ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

সম্প্রতি সরকার গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ জারি করে ব্যাংকটির জনক অধ্যাপক ইউনূস সাহেবকে এর প্রধানের পদ থেকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে যতদূর জানি বয়সের বাধ্যবাধকতার কারনে তাকে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন সরকার যে এই কাজটি করল, তা কি গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রাতিষ্ঠানিকতাকে সবল করবে, না কি বিশ্ব নন্দিত এই ব্যাঙ্কটির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে?

সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করেই সমস্যার সমাধান করতে পারতো। এতে করে এই প্রতিষ্ঠানের উপর সরকারের অপ্রয়োজনীয় খবরদারির কোন প্রয়োজন হতো না। প্রতিষ্ঠানের সাবলিল গতি অব্যাহত থাকতো। এখন অবস্থা এমন দাড়িয়েছে, ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসবে, তারাই গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা চালাবে। এমন কি কোনদিন যদি জামাত ক্ষমতায় আসে, তারা এই ব্যাঙ্কটিকে ‘ইসলামী মজদুর ব্যাঙ্ক’ বানিয়ে ছাড়বে। আমাদের অতীতে আওয়ামী লীগ বাকশাল কায়েম করেছিল, প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে। কিন্তু এটি দেশের জন্য যেমন সুফল বয়ে আনেনি। দলটির জন্যও নয়। মাত্র তিন শতাংশের মালিকানা নিয়ে সরকার যে বাকি ৯৭ শতাংশের উপর এই একনায়কত্ব চাপিয়ে দিল, এর পরিণাম কখনো শুভ হতে পারে না।

আমাদের দেশে প্রগতিশীল নামধারী পেছনের কাতারের কিছু ছাপোষা বুদ্ধিজীবী সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে পত্রিকায় দেখেছি। এই ব্লগেও কিছু কিছু আল্ট্রা পিঙ্ক রেভ্যুলিউশনারি ইউনূস সাহেবকে জন্মের শত্রু মনে করে। আমাদের মনে রাখতে হবে- গ্রামীণ ব্যাঙ্ক যেমন লক্ষ লক্ষ বেনিফিসিয়ারি সৃষ্টি করেছে, তেমনি ঋণ খেলাফি কিছু জন্ম শত্রুও সৃষ্টি করেছে। গ্রামীণে কাজ করে অন্তত আট লাখ কর্মকর্তা কর্মচারী। আমরা চাই- ইউনূস সাহেবকে সরকার যেন বহাল তবিয়তে তার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনে।

স্বাধীনতার পর থেকে আমরা কেবল ভেঙ্গেছি। কিন্তু আমরা কখনো জোড়া লাগাতে পারিনি। স্লোগান তুলে, দল বেঁধে ভেঙ্গে ফেলা খুব সহজ। কিন্তু জোড়া লাগানো খুব কঠিন কাজ। তাই সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, ধ্বংস করার আগেই গ্রামীণের প্রাতিষ্ঠানিকতাকে সম্মান করুন।

এটি এই ব্লগে আমার প্রথম পোস্ট। আগে সামহোয়্যার ব্লগে লেখতাম। বছর দুয়েক পর আবার লেখা শুরু করেছি। অনুগ্রহ করে গালিগালাজের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। গালিগালাজ কোন সুস্থ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ নয়। ভালো লাগলে উতসাহ যোগাবেন। ধন্যবাদ