নিয়া আইছেন ছয় পর্বের নাটক! মানে আরও বেশি ধান্দা! আপনাগো এই জ্বালার চোটে আমি এই ঈদের ছুটিতেও কাজ করতে বাধ্য হইছি। ভাবছিলাম শুধু টিভি নিয়েই থাকবো। কিন্তু বিজ্ঞাপনের জ্বালায় মনটাই বিগড়ে গেলো। শেষপর্যন্ত আমার সাইট দুইডার আরও যত্ম নিছি। অলমিডিয়ালিঙ্কটার কিছু কাজ করছি। আর বার্তাবাংলায় কিছু নতুন ফিচার যুক্ত করছি। তাও মনে শান্তি পাইছি যে, বিজ্ঞাপনের জ্বালা থেকে বাঁচছি। ভাগ্যিস আমার ল্যাপটপটা সচল ছিলো।