ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 


প্রতিদিন কতজন নারী পাশবিক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে বা কত জনের বিচার হচ্ছে তা জেনে কার কি লাভ।যারা তাদের বোন কে ভালবাসে আমার এ লেখা শুধু তাদের জন্য। আমার বোন স্কুলের বাকি দশটা মেয়ের মত সহজ সরল। আমার বোনকে তিন দিন আটকে রেখে যে নির্যাতন করা হয়েছে তা বর্ণনা করার কোন প্রয়োজন নাই।যখন আমার বোনের কোন খুঁজ পাওয়া যাচ্ছিলনা তখন থেকে লোক লজ্জায় মরে যাচ্ছিলাম।লোকজন বলাবলি করছিল প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গেছে হয়ত ।ভাই হিসেবে এই অপবাদ সহ্য করা অনেক অপমানজনক কিন্তু যখন বোনের খোঁজ পেলাম তখন হয়ে গেলাম ধর্ষিতার ভাই।কেউ আর ছি! ছি! বলে না ।কারণ আমার বোনের কোন দোষ ছিল না। আমার চোখ দুটি অন্ধ হয়ে গেল।আমার মাথা নিচু হয়ে গেল।আমি আর মাথা উঁচু করে কারু চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পাড়ি না।লজ্জা অপমান আমকে গ্রাস করে ফেলেছে। জীবনের প্রতি চলে এসেছ ঘৃণা ।যখন লিখছি চোখের জলের কারণে কি বোর্ডের অক্ষর গোলো অস্পষ্ট লাগছে।চোখের জল মোছতে মোছতে লিখছি ।আমার বোন ধর্ষিত হয়েছে, তা আজ পত্রিকা টেলিভিশনের শিরোনাম,দেশ বিদেশের মানুষ যে যেভাবে পারে ঘৃণা প্রকাশ করছে ।যে যাই বলুক যা যাই করুক আমার বোনের সুন্দর জীবন কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবেনা ।এই পৃথিবীর কারো সাধ্য নাই আমার বোনকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ।যত দিন বেঁচে থাকবে ততদিন সে নরপশুদের অট্ট হাসি ভুলতে পারবে না । এই কষ্ট ভাই হয়ে আমি কেমন করে সহ্য করব?
আজ দেশ বাসিকে আমি বলতে চাই ,ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যাডে যা মেয়েটি মৃত্যুর প্রহর গুনছে ,সে কি শুধু আমারই বোন ?না ! সে বাংলার প্রতিটি তরুণের বোন । প্রতিটি বাবার মেয়ে। প্রতিটি মায়ের বুকের মানিক । আমার বোন একা ধর্ষিত হয় নাই, ধর্ষিত হয়েছে বাংলার প্রতিটি বোন, বাংলার প্রতিটি ভাই আজ ধর্ষিতার ভাই। দয়া করে তার কষ্টটা এক বার নিজের করে দেখুন তাহলে আর ঘরে বসে থকতে পারবেন না । আমার বোনের ধর্ষণকারীদের শাস্তি চেয়ে সংসদ ভবনের সামনে অনেক সম্মানী ব্যক্তিরা হাতে হাত রেখে এক সাথে দাঁড়িয়েছেন । সবাইকে ধন্যবাদ জানাই এবং অনুরুধ করব এখানেই যেন শেষ না হয়ে যায় সব কিছু। আমরা জানি বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচার কি হয় ,কেমন করে হ্য়,কি ভাবে হয় । ধর্ষণকারীর বিচারের জন্য আমি কান্না করছি না, আমার পরিবারের যা ক্ষতি হয়ে গেছে তা কোনদিন পূরণীয় নয় । হে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ,হে আমার শিক্ষিত,ভদ্র সমাজের বাবা মা ভাই বোনেরা আপনারা ভুলে যাবেন না আমার বোনটি বাংলাদেশের শেষ ধর্ষিতা নয় ! যদি আজকে প্রতীবাদের প্রাচীর না ঘড়ে তুলেন দেখবেন আমার এই আর্তনাদ একদিন আপনাকেও করতে হতে পারে। আপনারা কি ততদিন অপেক্ষা করবেন যতদিন না পর্যন্ত আপনার বোনটি ধর্ষিত না হয় ! ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড । তাতে কি হয় ,শুধু মাত্র একটা প্রাণ হরণ করা হয় । নির্জন কক্ষে মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে কখনো মানুষের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয় না। সৌদি আরবে প্রকাশ্যে শিরচ্চেদ করা হয় বলে মানুষের মাঝে পুশুত্য জাগ্রত কম হয় । আমি আমার বোনের ধর্ষণকারীর প্রকাশ্যে বিচার চাই,এই দাবি শুধু আমার নয় ,বাংলার কোটি বাঙ্গালীর, তাদের মৃত্যর পূর্বে আরেকটি মৃত্যু চাই । এমন দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই যা দেখে বাংলাদেশে পরবর্তীতে কোন মানুষ সহজে জানোয়ারে পরিণত না হয় । একজনকে ক্ষুধার্ত বাঘের খাঁচায় নিক্ষেপ করা হউক। একজনকে রাজপথে ক্রেনে ঝুলিয়ে সারা শহরে ঘোরানো হউক যাতে লোকজন বুঝে পরবর্তীতে এমন শাস্তি তারও হতে পারে । আরও ভয়ংকর শাস্তি নির্ধারণ করা হউক। আমি প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং সংসদীয় মহিলা নেত্রীদের বলতে চাই,আপনাদের কি লজ্জা করে না এমন দেশের নারী নেত্রী হয়ে সংসদে বসতে ?কেন পারেন না ধর্ষণকে বাংলার মাটি থেকে নিশ্চিহ্ন করতে ? আপনাদের মা বোনদের আর কত ধর্ষিত হতে দেবেন ?আর কত? জবাব চাই শেখ খাসিনা । জবাব চাই খালেদা জিয়া । যদি না পরেন দেশ ছেড়ে চলে যান। শেখ হাসিনাকে বলছি ,আজকে যে মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে সে যদি আপনার মেয়ে হত আপনি কি করতেন ! চুপ করে থাকবেন না ।আমি নিরীহ প্রজা বলে আমার বুকফাটা আর্থনাধ যদি না শুনেন তাহলে প্রজাদের অভিশাপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন।এই কথা ঐতিহাসিক সত্য । বেগম খালেদা জিয়া কে বলব সারা জীবন দু নেত্রী এক হতে পারেন নাই আজকে আমার বোনকে আপনার মেয়ে মনে করে শেখ হাসিনাকে প্রস্তাব দিন এবং জনতার সাথে এসে নারীমুক্তির পথ চিরতরে সুগম করুন ।ইতিহাস আপনাদের কোনদিন ভোলবে না। পরিশেষে দেশবাসীর কাছে বিনীত প্রার্থনা , আকুল আবেদন আমার বোনের ধর্ষণকারীদের প্রকাশ্য দিবালোকে বিচার না হওয়া পর্যন্ত কেউ চুপ হয়ে যাবেন না ।